1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

‘একটা শব্দ উচ্চারণের আগেও ভাবতে হয়’

ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে টেনিসে চীনা বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন তিনি৷ তারপর থেকে লি না নিজের জীবনেও এনেছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন৷ তারকা হিসেবে বাড়তি দায়িত্ববোধই নাকি এ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে তাঁকে!

default

ফ্রেঞ্চ ওপেন হাতে লি না

টেনিসে চীন এখন যেটুকু আলোচনায় আসে তা একমাত্র লি না-র কারণেই৷ ২০১১ সালে তাঁর ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের মুহূর্তটিকে অনেক ক্রীড়ালেখক ‘টেনিসে চীনা বিপ্লবের সূচনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন৷ প্রথম চীনা এবং প্রথম এশীয় খেলোয়াড় হিসেবে লি না-র ওই সাফল্য এশিয়ার টেনিস অঙ্গনেও পরিবর্তনের জোয়ার এনেছে৷ আজ এশিয়ার যে প্রান্তের যে শিশুই বড় হয়ে টেনিস খেলোয়াড় হতে চায়, তার সামনে ‘রোল মডেল' একজনই – লি না৷

৩১ বছর বয়সি লি না এ পর্যন্ত একটি গ্র্যান্ড স্লাম এককের পাশাপাশি ৮টি ডাব্লিউটিএ এবং ১৯টি আইটিএফ শিরোপাও জিতেছেন৷ এমন সাফল্যে তারকা খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তাও এসেছে৷ চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লি না-র অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১ কোটি ছাড়িয়েছে৷

Bildergalerie Tennis Li Na

২০১১ সালে লি না’র ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের মুহূর্ত

তারকাখ্যাতি এবং জনপ্রিয়তা সবার ভাগ্যে জোটেনা৷ যাঁদের জোটে তাঁদের সবাই আবার তা ধরে রাখতে পারেন না৷ লি না সেটা জানেন৷ তারকামর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা যে কঠিন তা-ও অনুভব করেন সবসময়৷ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিতে মেলবোর্নে গিয়ে শুক্রবার এ বিষয়েই কথা বলেছেন এশিয়ার একমাত্র গ্র্যান্ডস্লাম একক জয়ী খেলোয়াড়৷ সাধারণ একজন খেলোয়াড় থেকে তারকা হিসেবে অনেকের কাছে ‘রোল মডেল' হওয়ার পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘এখন শিশু-কিশোরও সব সময় আমার দিকে নজর রাখে, আমি কোর্টে বা কোর্টের বাইরে কী করি সব কিছুর খোঁজ রাখে৷ এ কারণে মনের ভেতরে সব সময় চাপ অনুভব করি৷ বাচ্চারা আমাকে দেখে শিখবে – এ কথা ভেবে এখন আমি একটা বাজে শব্দও উচ্চারণ করতে পারিনা৷ এমন অনেক কিছুই করতে পারিনা যা আগে অনায়াসেই করতে পারতাম৷''

মানসিকতায় লি না এমনিতেই বিদ্রোহী৷ আন্তর্জাতিকভাবে তেমন পরিচিতি পাওয়ার আগেই তার প্রমাণ রেখেছেন৷ চীনে সব টেনিস খেলোয়াড়কে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে হয়৷ এ নিয়ম না মেনে ২০০৮ সালেই নিজের কোচ নিজে ঠিক করেছিলেন লি না৷

Li Na gewinnt die French Open 2011 FLASH-GALERIE

এশিয়ার যে প্রান্তের যে শিশুই বড় হয়ে টেনিস খেলোয়াড় হতে চায়, তার সামনে ‘রোল মডেল' একজনই – লি না

এখন অবশ্য সব বিষয়ে আগের মতো আপোসহীন থাকতে পারেননা৷ প্রচার মাধ্যমের অতিরিক্ত উৎসাহের কারণে ছোট ছোট কারণেও অস্বস্তিতে পড়তে হয়৷ এ অবস্থা কে না এড়াতে চায়, বলুন! অনর্থক সমালোচনার শিকার না হতে তাই নিজেকে বদলে নিয়েছেন অনেকটা৷ আগে একসময় অল্পস্বল্প মদ্যপান করতেন, এখন পানি ছাড়া কিছুই পান করেন না!

এমন পরিবর্তনের কারণটা তাঁর মুখেই শোনা যাক৷ লি না বলেছেন, ‘‘পার্টিতে গেলে আমাদের তো কখনো কখনো একটু ড্রিঙ্ক করতেই হয়৷ কোনো পার্টিতে একটু ড্রিংক করলেই পরের দিন পত্রিকায় খবর ছাপা হতো – ‘লি না পান করতে পছন্দ করেন'৷ পরিস্থিতির কোনো উল্লেখ থাকে না সেখানে৷ পত্রিকায় ওরকম খবর পড়ার পর থেকে আমি নিজেকে বলি – পার্টিতে গেলেও এখন আর পানি ছাড়া অন্য কিছু পান করা ঠিক হবে না, ঠিক আছে, পানিই ভালো, এটা তো সত্যিই স্বাস্থ্যকর পানীয়!''

এসিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন