1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

এই প্রথম ভিন্ন গ্যালাক্সি’র গ্রহ আবিস্কার

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবারের মতো মহাবিশ্বের বাইরের একটি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন৷ এটির জন্ম আমাদের এই ছায়াপথের বাইরের একটি গ্যালাক্সি বা সৌরমন্ডলে৷ জানা গেছে, গ্রহটি আকারে আমাদের সবচে বড় গ্রহ বৃহস্পতির চাইতেও খানিক বড়৷

default

নতুন গ্রহটির নাম এইচআইপি ১৩০৪৪

ভিন্ন সৌরমণ্ডলের গ্রহ আবিষ্কারের ঘটনা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের জন্য এই প্রথম এবং এই আবিষ্কার দারুণ সাফল্যের একটি ঘটনাই বটে৷ আমাদের সৌরমন্ডলের ইতিউতি আর বিভিন্ন গ্রহের তত্ত্ব তালাশের ফাঁকে এই ভিন্ন গ্যালাক্সি বা সৌরমন্ডলের গ্রহটি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি অবশ্যই একটি চমকপ্রদ বিষয়৷ বিজ্ঞানীদের বরাতে জানা গেছে, আমাদের এই সুদীর্ঘ ছায়াপথের বাইরে সেই কোন সূদূরে পৃথিবী থেকে প্রায় দুই হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বে এটি অবস্থান করছে৷

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের সৌরমন্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়ে আকারে এই নবআবিষ্কৃত ভিন গ্রহটি সামান্যই বড়৷ তারা ধারণা করছেন, ছয় থেকে নয় বিলিয়ন বছর আগে ছায়াপথ বা মিল্কিওয়েটি একটি ক্ষুদ্র সৌরমন্ডলকে গোগ্রাসে গিলে ফেলার পর রয়ে যাওয়া কয়েকটি নক্ষত্রপুঞ্জেরই অংশ এই গ্রহ আর তার সঙ্গের নক্ষত্রটি৷ সম্প্রতি এক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে লেখা হয়েছে এটি হেলমি নামের একটি নক্ষত্রপুঞ্জেরই অংশ, যার বাকি অংশ নিঃশেষ হয়েছে ছায়াপথের আগ্রাসে৷ বিজ্ঞানীরা ছায়াপথের এই আগ্রাসী আচরণের নাম দিয়েছেন- ‘গ্যালাক্টিক ক্যানিবালিজম'৷

Flash-Galerie Galaxie UDFy-38135539

এই মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষ কতই না ছোট

হাইডেলবার্গের মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিট্যুট ফর অ্যাসট্রোনমির জনি সেটিওয়ান বলেছেন, ‘যতদূর জানি এমন একটি গ্রহ আবিষ্কারের ঘটনা এটাই প্রথম৷ আমাদের সৌরমন্ডলে এটি ঢুকে পড়েছিল ছয় থেকে নয় বিলিয়ন বছর আগে৷'

জানা গেছে, চিলি'র লা সিলা অবজারভেটরি'র ইউরোপিয়ান সাদার্ণ ল্যাবরেটরিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেকটোগ্রাফ সংযুক্ত একটি সাড়ে সাত ফুটি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই গ্রহ এবং এর কক্ষপথে ঘোরা নক্ষত্রটি নজরে এসেছিল৷ এর নাম রাখা হয়েছে হিপ ১৩০৪৪ বি৷

রাইনার ক্লিমেন্ট নামের এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এই আবিষ্কারের ঘটনাটি চমকপ্রদ৷ তিনি বলেন, এটি আসলে অনেক দূরের একটি গ্রহ৷ এর আগে এমন ভিন্ন গ্যালাক্সির কোন গ্রহ আমরা খুঁজে পাইনি৷

বিজ্ঞানী মনে করছেন, এই গ্রহটি যেনবা আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীর ছবিই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে৷ কেননা আজ থেকে পাঁচ বিলিয়ন বছর পরে আমাদের সূর্যের সমস্ত হাইড্রোজেন নিঃশেষ হয়ে গেলে পরে সেও একটি রক্তিম মৃত পর্যায়ে পৌঁছাবে৷ যেমনটি এই বামন গ্যালাক্সিটি একসময় পৌঁছেছিল৷ আর এভাবেই নিঃশেষ হয়েছিল তার অপরাপর সঙ্গী-সাথিরা৷ নিঃসঙ্গ এই ভিন গ্রহটির মতোই হয়তো একদিন পৃথিবীও নিষ্প্রাণ ঘুরে ঘুরে চলবে৷

কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন- যেখানে স্পন্দন, সংঘর্ষ, গতি, যেখানে উদ্যম, চিন্তা, কাজ/ সেখানেই সূর্য, পৃথিবী, বৃহস্পতি, কালপুরুষ, অনন্ত আকাশগ্রন্থি..../ অরব অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠব না আর/ তাকিয়ে দেখব না নির্জন বিমিশ্র চাঁদ বৈতরণীর থেকে/ অর্ধেক ছায়া গুটিয়ে নিয়েছে/ কীর্তিনাশার দিকে/ ধানসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়ে থাকব-ধীরে-পউষের রাতে/ কোনদিন জাগব না জেনে-/কোনোদিন জাগব না আমি-/কোনোদিন আর।

যাক গে৷ এখনই বিমর্ষ বিষন্ন হয়ে কাজ নেই৷ সে অনেক শতাব্দী পরের কথা৷ ততোদিনে হয়তো বিজ্ঞানীরা ঢের আলোকবর্ষ দূরের এমন আরো ডজন খানেক গ্রহ আবিস্কার করে ফেলবেন৷ হয়তো সে গ্রহগুলো মানুষের বসবাস উপযোগী৷ তার কোন কোনটিতে মানুষের বসতিও স্থাপিত হবে হয়তো৷ আশায় বসতি৷

প্রতিবেদন: হুমায়ূন রেজা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক