1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

এক্সট্রিম স্পোর্টস বা ‘চরম’ খেলাধুলার ঝুঁকিও চূড়ান্ত

ধরা যাক বেস জাম্পিং কিংবা উইংস্যুট ফ্লাইং – অর্থাৎ প্যারাশুট নিয়ে উঁচু পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়া, কিংবা বার্ডম্যান স্যুট পরে বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে ঝাঁপ খাওয়া৷ এ দু’টি ‘স্পোর্ট’-এ প্রতিবছর ২০ জন করে অনুরাগী প্রাণ হারান৷

২০০০ সাল অবধি বাঙ্গি জাম্পিং আর ডেল্টা প্লেন গ্লাইডিং ছিল রোমাঞ্চের পরাকাষ্ঠা৷ কিন্তু তার পরে সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থান এক্সট্রিম স্পোর্টকে ‘এক্সট্রিম এক্সপোজার' দিয়েছে এবং আরো বেশি এক্সট্রিম করে তুলেছে৷ মানে আজকাল লোকজন যে শুধু এই ধরনের চরম বা চূড়ান্ত স্পোর্ট কিংবা গতিবিধিতে সংশ্লিষ্ট হন, শুধু তাই নয় – সেই সব কায়দা-কসরত-কেরামতির ভিডিও ইন্টারনেটে পোস্ট করতে ভোলেন না৷

যার অর্থ: এর আগের ভিডিও-টিতে রোমহর্ষক যা কিছু ছিল, তোমার নিজের ভিডিও তার চেয়ে বেশি রোমহর্ষক হতে হবে৷ এবং বিপদটা সেখানেই৷

আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে হবে এই ‘চরম' খেলাধুলোকে৷ বছরে ২০ জন করে রোমাঞ্চের সন্ধানী প্রাণ হারাচ্ছেন বেস জাম্পিং কিংবা উইংস্যুট ডাইভিং করতে গিয়ে৷ সবচেয়ে বেশি এক্সট্রিম স্পোর্টসম্যান প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইজারল্যান্ডে: নব্বই-এর দশক যাবৎ মোট ৫০ জন৷ নিহতদের মধ্যে সেলিব্রিটিরাও আছেন, যেমন ব্রিটিশ স্টান্টসম্যান মার্ক সাটন, যিনি ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেমস বন্ড সেজে প্যারাশুট থেকে নেমেছিলেন – সেই মার্ক সাটন-ই আবার ২০১৩ সালের অগাস্ট মাসে সুইজারল্যান্ডে হেলিকপ্টার থেকে উইংস্যুট ডাইভিং করতে গিয়ে প্রাণ হারান৷

বেস জাম্পিং এবং উইংস্যুট ডাইভিং-এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে হাইলাইনিং, যা কিনা অতীব উচ্চতায় তারের খেলার অপভ্রংশ৷ কিন্তু সব ক'টি ‘খেলা'-রই উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন জীবনের থোড়-বড়ি-খাড়াতে হঠাৎ লঙ্কার ঝাঁঝ এনে দেওয়া – এক কথায় অ্যাড্রেনালিন বাড়িয়ে দেওয়া৷ আর তা-তে পয়সাও তো বেশি লাগে না: শ'চারেক ইউরোতেই উইংস্যুট কিনতে পাওয়া যায়; ট্রেনিং কোর্স নিতে আরো হাজার দু'য়েক৷ মুশকিলটা অন্য জায়গায়৷

বলতে কি, ঘোড়ায় চড়া, স্কি খেলা, জিমন্যাস্টিক্স, ফর্মুলা ওয়ান মোটর ড্রাইভিং কিংবা মোটরসাইকেল রেস – এ সব কিছুতেই প্রাণের ঝুঁকি আছে৷

কিন্তু ঐ সব ‘স্পোর্ট' বা ক্রীড়া কিংবা খেলাধুলায় ঝুঁকিটা বাড়ে আস্তে আস্তে, খেলোয়াড়রাও ধীরে ধীরে ট্রেনিং পান এবং অভ্যস্থ হয়ে ওঠেন৷ এক্সট্রিম স্পোর্টের মজা হলো: এখানে শিক্ষানবিশি বলে কিছু নেই৷ প্রথমবার বেস জাম্প করার সময় থেকেই সেই জাম্প প্রাণের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে৷

একমাত্র আশার কথা: এক্সট্রিম স্পোর্টের ঝানু খেলোয়াড়রা অথবা মাতব্বররা সাধারণত ঠান্ডা মাথার মানুষ হন, সব কিছু সযত্নে এবং আগে থেকে পরিকল্পনা করেন, প্রতিটি খুঁটিনাটির দিকে নজর রাখেন৷ অর্থাৎ তাঁরা ঝোঁকের মাথায় অকারণ ঝুঁকি নেন না৷ সেটা করে তাঁরাই, যাঁরা সদ্য শুরু করেছেন৷

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন