1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

এইডসের হাত থেকে রক্ষা করবেন ঈশ্বর – আসলেই কি তাই?

এইডসে আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ থাকার জন্য সেবন করেন এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ৷ তবে উগান্ডায় বেশ কিছু গির্জা প্রচারাভিযান শুরু করেছে – ওষুধ সেবন মানে ঈশ্বরকে বর্জন৷

default

আফ্রিকা মহাদেশে এইডস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ৷ এইডসে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ রাখতে, আরো কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখতে আবিষ্কার হয়েছে এআরভি – এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ৷ অনেকেই এই ওষুধ সেবন করছেন, সুস্থ আছেন৷ কিন্তু উগান্ডায় বেশ কিছু গির্জা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধ করছে এই ওষুধ সেবন না করতে৷

এইডস যেন ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য উগান্ডায় এআরভি – এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ বিতরণ করা হয়েছিল রোগীদের মধ্যে৷ তবে দুঃখজনক ঘটনা হল, বেশ কিছু গির্জা এক ধরণের প্রচারাভিযান শুরু করেছে, যেখানে বলা হচ্ছে এ ধরণের ওষুধ সেবন না করতে৷ ধর্মভীরু অনেক খ্রীস্টান যারা এইডসে আক্রান্ত তারা গির্জার কথা শুনছে৷ এআরভি – এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ সেবন তারা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে৷

সারা বিশ্বে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ এইডসে আক্রান্ত৷ তাদের বেঁচে থাকার বা বাঁচিয়ে রাখার কোন সম্ভাবনা ছিল না৷ কয়েক বছর আগে বাজারে আসে এআরভি অর্থাৎ এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ৷ এই ওষুধ সেবনে এইডস রোগীকে আরো কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব৷ এইডসে আক্রান্ত এসব মানুষ আরো কিছুদিন পৃথিবীর বুকে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারবে৷

হুমকির সম্মুখীন এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ

Flash-Galerie HIV Aids 2010

তবে এই এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগের সাফল্য হুমকির সম্মুখীন উগান্ডায়৷ বেশ কিছু গির্জা ধর্মের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে বলছে সাধারণ মানুষদের৷ আর সে জন্য এসব ওষুধ সেবনের পথ থেকে দূরে সরে আসতে বলছে আক্রান্ত মানুষদের৷ তাদের বলা হচ্ছে ঈশ্বর এই রোগ দিয়েছেন, তিনিই তা সারিয়ে তুলবেন৷ কোন ধরণের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন নেই৷

চিকিৎসক ডা. স্টেফেন ওয়াতিতি খ্রীস্টান এবং তিনি কাজ করছেন মাইলল্ডমে ইন্টারন্যাশনাল এইডস সেন্টার উগান্ডা-য়৷ তিনি জানান, সংস্থাটি এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ এইডস আক্রান্তদের মাঝে বিতরণ করছিল৷ কিন্তু হঠাৎ করেই অনেক রোগী সেন্টারে আসা বন্ধ করে দেয়৷ অনেকেই এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগটি সেবনে অস্বীকৃতি জানায়৷ তিনি জানান, ‘‘গত সপ্তাহেই আমি দেখেছি একজন রোগীকে ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে৷ সে জানিয়েছে, ঈশ্বর তাঁকে এই রোগ দিয়েছে এজন্য ঈশ্বরই তাকে সুস্থ করে তুলবেন৷ কিন্তু যখন আমি তাঁকে পরীক্ষা করি, তখন দেখি তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে ভেঙে পড়েছে৷''

জীবন বাঁচাবে গির্জা – ওষুধ, চিকিৎসক বা হাসপাতাল নয়

গত কয়েক মাস ধরেই ডা. ওয়াতিতি তাঁর রোগীদের মাঝে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন৷ অনেকেই চিকিৎসা করাতে আর রাজি নন বলে জানান৷ তবে তারা সবাই স্বীকার করেছেন যে গির্জা থেকেই তারা এ ধরণের পরামর্শ পেয়েছেন৷ ওয়াতিতি আরো বললেন,‘‘অনেকেই চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ করে সারাদিন গির্জায় পড়ে থাকে৷ সারাদিন ধরে বাইবেল পড়ে৷ আর বাইবেলে লেখা রয়েছে,‘ঈশ্বর সব রোগ-শোক থেকে মুক্ত করবে৷''

উগান্ডায় এইডসের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানে ধর্ম নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে৷ গির্জা সাধারণ মানুষদের জীবন ঘিরে রয়েছে এবং এসব গির্জা থেকেই বলা হচ্ছে এইডস-এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল সরাকরি হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল সেন্টার থেকে দূরে থাকা৷ এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ থেকে নিজেকে দূরে রাখা৷ এমনকি কনডোম ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হচ্ছে পুরুষদের৷ উগান্ডায় প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ ধর্মভীরু খ্রীস্টান৷ এসব গির্জা থেকে বিভিন্ন ধরণের ওষুধ সেবন করা প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে,‘ওষুধ সেবনের অর্থ হল ঈশ্বরকে বর্জন৷' ক্ষুব্ধ ডা. ওয়াতিতি বললেন, ‘‘অনেকেই বলছে যে তারা নাকি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে৷ অথচ আমি এমন কোন এইডস রোগীকে দেখিনি বা খুঁজে পাইনি যে কিনা সত্যিই সুস্থ হয়েছে৷''

উগান্ডার লোকসংখ্যা তিন কোটি কুড়ি লক্ষ৷ তার মধ্যে প্রায় বারো লক্ষ মানুষ এইডসে আক্রান্ত৷ এই মুহূর্তে মাত্র বারোশো রোগী নিয়মিত এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগটি সেবন করছে৷ সাধারণ মানুষদের আবারো এ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল ড্রাগ সেবনে উদ্বুদ্ধ করতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে৷ তাহলেই এইডসে আক্রান্ত মানুষদের বাঁচানো সম্ভব হবে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন