1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

এক ঝলকে কোকো শ্যানেল

আজকের ফ্যাশন জগত কোকো শ্যানেল ছাড়া কিরকম হতো, তা ভাবাই যায় না৷ অসংখ্য ‘ছোট্ট কালো’ ডিজাইন করেছেন তিনি৷ বিশ্বখ্যাত অনেক ব্যক্তি তাঁর কস্টিউম পরেছেন৷ হামবুর্গের একটি প্রদর্শনীতে এ ব্যাপারে খানিকটা ধারণা পাওয়া যাবে৷

আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না কোকো শ্যানেলের৷ ‘‘এই পোশাক রুচিশীল সব মেয়ের জন্য এক ধরনের ইউনিফর্ম হবে৷'' সেই ১৯২৬ সালে ফ্রেঞ্চ ফ্যাশান স্রষ্টা কোকো শ্যানেল মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ'-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন৷ তাঁর বিখ্যাত ‘ছোট্ট কালো' পোশাকটি সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন তিনি৷ আজও মেয়েদের কাপড়ের আলমারিতে নানা ডিজাইনে দেখা যায় এই পোশাক৷

নিজে উদ্ভাবন করেননি

এই ‘ছোট্ট কালোকে' কোকো নিজে উদ্ভাবন না করলেও এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন৷

Ausstellung Mythos Chanel Alex Katz

‘ছোট্ট কালো' পোশাক

খোলামেলা কাটছাঁটের কালো রঙের এই পোশাকটি সমাজের এক ট্যাবু ভেঙেছে৷ তার আগে মেয়েরা রেখে ঢেকেই পোশাক পরতেন আর কালো পরিচারকদের রং বলেই পরিচিত ছিল৷

ভোগ ম্যাগাজিনও কোকোর সুরে সুর মিলিয়ে লিখেছে, ‘‘এই পোশাক একদিন সারা বিশ্বই পরবে৷''

বাস্তবিকই বিশ্বের নানা দেশের মেয়েরা শ্যানেলের পোশাক পরা শুরু করেন৷ কোকোর ডিজাইন করা কস্টিউম, হাতব্যাগ, অলঙ্কার ইত্যাদিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷ আর এসবে তৃপ্ত না হলে শ্যানেলের বিখ্যাত পারফিউম শ্যানেল ৫-এর দিকে হাত বাড়ান অনেকে৷ কোকো শ্যানেলের সৃষ্টিকর্ম আজও জনপ্রিয়তা হারায়নি৷

Ausstellung Mythos Chanel Man Ray

এই হলেন কোকো শ্যানেল

শ্যানেলের মিথ

‘শ্যানেলের মিথ' নিয়ে হামবুর্গের চারু ও কারু শিল্পের মিউজিয়ামে একটি প্রদর্শনী ‘এক বিন্দু শ্যানেল' শুরু হয়েছে এই বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি৷ চলবে ১৮ই মে পর্যন্ত৷

কোকো শ্যানেলের ৭০টি সামগ্রী স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে৷ এছাড়া রয়েছে বেশ কয়েকজন ফ্যাশনশিল্পীর শিল্পসামগ্রীও৷ যাঁরা শ্যানেলের সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ডিজাইন করেছেন৷

প্রকৃত নাম গাব্রিয়েলে শ্যানেল৷ জন্ম ১৮৮৩ সালে৷ তবে সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম হয়নি তাঁর৷ ১৮৯৫ সালে মায়ের মৃত্যুর পর অনাথ আশ্রমে জায়গা হয় কোকোর৷ সেখানে তিনি সেই দক্ষতা আয়ত্ত করেন, যা তাঁকে বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছে, আর তা হলো সেলাই৷ এক ক্যাফেতে গায়িকা হিসাবে উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর নামের সঙ্গে কোকো যুক্ত হয়৷ তবে সংগীতের চেয়ে ফ্যাশনের প্রতিই তাঁর অনুরাগ বাড়তে থাকে৷

প্রথম বড় পদক্ষেপ

ফ্যাশন জগতে প্রথম বড় পদক্ষেপটি রাখেন তিনি ১৯১০ সালে৷ প্যারিসে একটি হ্যাটের দোকান খোলেন কোকো৷ ১৯১৩ সালে খোলেন একটি বুটিকের দোকান৷

Ausstellung Mythos Chanel Kostüm

শ্যানেলের ডিজাইন করা ষাটের দশকের একটি পোশাক

এর দুই বছর পর স্থাপন করেন গোটা একটি ফ্যাশন হাউস৷ ১৯২০-এর দশকে ফ্যাশন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম৷ কোকোর ‘ছোট্ট কালোর' জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে৷ আর এনে দেয় ফ্যাশন স্রষ্টা এই নারীর জন্য আর্থিক নিরাপত্তাও৷

প্রশ্ন জাগতে পারে, শ্যানেলের সৃষ্টিকর্ম খদ্দেরদের কাছে এত আদৃত হলো কেন? উত্তরটি উঠে আসে শ্যানেলের এক মন্তব্য থেকেই: ‘‘আমি নারীদেহকে আবার মুক্তি দিয়েছি৷''

১৯২০-এর দশকে মেয়েরা পোশাকে আশাকে খোলামেলা হতে শুরু করেন৷ ছড়িয়ে দেন আত্মবিশ্বাসের দ্যুতি৷ কাঁচুলি ও কটিবন্ধকে অতীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

যুগের আস্বাদ

শ্যানেল মেয়েদের আকাঙ্খা ও যুগের আস্বাদটা ধরতে পেরেছিলেন৷ সহজ ও চমৎকার, আরামদায়ক ও রুচিশীল ছিল তাঁর ডিজাইন৷

‘পোশাকই মানুষ তৈরি করে' – এই প্রবাদবাক্যের প্রতিফলন দেখা যায় ১৯২০ সালের ‘নতুন নারীর' নতুন ডিজাইনের ভূষণে৷

Bildergalerie Karl Lagerfeld 80 19.11.2008 in Paris

জার্মান ফ্যাশন ডিজাইনার কার্ল লাগারফেল্ড

আর এতে শ্যানেলের যে একটা বড় ভূমিকা ছিল তা বলাই বাহুল্য৷ যুদ্ধ পুর্ববর্তী সমাজের চিত্র অনেকটাই বদলে দেন সেসময়ের নারীরা৷ স্কার্টের ঝুল গোড়ালি থেকে উঠে আসে হাঁটুর সামান্য নীচে৷ অবশ্য কোকো শ্যানেল নিজে ট্রাউজার্স পরতেই পছন্দ করতেন৷

মৃত্যুর পরও মুছে যায়নি

১৯৭১ সালে ফ্যাশন জগতের আইকন কোকো শ্যানেলের মৃত্যুর পরও তাঁর মিথ মুছে যায়নি৷ প্রথম দিকে কিছুটা হোঁচট খেলেও আবার ঘুরে দাঁড়ায় শ্যানেলের ফ্যাশন হাউস৷ ১৯৮৩ সালে জার্মান ফ্যাশন ডিজাইনার কার্ল লাগারফেল্ড পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে ভবনটি৷ লাগারফেল্ড তাঁর ডিজাইনে প্রতিষ্ঠাতার আইডিয়া থেকেও সংযোজন করতে থাকেন৷ বিশেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনার কোকো শ্যানেলের সেই কথাটি হৃদয়ঙ্গম করেছেন তিনি: ভালো কাটছাঁটের একটি পোশাক সব মেয়েকেই মানাবে৷''