1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

একেই বলে ‘ওয়াল অফ ডেথ’ বা মরণকূপ

দেশে বলে মরণকূপ, ইংল্যান্ডে ওয়াল অফ ডেথ৷ তেলের পিপের আকৃতির কাঠের কুয়োটিতে মোটরসাইকেলে চড়ে চক্কর দেবে এক বা একাধিক আরোহী৷ মেলা বা সার্কাসের পুরনো খেল, ইউরোপেও আজ পর্যন্ত যার চল৷

ভিডিও দেখুন 04:30

মোটর সাইকেলে খেলা দেখান তিনি ও তাঁর ছেলে

দেশের মেলা কিংবা সার্কাসেও হয়ত দেখে থাকতে পারেন৷ সেখানে এর নাম মরণকূপ৷ ইংরেজিতে ওয়াল অফ ডেথ, অর্থাৎ মরণের দেয়াল৷ কুয়োর আকৃতির সেই দেয়াল বেয়ে কাত হয়ে ঘুরছে মোটরসাইকেল৷

ডেভ সিমুর পরিচিত ‘ডিনামাইট ডেভ' নামে৷ তিনি আর তাঁর ছেলে ডিউক এই মরণকূপকেই তাদের পেশা করেছেন, নাম রেখেছেন ডেমন ড্রোম, অর্থাৎ শয়তানের ঘাঁটি৷ খাড়া দেয়ালের গায়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে মোটরসাইকেল চালালে শরীরের উপর মাধ্যাকর্ষণের পাঁচগুণ বেশি চাপ পড়ে৷ ডেভ বলেন, ‘‘দেখতে সোজা মনে হলেও, কাজটা সোজা নয়৷ জোরে চালালে প্রথমেই বোঝা যায়, রক্তটা মাথার দিক থেকে পায়ে গিয়ে জমা হচ্ছে৷ আরো বেশি জোরে চালালে চোখে সর্ষেফুল দেখতে হয়৷'' ডিউক সিমুর যোগ করলেন, ‘‘টানেল ভিশন হয়, যেন সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে দেখছি৷ যেন জুম করা হচ্ছে৷ ভালো ব্যাপার নয়৷ আবার বড্ড স্লো চালালে পড়ে যাবার ভয় থাকে৷’’

সিমুর পরিবার প্রতিবছর গোটা ইউরোপ জুড়ে সফর করেন৷ এবার তারা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গুডউড রিভাইভাল শো নামের ওল্ডটাইমার ফেস্টিভালে তাঁবু গেড়েছেন৷ মরণকূপ খেলাটির জন্ম ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে৷ গোড়ায় হতো সাইকেলে চড়ে! গত শতাব্দীর বিশের দশকে সাইকেলের বদলে মোটর সাইকেল ব্যবহার শুরু হয়৷ তারপর ওয়াল অফ ডেথ খেলাটা ক্রমেই আরো বেশি পিলে-চমকানো হতে থাকে৷ ত্রিশের দশকে ইউরোপে প্রায় শ'খানেক ওয়াল অফ ডেথ মানুষের মনোরঞ্জন করছিল৷

দন্তহীন সিংহ?

ডেভ সিমুর জানালেন, ‘‘ওয়াল অফ ডেথ-এর সংখ্যা বাড়ে, কাজেই প্রতিযোগীদের চেয়ে আরো ভালো শো দেখাতে হবে, আরো বিপজ্জনক সব ক্যায়দা-কেরামতি৷ এমনকি ওরা সিংহ আনাতে শুরু করে৷ তাদের বসিয়ে রাখার জন্য আফিম দেওয়া হতো কিনা কে জানে৷ অধিকাংশ সিংহের দাঁত ছিল না বলেই আমার ধারণা৷''

১৯২৭ সালে তৈরি ডেমন ড্রোম ২০০০ সালে বিক্রি করা হচ্ছিল৷ ডেভ সিমুর শুধু মোটরসাইকেলগুলো কিনতে চেয়েছিলেন, মরণকূপটি সাথে ফ্রি-তে পান৷ ডেভ আর তাঁর ছেলে কিন্তু ইতিমধ্যে সেই মরণকূপের ফ্যান হয়ে পড়েছেন৷ ডিউক সিমুর বললেন, ‘‘১৪ বছর বয়স থেকে এই করছি৷ মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে লোকের দিকে তাকাতে পারি, হাসতে পারি৷'' ডেভ সিমুর যোগ করলেন, ‘‘মোটরসাইকেল চালাতে পারা এক কথা৷ কিন্তু চালাতে চালাতে হাসা, দর্শকদের সাথে কথা বলা, রীতিমতো পারফরমেন্স দেওয়া আরেক কথা৷''

ক্লাইম্যাক্স হলো, ডেভ সিমুর তাঁর কন্যাকে স্টিয়ারিং-এর ওপর বসিয়ে মরণকূপে চক্কর দেবেন৷ রোমহর্ষক খেলা দেখার পর দর্শকরা মরণকূপে পয়সা ছুঁড়ে দেয়, দুর্ঘটনা হলে চিকিৎসার খরচ, কেননা কোনো বীমা কোম্পানি সিমুরদের ইনসিওর করবে না৷ ডেভ আর ডিউক ইতিমধ্যেই একাধিকবার হাত-পা ভেঙেছেন৷ কিন্তু সিমুর পরিবার এই বিপজ্জনক পেশা ছেড়ে দেবার কথা ভাবেন না৷ একটানা নিজেদের কোরিওগ্রাফি বাড়িয়ে চলেছেন তারা৷ স্বহস্তে তৈরি একটি রেসিং কার নিয়ে মরণকূপে চক্কর দেবার পরিকল্পনা আছে, তাই কূপের কাঠের দেয়ালগুলোকে আরো শক্ত করা হয়েছে৷

প্রায় নব্বই বছরের পুরনো ডেমন ড্রোমে ডেভ আর ডিউক সিমুর আজও মোটরসাইকেলে চড়ে চক্কর কেটে চলেছেন...

প্রতিবেদন: গেরহার্ড সনলাইটনার/এসি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়