1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

এইডস রোগীদের প্রতি মানুষ এখনও সহানুভূতিপ্রবণ নয়

শুধু শারিরীক সমস্যাই নয় সামাজিকভাবেও এইডস রোগীরা নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার হয়৷ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সম্প্রতি জানিয়েছেন যেভাবেই হোক এইডস প্রতিরোধ করতে হবে৷ তিনি বিশেষভাবে জোর দেয় কেনিয়ার ওপর৷

default

বিশ্বে এইডস রোগে আক্রান্তদের ৫ শতাংশ বসবাস করে কেনিয়াতে

গত ৩০ বছর ধরে বিশ্বের নানা দেশে এইডস রোগ ডানা মেলে রয়েছে৷ বৈষম্য, এইডস রোগীদের এড়িয়ে চলা, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকবাবে না মেশা এই রোগ প্রতিরোধকে আরো দুর্বোধ্য করে তুলেছে৷ বৈষম্য দূর করতে হবে, তাদের সমাজে ফিরিয়ে আনতে হবে – বেশ জোর দিয়ে কথাগুলো বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন৷

১৯৮১ সালে প্রথম এইডস রোগের কথা বিশ্ববাসী জানতে পারে৷ এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি মানুষ এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে প্রায় ৩ কোটি মানুষ৷ এইডস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাজারে বের হয়েছে অ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ সংক্ষেপে যা এআরভি নামে পরিচিত৷ তবে এইডস রোগ নিরাময়ের কোন ওষুধ এখনো আমাদের হাতে আসেনি৷

তিন দশক পর চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এইডস রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে৷ আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে নিয়মিত৷ সবচেয়ে বড় কথা হল বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এখন মোটামুটি সবাই জানে এইডস রোগ কী, কীভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ এবং এরোগের ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা৷

World AIDS Day

সামাজিকভাবেও এইডস রোগীরা নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার

কোনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজ করছেন ডা. রেক্স ইমপাসাঞ্জে৷ তিনি এইচআইভি অফিসার৷ কেনিয়াতে এইডস রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘‘সারা বিশ্বের যত মানুষ এইডস রোগে আক্রান্ত তার প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ বসবাস করে কেনিয়াতে৷ অর্থাৎ প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ এদেশে এইডস রোগে আক্রান্ত৷ কেনিয়াতে এই রোগটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তা আমরা বেশ স্পষ্টভাবেই বলতে চাই৷ এইডস সাঙ্ঘাতিক এক সমস্যা – এই তালিকায় যদি দশটি দেশ উল্লেখ করা হয় তাহলে অবশ্যই কেনিয়া আসবে৷ এইডস রোগটি এদেশে খুবই গুরুতর একটি সমস্যা৷''

কেনিয়ার যেসব জায়গায় এইডস রোগী রয়েছে বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে সেখানে সক্রিয় বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা৷ কেনিয়ার সরকার এই রোগ প্রতিরোধে যে সব প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার সঙ্গে একযোগে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ সংস্থা পরামর্শ দিচ্ছে, বিভিন্ন কৌশল এবং নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করছে একই সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণ করছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন সহায়ক গ্রুপও তৈরি করেছে৷ গ্রুপের সদস্যদের এইডস বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ গ্রুপ শুধু এইডস রোগীদের সাহায্য করছে না, যারা এইডস রোগে আক্রান্ত নয় – তাদের আচার-আচরণ এইডস রোগীদের প্রতি কেমন হওয়া উচিত তা নিয়েও কাজ করছে৷ এর পাশাপাশি রোগ নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ৩০ বছর আগে এইডস-এর অর্থ ছিল নির্ঘাত মৃত্যু৷ আজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ এইডসে আক্রান্ত হলেই সেই মানুষটি মারা যাবে এখন পরিস্থিতি আর নেই৷ এইডস রোগীকে আরো অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করছে এআরভি৷ তবে কেনিয়াতে এ রোগ মহামরি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে৷

২০৩০ সালে এইডস রোগ কি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে? নাকি এই রোগ প্রতিরোধে আমরা সফল হবো? ডা. রেক্স ইমপাসাঞ্জে বললেন, ‘‘এটা নির্ভর করছে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর৷ আমরা সফল হয়েছি এই রোগ প্রতিরোধে তা আমরা এখনো জোর দিয়ে বলতে পারি না৷ নতুন নতুন সংক্রামক ব্যাধির আবির্ভাব হচ্ছে৷ যদি কেনিয়ার দিকে তাকানো যায় তাহলে বলবো ২০০৭ সালে যত মানুষ এইডসে আক্রান্ত হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ২০১০ সালে৷ রোগটি যেন আর ছড়াতে না পারে সেই ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি কিন্তু তা প্রতিরোধে এখনো আমরা সফল হইনি৷ তবে আমরা আশা করতে পারি, যেভাবে কাজ করছি সেভাবে কাজ করে যেতে পারলে অন্ততপক্ষে মহামারি আকারে এইডস ছড়িয়ে পড়বে না৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়