1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

একটি বাণিজ্য চুক্তি ও তার মারাত্মক ফলাফল

ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগী ও ত্রাণ সংস্থাগুলি৷ এর ফলে সুলভ মূল্যে ওষুধ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের৷

default

এই চুক্তির বিরুদ্ধে দিল্লিতে অনেকেই মিছিলে নেমেছে

এই চুক্তির বিরুদ্ধে দিল্লিতে অনেকেই মিছিলে নেমেছে৷ গলা ছেড়ে স্লোগান দিচ্ছে৷ চুক্তিতে যা বলা হয়েছে, তা শুধু ক্ষুব্ধ নয় শঙ্কিতও করে তুলেছে অনেক মানুষকে৷ চুক্তিতে ইউরোপীয় ওষুধ কোম্পানিগুলির পেটেন্ট সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে৷ এর ফলে মূল ওষুধের অনুকরণে একই উপাদান দিয়ে তৈরি জেনেরিক ড্রাগস বলে কথিত সস্তার ওষুধগুলি বাজার থেকে উঠে যেতে পারে৷

চুক্তিটা এখনও স্বাক্ষরিত না হলেও কিছুদিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে৷ এর মধ্যে যে কথাগুলি লেখা তার পরিণাম অনেকের জন্য ভয়ংকর হতে পারে৷ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগী নরেশ যাদব জানান, ‘‘শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল এই হতে পারে যে, আমরা মারা যাব৷ ওষুধের দাম এতই বেড়ে যাবে যে. সরকার তখন নিখরচায় আর ওষুধ দিতে পারবে না৷ অনেক রোগীরই এইসব ওষুধ কেনার সামর্থ্য থাকবেনা৷''

ভারতকে দরিদ্রদের ফার্মেসি বলা হয়৷ কেননা এখানে দামি ওষুধের অনুকরণে একই উপাদান দিয়ে সস্তায় জেনেরিক ওষুধ তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে৷ নরেশের মত এইডস'এ আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকতে হলে এই ধরনের ওষুধের প্রয়োজন খুবই৷ স্বাস্থ্যরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ মুখপাত্র আনন্দ গ্রোভার এ প্রসঙ্গে বলেন, এই চুক্তির বলে ইউরোপীয় ওষুধ কোম্পানিগুলির পেটেন্ট সুরক্ষিত হবে৷ যার ফলে অন্যান্য দেশের কোম্পানিগুলির পক্ষে এই সব ওষুধ অনুকরণ করা আর সম্ভব হবেনা৷ আনন্দ গ্রোভার'এর ভাষায়, ‘‘তারা যা চাইছে, তা যদি কার্যকর হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের দামি ওষুধ কিনতে হবে৷

Flash-Galerie HIV / Aids 2010

এতে শুধু ভারতের নয়, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের রোগীরাও অসুবিধার সম্মুখীন হবে৷ কেননা এই ধরনের সস্তার ওষুধের শতকরা ৯০ ভাগই ভারতে প্রস্তুত করা হয়, যা থেকে লাভবান হন অন্যান্য দেশের রোগীরাও৷''

আনন্দ গ্রোভার এই বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছেন৷ তাঁর মতে স্বাস্থ্য বা অর্থনৈতিক কোনো দিক দিয়েই লাভবান হবেনা ভারত৷ কিন্তু এত সব প্রতিবাদ প্রতিরোধ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোনো ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়নি এখনও৷ এ প্রসঙ্গে আনন্দ গ্রোভার জানান, ‘‘বস্তুত মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে৷ আমার বোধগম্য হচ্ছেনা, ভারত সরকার কেন জেনেরিক ড্রাগস প্রস্তুতকারীদের কথা শুনছেন না৷ সবাই ভারতের উন্নয়নের কথা বলছেন, কিন্তু শিল্পোন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়৷''

চিকিৎসকদের সাহায্য সমিতি, ‘ডক্টর্স উইদআউট বর্ডার্স' ও মনে করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলির ক্ষতি করে শুধু নিজেদের ওষুধ কোম্পানিগুলির লাভের দিকেই নজর দিচ্ছে৷ এর ফলে বিশ্বব্যাপী অনেক রোগী বিপদের মুখে পড়বেন, বিশেষ করে যারা এইডস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে ভুগছেন৷ এ কারণে সাহায্য সংস্থাটি ভারত সরকারকে এই চুক্তির ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দিচ্ছে৷ ডক্টর উইদআউট বর্ডার্সের মুখপাত্র পল কথ্রোন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা ভারত সরকারকে বোঝাবার চেষ্টা করছি, এটা তোমাদের সিদ্ধান্ত৷ তোমরা এ ব্যাপারে হ্যাঁ বা না করতে পারো৷ আমরা অনুরোধ করব না বলতে৷''

মিছিলকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘‘আমাদের জীবন নিয়ে ব্যবসা চলবে না৷ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিপাত যাক৷'' দিল্লির এই মিছিল থেকে যে কথাগুলি ভেসে আসছে, তা খুবই স্পষ্ট৷ খুব শিগগিরই জানা যাবে কর্তৃপক্ষ দরিদ্র রোগীদের সমস্যাটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেছেন কিনা৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়