1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এক টুকরো কাপড় দাও, যা মায়ের চোখ মুছবে’

নির্বাচন শেষ৷ মন্ত্রিপরিষদ গঠনও৷ মন্ত্রিপরিষদ আর সরকারের সমালোচনা, প্রশংসা যেমন হচ্ছে, তেমনই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে হিন্দুদের ওপর বীভৎস হামলা নিয়ে৷ এক ব্লগার আন্তরিকতার প্রশ্ন তুলেছেন৷

আমার ব্লগে শাহজাহান পারভেজ রনি তুলে ধরেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো আক্রমণ, উস্কানি ছাড়াই হিন্দুদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানোর বিষয়ে মানবিক কিছু প্রশ্ন৷ তাঁর লেখার শিরোনাম, ‘‘মনিরামপুরের ক্ষত এবং নিরব রাষ্ট্র!''

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মতো যশোরের মনিরামপুরেও হামলা হয়েছে হিন্দুদের ওপর৷ সংবাদমাধ্যমেও এসেছে মনিরামপুরের খবর৷ এমন হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাননি রনি৷ লেখার শুরুতে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘মনিরামপুর আমাদের কী শিখালো বা আমরা মনিরামপুরে কী করলাম! আমরা কি লজ্জায় ডুবেছি একটি বারও? কিংবা লজ্জায় আত্মহত্যা করেছি ক'জন? ক'জন চোখের জল ফেলেছি?''

এ ঘটনায় দেশ নিয়েই তাঁর আক্ষেপ, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির ধর্মের মূল চেতনা বিরোধী নিষ্ঠুরতা ব্যথিত করেছে তাঁকে, হতাশ করেছে৷

Bangladesh Hindus Überfall Jessore

ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সংখ্যালঘুদের অনেকেই...

হতাশা থেকে শাহজাহান পারভেজ রনি লিখেছেন, ‘‘বুঝতে পারছি, আমরা যা চেয়েছিলাম, যা চাই কিংবা যা চাইবো, তা অধরাই থেকে যাবে! কি চেয়েছি – একটা দেশ! চাওয়াটা তা বেশি ছিল না! দু'শো বছরের পরাধীনতার আবর্ত থেকে বের হয়ে কিংবা পঁচিশ বছরের শোষন থেকে মুক্তি লাভ; কী এমন শিক্ষা দিল আমাদের? এর চেয়ে তো প্রাচীন, আদিম হয়ে থাকাই ভালো ছিল!''

বাংলাদেশে এবার হিন্দুদের ওপর বর্বোরোচিত হামলার ঘটনা শাহজাহান পারভেজ রনিকে মনে করিয়ে দিয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আল শামসদের বর্বরতার কথা৷ রনি তাই লিখেছেন, ‘‘তথাকথিত সভ্য দেশে যা দেখলাম বা দেখছি, তা কি ১৯৭১-এর অসভ্যতার রিহার্সেল নয়?''

ব্লগার রনি মনে করেন, ‘‘মনিরামপুর থানা৷ আমার বোন, আমার মা, আমার বধু....যেভাবেই বলি না কেন – তাকে হত্যা করা হলো৷ হত্যা? আমি তো ওটাকে হত্যাই বলবো৷ আমার সভ্যতাকে হত্যা করা হলো, আমার মনকে হত্যা করা হলো, আমার বিশ্বাসকে হত্যা করা হলো, আমার চেতনাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা হলো! আমার মায়ের লজ্জা হরণ করা হলো! আমার কী অবশিষ্ট রইলো আর!''

মায়ের চেয়ে বড় কিছু আর নেই – সবার জানা এই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে আমার ব্লগের এই ব্লগার মাকে তুলনা করেছেন উপাসনালয়ের সাথে৷ তাঁর মতে, ‘‘মা আমার মসজিদ, মা আমার মন্দির, মা আমার গির্জা-প্যাগোডা!''

লেখার শেষ অংশে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের বড় একটা অংশকে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়ে নীরব থাকতে দেখে শাহজাহান পারভেজ রনি লিখেছেন, ‘‘আমাদের বুদ্ধিজীবী, সুশীল নামক বড় টাকওয়ালা, লম্বা বাবরিওয়ালা মানুষগুলো, যারা গোলটেবিল বা লম্বাটেবিল বৈঠকের নামে সেই কলাবাগানের সতীর মতো ধর্মের কথা, ন্যায়ের কথা বলে, তাদের ঘরে যে রমণী, যে মা কিংবা যে কন্যা সারাটা সময় মমতার চাদরে আবৃত করে রাখে সংসার নামক একটি জীবন ইস্কুল, তাদের মতোই তো মনিরামপুরের সেই মা; সেই নারী! তাদের মুখে তো কোনো উচ্চবাচ্য শুনি না! তাহলে কি ধরে নেব, একাত্তর তাদের কিছই শেখায়নি! নাকি মেনি মুখো কুকুর হয়ে যায় যখন এসব ঘটে যায় কোনো এক সেমিনারের ফাঁকে! এ দেশের সকল শিশু হবে পাক পাকিস্তানের, এ জমিন করে দিয়ে যাবে পাকিস্তানের বীজে উর্বর – এ কথাগুলো বিস্মৃত হওয়ার কথা ছিল, কারণ ওরা নেই! তাহলে আজও কেন এ পবিত্র রক্তে ভেজা মাটিতে হিংস্রতার,আদিমতার বুনো কর্ষণ!''

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর পাকিস্তানি কৌশল উল্লেখ করে রনি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘আমরা কি এখনো চার-পেয়ো জানোয়ার হয়েই আছি? আমরা কি পাক-সার জমিন সাদ-বাদ বুকে তুলে নিচ্ছি? এ দেশ কোন পথে এগিয়ে যাচ্ছে? রাষ্ট্র কি আমাদেরই আছে, নাকি....রাষ্ট্র এখন চার পেয়োদের গোয়াল ঘর....?''

সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্রমাগত শক্তি প্রদর্শন রোধে ইতি টানার দাবিও জানিয়েছেন শাহজাহান পারভেজ রনি৷ তাঁর সন্তানের জন্য দেশ আর বাসপোযোগী থাকছে না – এই বিশ্বাস থেকে রনি দাবি করেছেন, ‘‘আমাকে এক টুকরো কাপড় দাও, যে কাপড় আমার মায়ের চোখ মুছবে, যে কাপড় আামার বোনের লজ্জা ঢাকবে! আমি বাঙালি, আমি জয় বাংলার লোক – এ কথা বললেই আমাকে মেরে ফেলা হবে না; গ্যারান্টি চাই৷ ভোট দিয়ে ....সিক্ত হবে না আমার মা, আমার বোন – এ নিশ্চয়তা চাই৷''

আমার ব্লগের এই ব্লগার লেখাটি শেষ করেছেন স্বপ্ন দিয়ে, তিনি লিখেছেন, ‘‘এ রাষ্ট্রকে আমরা আবার ঢেলে সাজাবো, আমার মা আবার হাসবে, আমার বোনের শরীরের ক্ষত শুকিয়ে চেতনার আবরণ আসবে তার বুকে৷ আমার কাবা, আমার মন্দির, আমার মসজিদ আবার জেগে উঠবে৷ এমন সংবিধান আনবো যে সংবিধান দেবে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা৷ এ ঘুণেধরা সমাজ বদলে দেবো আমরাই, কারণ আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ!''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন