1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

একমাত্র কংগ্রেস সম্মতি দিলে, তবেই যুদ্ধ

‘যে-কোনো মুহূর্তে’ মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার আশঙ্কা করছিল সিরিয়া৷ কিন্তু শনিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুদ্ধে যাওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের সম্মতি চাইলেন। তাই আপাতত পিছিয়ে গেল যুদ্ধ।

এবার অপেক্ষা। প্রথমত, আগামী অধিবেশনে কংগ্রেস সিরিয়া বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের রিপোর্টে কী পান, হয়ত সেটাও দেখা দরকার।

অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার কিন্তু মোটামুটি পরিষ্কারভাবেই সিরিয়ার উপর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ ফলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সিরিয়ায় হামলার বিষয়টি ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘‘আমরা যে-কোনো মুহূর্তে হামলা প্রত্যাশা করছি৷ আর আমরা যে-কোনো মুহূর্তে হামলার জবাব দিতেও প্রস্তুত৷''

UN Soldaten Inspektoren Damaskus Syrien

জাতিসংঘের পরিদর্শকরা সিরিয়া ছেড়ে গেছেন

ওকে সেল্সট্রমের নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যের জাতিসংঘ পরিদর্শক দল শুক্রবারই দামেস্ক ত্যাগ করেন৷ সড়ক পথে লেবাননে পৌঁছে গেছেন তাঁরা৷ একুশে আগস্ট আসলেই বিষাক্ত গ্যাস হামলা হয়েছিল কিনা তা নির্ধারণে ব্যাপক চেষ্টা করেছে এই দল৷ পরিদর্শকরা সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনকে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন৷

ওবামা প্রশাসন অবশ্য জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদনের ওপর ভরসা করে নেই৷ নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে সেদেশ জানিয়েছে, গ্যাস হামলার পেছনে সরকারি বাহিনী জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে৷ সিরিয়ার অভ্যন্তরে এই হামলায় ৪২৬ শিশুসহ ১,৪২৯ জন নিহত হয়েছে বলেও দাবি যুক্তরাষ্ট্রের৷

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি মানতে রাজি নয় সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া৷ সেদেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন রাসায়নিক হামলার পেছনে সিরিয়া সরকার জড়িত থাকার দাবিকে ‘‘সম্পূর্ণ বাজে কথা'' উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন৷

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মার্কিন সহকর্মীরা, যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সিরিয়ার সরকারি বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং বলছেন তাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে - তাদের উচিত সেসব তথ্যপ্রমাণ জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক এবং নিরাপত্তা পরিষদকে প্রদর্শন করা৷''

বলাবাহুল্য, রাশিয়া এবং চীনের বাধার কারণে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পায়নি৷ পাশাপাশি ব্রিটেনের সংসদেও ভোটাভুটিতে এই অভিযান অনুমোদন পায়নি৷ ফলে সম্ভাব্য সিরিয়া অভিযানে ব্রিটেনকে পাশে পাচ্ছেনা যুক্তরাষ্ট্র৷ শুধু তাই নয়, জার্মানি এবং ক্যানাডাও অভিযানে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে৷

শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া এবং চীনের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন৷ তাদের কারণে আন্তর্জাতিক সমাজ সম্মিলিতভাবে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না বলে জানান ম্যার্কেল৷ তিনি বলেন, ‘‘জাতিসংঘ, ন্যাটো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ম্যান্ডেট ছাড়া জার্মানি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নিতে পারে না৷''

এদিকে, ব্রিটেন না থাকলেও সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে ফ্রান্সকে পাশে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র৷ আগামী বুধবারের মধ্যেই সিরিয়ায় সামরিক হামলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ৷

উল্লেখ্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে পাঁচটি মার্কিন ‘ডেস্ট্রয়ার' যুদ্ধজাহাজ সিরিয়ায় হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এসব জাহাজে কয়েকশত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে৷ ভূমধ্যসাগরে ফরাসি যুদ্ধজাহাজও রয়েছে৷ আবু ধাবি এবং জিবুতিতে যুদ্ধবিমানও মজুদ রেখেছে ফ্রান্স৷

তবে শনিবার ওবামার সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ এখনই শুরু হচ্ছে না।

এআই / জেডএইচ / ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়