1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

একটি গোলশূন্য, কিন্তু দুর্ধর্ষ ম্যাচ

এ হলো ফুটবলের মহাকাব্য৷ এখানে জয়পরাজয় নেই, আছে শৌর্য-বীর্য-ট্র্যাজেডি৷ এই মহাকাব্যে নেইমার গোল না করেও হিরো৷ আর বিপক্ষের গোলরক্ষক ওচোয়া সেই নেইমারকে গোল না করতে দিয়ে হিরো৷

মঙ্গলবার ব্রাজিলের ফর্তালেজায় খেলাটা ছিল সমানে-সমানে এবং ফুটবল শৈলীর বিচারে সর্বোচ্চ পর্যায়ের৷ গোলশূন্য ড্র, অথচ খেলার শেষে দু'পক্ষের কোচই সুখী – এক পক্ষ উচ্ছ্বসিত – বাকি বিশ্বের কথা তো না বললেই চলে৷ ব্রাজিলের কোচ লুইস ফেলিপে স্কোলারি বলেছেন: ‘‘আমার মতে – আমার নিজের মতে, সমালোচকদের মতে নয় – (ব্রাজিল) দল ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যা খেলেছিল, এবার তার চেয়ে বেশি ভালো খেলেছে....বাড়তি টেন পার্সেন্ট৷''

‘‘মেক্সিকো মোটামুটি আমরা যেমন খেলি, তেমনই খেলেছে৷ ওদের বল ‘পজেশন' ছিল প্রায় আমাদের মতো৷ গোলে ঠিক ততগুলোই শট নিয়েছে,'' লক্ষ্য করেছেন স্কোলারি৷ তবুও তিনি খুশি, কেননা ব্রাজিল দলের ‘‘বিকাশ ঘটছে''৷ তার প্রমাণ ডিফেন্সে ক্যাপ্টেন টিয়াগো সিলভার কম্যান্ডিং পারফরম্যান্স৷ সেই সিলভাই আবার প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘মেক্সিকোর প্লেয়াররা খুব ভালো মুভ করে৷ মিডফিল্ডে ওদের কোয়ালিটির অভাব নেই৷''

তবে কাস্তেলাঁও স্টেডিয়ামে এ দিন আসল হিরো ছিলেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিলিয়ের্মো ওচোয়া৷ ২৮ বছর বয়সের এক অখ্যাত গোলকিপার, যার বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি পর্যন্ত নেই, কেননা ফরাসি ক্লাব এসি আজাক্সিও-র সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে: সেই ‘নো নেম' গোলকিপারটি ডানদিকে একটি অসাধারণ ডাইভ করে আটকালেন নেইমারের হেড করা শট; পরে নেইমারের একটি কাছ থেকে করা শট গোলের মাঝামাঝি ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেখান থেকেই আটকে দিলেন ওচোয়া; তারও পরে হাঁটু গেড়ে দু'হাত উপরে তুলে আটকালেন টিয়াগো সিলভার একটি অতি কাছ থেকে করা হেড৷ ও হ্যাঁ, একেবারে গোড়ার দিকে পাওলিনিয়োর একটি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করেন মেক্সিকোর এই ‘যিশু'৷

খেলা শেষ হবার আগেই উইকিপিডিয়ায় ওচোয়ার পাতায় ঢুকে তাঁর গুণমুগ্ধরা তাঁকে ‘মেক্সিকোর যিশু' আখ্যা দিয়ে বসে আছেন৷ আরো একটি বড় প্রশংসা এসেছে মার্কিন বাস্কেটবল গ্রেট কোবে ব্রায়ান্ট-এর টুইট থেকে: ‘‘ওচোয়া! অবিশ্বাস্য!'' ওচোয়াও স্বীকার করেছেন, এটা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ: ‘‘ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে খেলা, তা-ও আবার ব্রাজিলেই, এবং সে ম্যাচে একটাও গোল না খাওয়া?'' এর চাইতে বড় আনন্দ আর কি হতে পারে৷

তবে ওচোয়ার আগেও মেক্সিকোকে বাঁচানোর জন্য আরেক ‘যিশু' ফুটবলের মাঠে অবতীর্ণ হয়েছিলেন: তাঁর নাম মিগেল হেরেরা৷ মোটাসোটা, শক্তপোক্ত ৪৬ বছর বয়সের হেরেরা কাস্তেলাঁও-তে এসেছিলেন স্যুট-টাই পরে, ঐ গরমেও৷ কোচিং জোনে দাঁড়িয়ে তাবৎ চেঁচামেচি, হাত নাড়ানাড়ি করে গেছেন৷ তাঁর বক্তব্য একটিই: দলকে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে৷ পরিকল্পনাটা এইরকম: ব্রাজিলিয়ানদের জায়গা দিও না৷ ডিফেন্সিভ লাইন-আপে কোনোরকম রদবদল কোরো না৷ শেষদিকে স্ট্রাইকারদের মাঠে নামাও, ডান থেকে বাঁদিক জুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালাও৷

‘‘যতবার আমরা এই প্ল্যান থেকে সরে এসেছি, ততবারই ব্রাজিলের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷ আমরা যখন সে ভুল করিনি, তখন ব্রাজিলও কিছু করতে পারেনি,'' বলেছেন হেরেরা৷ সহজ ফুটবল দর্শন৷ কিন্তু সেই দর্শনের কল্যাণেই মেক্সিকো এবারের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে পড়তে শেষ মুহূর্তে প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিলে আসতে পেরেছে৷

এসি/ডিজি (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন