1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

এক সভায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর অনেক ‘অপরাধ’

নিউ ইয়র্কে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর করা মন্তব্য শুধু ধর্মপ্রাণ মুসলমান, টক-শো’র বক্তা বা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের আঘাত করেনি৷ দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে তাঁর ‘অপরাধ’ এর চেয়ে অনেক বেশি৷

Abdul Latif Siddiqui

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মতবিনিময় সভায় যা বলেছেন, তার সমস্ত দায়িত্ব তিনি এখনো নিচ্ছেন৷ তাঁর এ বক্তব্য থেকে ধরে নিতেই হয়, হজ, তাবলিগ জামাত, বিভিন্ন টক-শো-র বক্তা এবং একজন সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যা যা বলেছেন, তা খুব বুঝে-শুনেই বলেছেন এবং বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব এবং মর্যাদার কথা মনে রেখে৷

বিবিসি বাংলাকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘‘যা রেকর্ড করা আছে, সেটা ঠিকই আছে৷ আমি ওই কথার ১০০ ভাগ দায়িত্ব নিচ্ছি''৷ সুতরাং এ বিষয়ে নতুন করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি নিজেই অস্বীকার করছেন৷ সেখানে আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ এই নেতা জানিয়েছেন, ‘‘আমি শুধু আমার বিশ্বাসের কথা বলেছি৷ এতে কারো কারো আঘাত লাগতে পারে৷ এবং তারাও আমাকে আঘাত করে মতামত প্রকাশ করছে৷'' এ প্রসঙ্গে তিনটি প্রশ্ন খুব জরুরি৷ এক, একজন মন্ত্রী তর্কাতীত বা প্রমাণিত সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্য সভায় বলতে পারেন কিনা৷ দুই, সেই বিশ্বাসের কথা বলে (তাঁর মতে) ‘কারো কারো' মনেও আঘাত দেয়া ‘দায়িত্বশীল মন্ত্রী'-র দায়িত্বের আওতায় পড়ে কিনা৷ তিন, যদি না পড়ে, তাহলে নিজের বক্তব্যের দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে নিলেই মন্ত্রী হিসেবে দেশের জনগণ এবং সরকারের প্রতি তাঁর দায়-দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় কিনা৷

জনগণের একাংশের প্রতিনিধি হিসেবে দুই ব্যক্তি ইতিমধ্যে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন

এদিকে লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ৷

তবে একজন দায়িত্বরত মন্ত্রী হিসেবে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী যা করেছেন, অব্যাহতি দিলেও তার ‘প্রভাব' শেষ হবার নয়৷

হেফাজতে ইসলাম এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবিতে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে৷ এই সংগঠনের কর্মসূচিতে সারা দেশে কী পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশের মানুষ তা জানে৷ জানা নেই শুধু একটি বিষয়- এক মন্ত্রীর কিছু ‘ব্যক্তিগত' বিশ্বাসের কথা স্বেচ্ছাচারীর মতো প্রকাশের ফল বা কুফল কতটা স্থায়ী বা সুদূরপ্রসারী হবে৷

দুর্গাপূজা চলছে৷ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যগুলোর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে হিন্দুরা এ উৎসব শঙ্কাহীন চিত্তে উদযাপন করতে পারবেন না, তা অনুমান করতেও শুধু বাংলাদেশের নাগরিক হলেই চলে৷ ধর্ম রক্ষার যে কোনো ছুতোয় হিন্দুদের ঘর-বাড়ি এবং মন্দিরে হামলা হরহামেশাই হয়৷ এবার পূজার সময় কিংবা পূজার ঠিক পরেও যদি কোনো মন্দির বা ঘরে হামলা হয়, তার দায়িত্বও কি জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী নেবেন?

তাই শুধু ‘মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে' আঘাত দেননি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রতি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের যেটুকু আস্থা ছিল তা ধসিয়ে দিয়ে হঠাৎ করেই তাঁদের ফেলেছেন নতুন দুর্ভাবনায়৷

নিউ ইয়র্কের এই মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী যে যুক্তিতে তাবলিগ জামাত এবং হজব্রত পালনকারীদের সমালোচনা করেছেন, তিনি কি জানেন, সেই সমালোচনা যদি ঠিকও হয়, তার সমস্ত দায় সরকারের ঘাড়েই চাপে? বাংলাদেশে সবার ধর্ম পালনের অধিকার আছে- তা যদি তিনি স্বীকার করেন, তাহলে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ঠিক রেখে সে অধিকার চর্চার সুব্যবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব৷ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায়ও সরকারের৷ একজন মন্ত্রী সমস্ত দায় তাবলিগ জামাতের ঘাড়ে চাপালেই হবে? এ তো উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো!

যাঁরা হজ করতে যান, মন্ত্রী মহোদয়ের বিবেচনায়, ‘তাঁদের কোনো কাজ নেই৷ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী মহোদয় বোধহয় ভুলে গেছেন, হজ করতে যাওয়া কোনো রাষ্ট্রীয় সফর নয়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে ‘ধার্মিকদের' ব্যক্তিগত সফর৷ এমন সফরের লাভালাভ হিসেব করার আগে তো জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী হিসেবে করা সব রাষ্ট্রীয় সফরের লাভ-ক্ষতির হিসেব দেয়া উচিত৷

সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রীর মন্তব্যে আওয়ামী লীগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলে জানা গেছে৷ এটাকে দলীয় বিষয় হিসেবে দেখা যেতে পারে, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও বিষয়টিকে সেভাবেই নিয়েছেন৷

DW Bengali Redaktion

ব্লগটির লেখক: আশীষ চক্রবর্ত্তী

বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের উচিত বলা এবং উচিত কাজ করার বেলায় অক্ষমতাটা খুব পুরোনো৷ নিউইয়র্কে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এক সাংবাদিককে বললেন, ‘আমি কিন্তু তোমাকে ডাকি নাই৷' তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর কোনো সভায় সাংবাদিকরা ‘দাওয়াত' না পেলে যেতে পারবেন না, গেলে চুপ থাকতে হবে৷ অথচ সাংবাদিকের কাজই সংবাদ সংগ্রহ এবং তা পরিবেশন করা৷ এখনো দায়িত্বে আসীন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে জানতে ইচ্ছে হয়- তিনি কি চান সাংবাদিকরা ঘরে বসে থাকুক?

ঘরেও তো নিরাপত্তা নেই সাংবাদিকদের৷ সাগর-রুনিকে হত্যা করা হলো ঘরে৷ এখনো সে মামলা ঝুলে আছে৷ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার নজির আছে ভুরি ভুরি৷ এক দশকেরও বেশি হলো নিজের অফিসের সামনে চালানো হামলায় প্রাণ গেল একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির বালুর৷ সেই হত্যামামলারও অগ্রগতি নেই৷

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীরা কী চান? সাংবাদিকরা সভা-সমিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাবেনা? কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পাবে না, ঘরেও না! বাহ! এ কি মগের মুল্লুক!!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়