1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

একনায়কতন্ত্র টিঁকে থাকে কিসের জোরে?

বার্লিনের সামাজিক গবেষণা কেন্দ্র ডাব্লিউজেডবি-র একটি সমীক্ষায় ঠিক এই প্রশ্নের জবাবই খোঁজা হয়েছে৷ রাজতন্ত্র, সামরিক শাসন কিংবা একদলীয় শাসন তো বটেই, এমনকি তথাকথিত নির্বাচনী গণতন্ত্রও একনায়কতন্ত্রের হেরফের হতে পারে৷

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফ স্টেফেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক৷ তিনি বার্লিনের সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের একনায়কতন্ত্র সংক্রান্ত সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছেন৷ প্রফেসর স্টেফেস বলেন, বিশ্বের অর্ধেক দেশেই বস্তুত একনায়কতন্ত্রের নামান্তর চলেছে৷ নির্বাচন হয়, এমন দেশেও যদি সেই নির্বাচনে কে জিতবে, তা আগে থেকে নির্দ্দিষ্ট থাকে, তবে সেই দেশও এই সমীক্ষার আওতায় পড়বে, বলে স্টেফেসের অভিমত৷

ক্ষমতার তিন স্তম্ভ

একনায়কতন্ত্র না বলে স্বৈরাচারী শাসনও বলা চলতে পারে৷ এই শাসন তিনটি উপাদানের উপর নির্ভর করে: বৈধকরণ, নিপীড়ন এবং ভাগীদারিত্ব৷ ভাগীদারিত্ব বলতে বোঝায়, জনগণের অংশবিশেষকে প্রশাসনের অংশ করে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা লাভের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে৷ তবে স্বৈরাচারী শাসনকে টিঁকিয়ে রাখতে তা বিশেষ সাহায্য করে না৷ সেক্ষেত্রে বৈধকরণ এবং নিপীড়নের কার্যকরিতা অনেক বেশি৷

নিপীড়ন বলতে বোঝায় যে কোনো রকমের ভিন্নমত অথবা বিরোধিতাকে গোড়া থেকেই দমন করা৷ এটা ক্ষমতাসীনদের হাতে একটি জোরদার অস্ত্র৷ এক্ষেত্রে কড়া এবং নরম নিপীড়নের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত, বলে স্টেফেস মনে করেন৷ রাশিয়া হলো নরম নিপীড়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, বলে মনে করেন স্টেফেস৷ সেখানে মাঝেমধ্যে মিছিল-সমাবেশের উপর পুলিশি হামলা ও আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বটে, কিন্তু নিপীড়নের অধিকাংশটা চলে নেপথ্যে, জনচক্ষুর আড়ালে৷ যেমন অপ্রীতিকর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানির মামলা করা হয় কিংবা কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়৷ ‘‘পুটিন ও-কাজটা খুবই ভালো করছেন,'' বলে স্টেফেসের অভিমত৷

***Achtung: Nur für das Interview September 2013 verwenden!*** Wissenschaftszentrum Berlin für Sozialforschung Christoph H. Stefes, Ph.D. Associate Professor(University of Colorado Denver) Currently: Wissenschaftszentrum Berlin(Social Science Resarch Center) http://www.wzb.eu/en/persons/christoph-stefes

প্রফেসর স্টেফেস বলেন বিশ্বের অর্ধেক দেশেই বস্তুত একনায়কতন্ত্রের নামান্তর চলেছে

নরমে-গরমে

স্বৈরাচারী সরকার ‘কঠিন' কি ‘নরম', দু'ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে৷ কঠিন বলতে সরকারবিরোধীদের গ্রেপ্তার, অপহরণ, এমনকি হত্যা – কিন্তু এ সবেরই একটা নেতিবাচক প্রভাবও আছে৷ একদিকে এ ধরনের ‘কঠিন' নিপীড়নে জনগণের মধ্যে ভীতিসঞ্চার করে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়; অপরদিকে এ ধরনের নিপীড়নের কথা জানাজানি হয়ে গেলে বিদ্রোহ আরো মাথা চাড়া দিতে পারে৷

‘নরম' পদক্ষেপ অপেক্ষাকৃত সহজে জনচক্ষুর আড়ালেই নেওয়া সম্ভব: কর সংক্রান্ত আইন বদলানো কিংবা ব্যাংক জামানত বাজেয়াপ্ত করা৷ মিডিয়াতেও এ ধরনের ‘নিপীড়ন' নিয়ে হইচই কম হয়৷

বৈধকরণই সেরা পন্থা

গণতন্ত্রে নির্বাচনই সরকারকে তার বৈধতা দিয়ে থাকে৷ একনায়কতন্ত্রের ক্ষেত্রে একনায়ককেই সেই বৈধতার ব্যবস্থা করতে হয়৷ সার্বিয়ার সাবেক শাসক স্লবোদান মিলোসেভিচ দেশবাসীর জাতীয়তাবাদী আবেগ-অনুভূতির প্রতি আবেদন জানিয়েছিলেন৷ কাম্বোডিয়ার সাবেক স্বৈরাচারী শাসক পল পটের বৈধতা ছিল তার কমিউনিস্ট মতাদর্শ৷ ফিদেল কাস্ত্রো কিউবায় উভয় পন্থাই ব্যবহার করেছেন: মার্কিন জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশবাসীকে কমিউনিজমের পথে এনেছেন৷

আরেকটি পন্থা হলো জনগণকে অর্থনৈতিক সাফল্য, স্বাচ্ছল্য, সমৃদ্ধির আশা কিংবা প্রলোভন দেখানো: চীনের কমিউনিস্ট পার্টি যে পন্থা অবলম্বন করেছে৷ চীনের জনগণের একটা বড় অংশ শুধু তাদের অর্জিত স্বাচ্ছন্দ্যকে অক্ষুণ্ণ, অটুট, স্থিতিশীল রাখার আশায় কমিউনিস্ট শাসনের কোনো পরিবর্তন চায় না৷

স্বৈরশাসনের পতন ঘটে কিভাবে?

স্টেফেস বলেন, স্বৈরশাসনের তিনটি ‘স্তম্ভ' যতদিন অনড় থাকে, পরস্পরের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলে, ততদিনই স্বৈরশাসন বজায় থাকে৷ দেশের জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করলে স্বৈরশাসনের দিন বস্তুত সমাপ্ত হতে চলেছে, বলে ধরে নেওয়া যায়৷ আরেকটি বিপদ হলো, যখন ভাগীদারিত্বের নামে ব্যাপক দুর্নীতি প্রশ্রয় পায়৷ আরো বড় বিপদ হলো, একনায়ক যখন হঠাৎ পরলোক গমন করেন, অথচ তখনও তাঁর উত্তরাধিকারী নির্দ্দিষ্ট করা হয়নি, কিংবা সেই উত্তরাধিকারীকে ঠিকমতো গড়ে তোলা হয়নি৷

স্টেফেস সাবধান করে দিয়েছেন, এই সমীক্ষা থেকে বলা সম্ভব নয়, ঠিক কখন একটি দেশে একনায়কতন্ত্র কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটবে৷ তবে সেই পতনের সম্ভাবনা সম্বন্ধে একটা আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে বৈকি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়