1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

একাত্তর টেলিভিশনের টক শো নিয়ে তোলপাড়

মঙ্গলবার রাতে একাত্তর টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হয়ে উত্তপ্ত বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী৷ তাদের সেই উত্তপ্ত আলোচনা উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷

অনুষ্ঠানের তৃতীয় আলোচক সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা তাঁর ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, অনুষ্ঠান শেষে তাঁর কাছে কিছু ফোন অবং এসএম এস আসে যার মূল ভাষ্য: ‘‘আপনার কি জানের ভয় নাই? শামীম ওসমানের সঙ্গে কেন অনুষ্ঠানে যান?''

গোলাম মোর্তজা এ বিষয়ে কয়েকটি কথা জানাতে চেয়েছেন৷ লিখেছেন, ‘‘রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত চরিত্র হওয়ার কারণে, প্রতিনিয়তই শামীম ওসমানকে নিয়ে আমাদের কথা বলতে হয়, লিখতে হয়৷ তাই তাঁর উপস্থিতিতেও আমাদের কথা বলা উচিত বলে মনে করি৷ শামীম ওসমানের কৌশল থাকে অন্যকে উত্তেজিত করে দেয়া৷ বিরতিসহ অনুষ্ঠানের পুরো সময় তিনি এই কৌশল প্রয়োগ করে গেছেন৷ বিরতির সময়েও আইভির চরিত্র নিয়ে একনাগারে কথা বলে গেছেন৷ আমাকে নিয়েও কথা বলেছেন৷ সেলিনা হায়াৎ আইভী এই ফাঁদে পা দিয়েছেন৷ উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন৷ শামীম ওসমান এটাই চেয়েছিলেন৷ সত্য যাতে বলতে না পারি, কথায় অনবরত বাঁধা দিয়ে গেছেন শামীম ওসমান৷''

Narayanganj City Corporation Wahlen Flash-Galerie

শামীম ওসমান তাঁকে মারতে ছুটে যাচ্ছিলেন

হুমকি প্রসঙ্গে মোর্তজা লিখেছেন, ‘‘জানের ভয় অন্য সবার মতো আমারও আছে৷ তবে সত্য বলার সাহস আছে তার চেয়ে বেশি৷ এই কারণেই শামীম ওসমানের মতো ফ্রাঙ্কেস্টাইনের দানবের সঙ্গে বারবার অনুষ্ঠানে যাই৷ বেশ কয়েকবার শামীম-আইভী বিরতিতে যেভাবে উত্তেজিত বাক্য বিনিময় করেছেন, শামীম ওসমান আইভীকে প্রায় আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছেন, তাতে স্টুডিওতে ভিতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল৷'' তিনি জানান শামীম ওসমান আইভীকে বলেছেন, ‘‘তুই নারায়ণগঞ্জে চল, তোরে দেখাইতেছি৷'' এমনকি অনুষ্ঠান শেষে কিছু একটা বলে আইভী যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন তখন শামীম ওসমান তাঁকে মারতে ছুটে যাচ্ছিলেন৷ তাঁকে ধরে ঠেকানো হয়৷''

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘আজকের এই অনুষ্ঠানের পরে, শামীম ওসমানের সঙ্গে আর অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই৷ শামীম ওসমান যেহেতু শক্তিতে বিশ্বাসী, যুক্তিতে নয়৷'' টক শোর যে অংশটি সরাসরি প্রচারিত হয়েছে, এর একটি ভিডিও ক্লিপ ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে৷

অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরেও বিষয়টি সংবাদ আকারে এসেছে৷ সেখানে লেখা হয়েছে,‘‘ ‘‘মঙ্গলবার রাতে একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে সাত খুনের পেছনে নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদারদের' দায়ী করে আইভী বলেন, গডফাদার বলতে তিনি শামীম ওসমানকে বুঝিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন,‘‘গডফাদার বলতে কাকে বুঝাচ্ছি সে তো এখানে বসেই আছে, তাকেই বুঝাচ্ছি৷ নারায়ণগঞ্জের গডফাদার একজনই সেটা এ কে এম শামীম ওসমান এবং তার সৃষ্টি আরো কিছু গডফাদার৷''

অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়ে একই দলের নেতা শামীম ওসমান বলেন, ‘‘যাকে আমি দেখি করাপশনের একজন নায়িকা হিসেবে তাকে অ্যাটাক করে বক্তব্য দিতে চাই না৷ এটা আমার রুচিতে বাধে৷ প্রতিটি জিনিসের একটা সৌজন্যতা, একটা ভদ্রতা, কথা বলার স্টাইল – সব কিছুর মধ্যে একটা মানুষের ব্লাডের পরিচয় পাওয়া যায়৷''

শুভ মেহেদি তাঁর ফেসবুক পাতায় এই টক শো নিয়েই লিখেছেন৷তিনি লিখেছেন, ‘‘আফসোস সবার উপলব্ধি হলেও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি হয় না৷ যখন হবে তখন ২০০১-এর মতো আর শুধরে নেয়ার সময় পাবেন না৷ এখানে আমি শামীম ওসমানকে ইচ্ছে করেই আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান বলেছি, কারণ হতে পারে উনি প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় ব্যক্তি৷ তাঁর মতো কিছু ব্যক্তি ঐ সব মানুষদের বিমুখ করে তুলছে, যারা আওয়ামীলীগ কে একসময় খুব ভালোবাসতে৷ আমার আসলেই সন্দেহ হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি সত্যিই জনগণের ভাষা বুঝেন নাকি এই না বুঝে থাকার ভানের মাঝে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে?''

তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শামীম ওসমানকে মহিরুহ করে তুলেছেন ঠিক তেমনি ভাবেই পরগাছা বানিয়ে এমন ভাবে পদাঘাত করবেন, যাতে জনগণের মাঝে আবার রাজনীতিবিদদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ফিরে আসে৷

রাকিব জাভেদ মিন্টু সামহয়্যার ইন ব্লগে লিখেছেন,‘‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিভিন্ন টিভি চ্যনেলে প্রচারিত টক শো এবং টক শো টেবিলে আমন্ত্রিত অতিথি, এই যেমন ধরুন গতকাল ৭১ টিভিতে রাত আটটার সময় সরাসরি প্রচারিত নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনে কে জড়িত, কে নয়? যা বাংলাদেশের শহর এবং গ্রামের শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব, সকলের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে৷'' তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন টেলিভিশন জগতে টক শোকে বাঁচিয়ে রাখতে যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে অবিলম্বে টকশোর টেবিলে মুখোমুখী করা হয়৷''

বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোতেও এই টকশো নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে৷লেখা হয়েছে, ‘‘এবার টক শোতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি চড়াও হলেন সাংসদ শামীম ওসমান৷ একাত্তর টেলিভিশনের লাইভ টক শো ‘একাত্তর সংযোগে' আইভীর ব্যক্তিজীবন এবং পরিবারকেও আক্রমণ করেন শামীম ওসমান৷ এমনকি নজিরবিহীনভাবে অনুষ্ঠান চলাকালেও শামীম ওসমান আইভীকে নিয়ে একা একাই আপত্তিকর কথা বলেছেন৷ গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন নিয়ে এই টক শো অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যে উত্তেজিত বাক্যবিনিময় হয়৷ অনুষ্ঠানের মাঝবিরতি এবং শেষে উত্তেজনা আরও বাড়ে৷ সরাসরি এটা দর্শকেরা দেখতে না পেলেও অন্য আলোচক, সঞ্চালক, ক্যামেরাকর্মীরা তা দেখেন৷ জানা গেছে, অনুষ্ঠান শেষে আইভীর দিকে শামীম ওসমান তেড়ে যান, নারায়ণগঞ্জে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন৷ আইভীও পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেন শামীম ওসমানকে৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়