1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

একুশের চেতনায় বইমেলা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা সাধারণভাবে প্রকাশকদের প্রথাগত বইমেলা নয়৷ এই বইমেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদদের স্মৃতি৷ এর সঙ্গে মিশে আছে বঙালির চেতনা, মাতৃভাষার জন্য আবেগ-ভালোবাসা৷

বইমেলা একাকার হয়ে যায় এই দিনটিতে৷ বাঙালির সাহস, ভালোবাসা এবং প্রতিবাদের প্রতীক এই বইমেলা৷ একুশের ইতিহাস তাই আজও শাসন জুগিয়ে চলেছে লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের৷ জোর করে তাঁদের মুখ বন্ধ করা যায়নি৷

জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সাল আরেফির দীপনকে জঙ্গিরা হত্যা করে ২০১৫ সালের ৩১শে অক্টোবর৷ অপরাধ, ব্লগার ও লেখক ড. অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করতেন তিনি৷ প্রকাশ করতেন মুক্তমনাদের বই৷ কিন্তু তাঁকে হত্যা করেও থামানো যায়নি তাঁর প্রকাশনাকে৷ থামানো যায়নি মুক্তমনাদের বই প্রকাশকেও৷

বর্তমানে সেই প্রকাশনা সংস্থার হাল ধরেছেন তাঁর স্ত্রী রাজিয়া রহমান জলি৷ একুশে বইমেলায় জলির হাত ধরে জাগৃতি প্রকাশনীর বড় স্টল হয়েছে এবার৷ তবে গতবছরও জগৃতির স্টল বাদ পড়েনি৷ দীপন হত্যার তিন মাসের মাথায় বইমেলা হলেও শোক কাটিয়ে দীপনের প্রকাশনা সংস্থার স্টল দিয়েছিলেন স্ত্রী জলি৷

অডিও শুনুন 03:12

‘ব্যক্তি দীপনকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তাঁর কাজ বা বিশ্বাসকে হত্যা করা যায় না'

জলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি চেষ্টা করছি দীপনের কাজকে এগিয়ে নিতে৷ ব্যক্তি দীপনকে হত্যা করা যায়৷ কিন্তু তাঁর কাজ বা বিশ্বাসকে হত্যা করা যায় না৷ আমরা এখনো মুক্তমনা এবং নতুন লেখকেদের বই প্রকাশ করছি৷ এবারো অনেক নতুন বই নিয়ে এসছে বইমেলায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘একুশ যেমন আমাদের একটি শক্তি, তেমনি একুশের বইমেলাও আমাদের শক্তি৷ এই মেলা আমাদের সব ভয় আর শঙ্কা দূর করে দেয়৷''

অমর অকুশের দিনের বইমেলার দিনটি সব সময়ই আলাদা৷ এদিন সকাল আটটা থেকে মেলার গেট খুলে যায়৷ আর শহিদ মিনারের পথ গিয়ে মেশে বইমেলায়৷

মেলার দোকান খোলার পর থেকেই বইপ্রেমী আর ভাষাপ্রেমীরা ভিড় জমান স্টলে৷ মেলায় সকালে সপরিবারে আসেন হাসানুল কাদির৷ তিনি বলেন, ‘‘গত ২০ দিন ধরে বইমেলা চললেও আসিনি৷ তবে আজ সকালে শহিদ মিনারে ফুল দিয়েই সরাসরি বইমেলায় চলে এসছি৷ পছন্দের বই কিনবো৷ সন্তানদের কিনে দেবো৷ ইচ্ছা আছে সারাদিন কাটাবো বইমেলা এবং সংলগ্ন এলাকায়৷'' তিনি বলেন, ‘‘মেলার পরিসর বেড়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজক৷''

এবারের বইমেলার শুরু হওয়ার আগেই দু'টি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়৷ ব-দ্বীপ প্রকাশনের মালিকের মুক্তি দাবি করায় রবিন আহসানের শ্রাবণ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ না দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং বইয়ের ওপর পুলিশের নজরদারির ঘটনা ঘটে৷ প্রতিবাদেও মুখে শ্রাবণ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়৷ কিন্তু পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকে৷ পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘত লাগে এমন বই খুঁজছে মেলায়৷ তবে দু'দিন আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত আমরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো আপত্তিকর বই পাইনি৷''

বইমেলায় এবার চার হজারেরও বেশি নতুন বই প্রকাশের আশা করছেন লেখক-প্রকাশকরা৷ গত বছর নতুন বই প্রকাম হয়েছে সাড়ে তিন হাজার৷ বই বিক্রি হয়েছে ৪০ কোটি টাকারও বেশি৷ এবার যা পরিবেশ, তাতে বই বিক্রি বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 05:20

‘এবারের বইমেলায় নতুন ও তরুণ লেখকদের বই বেশি আসছে’

লেখক শাকুর মজিদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবারের বইমেলার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো নতুন লেখকদের, তরুণ লেখকদের বই বেশি আসছে৷ এর থেকে যদি শতকরা ১০ ভাগও লেখক হিসেবে শেষ পর্যন্ত টিকে যান, তবে তা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যেও জন্য অনেক কাজের হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এবার বইমেলার পরিবেশ ভালো, স্টল বেশি, নতুন বইও বেশি৷ শুরুতে পুলিশের নজরদারি বিতর্কে ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল৷ তবে  তা কেটে গেছে৷ আমি মনে করি ইচ্ছে করেই একটি ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছিল৷''

প্রসঙ্গত, এবারের বইমেলায় প্রায় সাতশ' স্টল আর প্রকাশনা সংস্থা চারশ'রও বেশি৷

অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ সৃজনশীল বই প্রকাশ হয়৷ আর এই বইমেলা একুশের চেতনা থেকে উৎসারিত৷ একুশের আত্মত্যাগের কারণে আজ আমাদের মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রভাষা৷ ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস৷ তারপরও বাংলা তার কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি আজও৷ তাই তো একুশের সকালে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে শহিদ মিনারে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়, স্বীকার করতে হয় ব্যর্থতা৷

তিনি মঙ্গলবার সকালে শহিদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পর বলেন, ‘‘সরকারি অধিদপ্তরগুলোয় বাংলা চালু হলেও আদালতে সেটা বাস্তবায়ন করা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি৷ এ জন্য আমরা খুবই দুঃখিত৷ অবশ্য হাইকোর্ট বিভাগের কয়েকজন বিচারক খুব সুন্দরভাবে বাংলায় রায় লিখছেন৷ এটা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে৷ আপিল বিভাগেও আমরা এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি৷ প্রযুক্তির এই যুগে যদি কোনো ডিভাইস আসে, যার মাধ্যমে আদালতে ঘোষণা করা রায় বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাবে, তাহলে অনায়াসে বাংলা ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব৷''

এবারের বইমেলা নিয়ে আপনার ভাবনা জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও