1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘এই হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই'

জঙ্গিদের হামলায় ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকা ‘শার্লি এব্দো'-র প্রধান সম্পাদকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজন এবং মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ'-এর আহসান হাবীব৷

ডয়চে ভেলেকে আহসান হাবীব বলেন, ‘‘ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিক পত্রিকা শার্লি এব্দো-র প্রধান সম্পাদকসহ অন্তত ১২ জনকে হত্যার বিষয়টি আমাকে কষ্ট দিয়েছে, মর্মাহত করেছে৷ এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না৷ তাঁদের ব্যঙ্গচিত্র যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তাহলে তা প্রতিকারের নানা পথ আছে৷ কাউকে হত্যা করে প্রতিকার পাওয়া যায় না৷''

তিনি বলেন, ‘‘প্রতিবাদের ভাষা কখনো হত্যা হতে পারে না৷ প্রতিবাদ হতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিক৷'' তাঁর কথায়, ‘‘এই হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই৷''

সম্পাদক আহসান হাবিব এও মনে করেন, ‘‘ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এব্দো মুসলমানদের মহানবীকে নিয়ে যে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে এক ধরণের উসকানি আছে৷ তারা একবার প্রকাশ করে তা আবারো তা পুনঃপ্রকাশ করেছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে কোনো ধর্মপ্রচারককে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন হয় না৷ আমার মতে, সব বিষয়ে একটি সীমারেখা থাকা উচিত৷ কোনো পক্ষেরই সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়৷''

আহসান হাবীব বলেন, ‘‘দাড়ি নিয়ে কার্টুন প্রকাশ করে আমরাও একবার বিপদে পড়েছিলাম৷ আমাদের চিঠি দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল৷ এছাড়া রাজনৈতিক কার্টুন নিয়েও মাঝেমধ্যে ঝামেলায় পড়তে হয়, চাপ আসে৷ তবে তা কখনো হামলা বা শারীরীক নির্যাতনের পর্যায়ে যায়নি৷''

তাঁর কথায়, ‘‘কার্টুন বা ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ৷ আর কোনো হুমকি বা নির্যাতনের মুখে এই কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, তা নয়৷ বরং এই বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ আরো এগিয়ে যাবে৷ তবে দুঃখ হয়, কখনো কখনো সরকার বা কর্তৃপক্ষ ‘তাদের' কাছে আত্মসমর্পণ করে৷''

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘বছর কয়েক আগে কার্টুনিস্ট আরিফ প্রথম আলোর রম্য ম্যাগাজিনে একটি কৌতূক কার্টুন করার পর, তাঁকে জেলে যেতে হয়৷ এখানেই শেষ নয়৷ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়৷ কিন্তু ঐ কার্টুনে মহানবী বা ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর কিছুই ছিল না৷ মৌলবাদী গোষ্ঠী তাদের স্বার্থে চাপ সৃষ্টি করেছে৷ আর সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ, যা দুঃখজনক৷'' তিনি মনে করেন, ‘‘তখন প্রথম আলো এবং সরাকারে উচিত ছিল কার্টুনিস্ট আরিফের পাশে দাঁড়ানো৷''

আহসান হাবীব জানান, ‘‘আরিফের এই একই কার্টুন এর আগে জামায়াতের একটি শিশু পত্রিকা ফুলকুঁড়িতেও ছাপা হয়েছিল৷ কিন্তু তাতে কোন সমস্যা হয়নি৷ তাতে কোন অপরাধ হয়নি৷ যখন একটি প্রগতিশীল পত্রিকায় ছাপা হল অমনি গায়ে লেখে গেল মৌলবাদীদের৷'

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের দেশে দেশে নতুন রূপে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে৷ তাই আমাদের যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই দিয়েই সন্ত্রাসকে মোকাবেলা করতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন