1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

এইচআইভি আক্রান্ত বিদেশিরা স্বাগত নয়

এইচআইভি-তে আক্রান্ত মানুষরা নিজেদের ইচ্ছামতো বিশ্বের যে কোনো দেশে যেতে বা বসবাস করতে পারেন না৷ চল্লিশটিরও বেশি দেশে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে৷ আর সেই দেশগুলির মধ্যে তাইওয়ানও একটি৷

default

এইচআইভি আক্রান্ত বিদেশিদের বহিষ্কার করে তাইওয়ান

‘‘তাইওয়ানের মানুষরা খোলামেলা ও সহিষ্ণু৷'' এটাই আমি মনে করেছিলাম৷ বলেন ২৩ বছর বয়সি এ-চিয়াং৷ নিজের আসল নামটা গোপন রেখেছেন এই মালয়েশিয়ান-চীনা৷ তাইওয়ানে পড়াশোনার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, মালয়েশিয়ার রক্ষণশীল সমাজ থেকে বের হয়ে এই দেশটিতে বসবাস করতে পারবেন মুক্ত এক পরিবেশে৷

পদার্থ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন চিয়াং

রাজধানী তাইপেতে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন চিয়াং৷ উপভোগ করেছেন সমকামী জীবন৷ ‘‘কোর্সের তিন বছরে এসে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কিছু একটা হয়েছে'', স্মরণ করে বলেন চিয়াং৷ প্রায়ই অসুস্থ বোধ করতেন তখন৷ জ্বর হতো৷ থাকতো দুই সপ্তাহ পর্যন্ত৷

এক সময় বেনামে এইচআইভি টেস্ট করতে দেন চিয়াং৷ ফলাফল ইতিবাচক৷ মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে৷ চিকিৎসার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ৷ দেড় বছর গড়িয়ে যাওয়ার পর ওষুধ নেওয়া শুরু করেন৷ বেসরকারি এক সংস্থা তা জোগাড় করে দেয়৷ সরকারি হাসপাতালে যেতে ভরসা করতে পারেননি এই চিয়াং৷ কারণ তাদের দায়িত্ব হলো এই তথ্যটি সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া৷

দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়

এমন অবস্থায় বিদেশিদের দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় দেশ ছাড়ার জন্য৷ বলেন তাইওয়ানের এক বেসরকারি সংস্থার সমাজকর্মী ইয়ে চিয়া-উ৷ হাতে গোনা কিছু ক্ষেত্রে থাকার অনুমোদন দেওয়া হয়৷ যেমন কারো স্বামী বা স্ত্রী তাইওয়ানি হলে বা সন্তানদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব থাকলে৷ তাও আবার অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পাওয়া যায় এই অনুমোদন৷

৯০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে তাইওয়ান এইচআইভি আক্রান্ত বিদেশিদের বহিষ্কার করে আসছে৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসা শ্রমিক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয় সেসময়৷ লক্ষ্য রাখা হয় তাঁদের কোনো কঠিন অসুখ-বিসুখ আছে কিনা৷ নৈতিক দিক দিয়ে এটা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেব্যাপারে অবশ্য চিন্তাভাবনা করা হয়নি৷

বিশ্বের ৪১টি দেশের মধ্যে তাইওয়ানও একটি, যেটি এইচআইভি আক্রান্তদের দেশটিতে আসা ও বসবাস করা সীমিত করেছে৷ এর মধ্যে আবার ১৮টি দেশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত বিদেশিদের বহিষ্কার করে৷ আর তাতেও রয়েছে তাইওয়ান৷

কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে

ইতোমধ্যে অবশ্য এই কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে৷ অ্যামেরিকা ২০১০ সাল থেকে এই ক্ষেত্রে বিধিনিষেধটা বাতিল করেছে৷ চীনও এইচআইভি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে কিছু বেশ কিছু আইনকানুন নমনীয় করেছে৷

তাইওয়ানের হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এইচআইভি আক্রান্তদের বহিষ্কারের ব্যাপারে সব দিক বিবেচনা করা হবে৷ এব্যাপারে আইনের খসড়া সংসদের পেশ করা হবে এই বছর৷

আগে বলা হতো এই ধরনের বিধি নিষেধের মাধ্যমে তাইওয়ানিদের এইচআইভি সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা হবে৷ বলেন সমাজকর্মী ইয়েহ ইয়ে চিয়া-উ৷ কিন্তু ইতিমধ্যে বোঝা গিয়েছে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের বহিষ্কার করলেই যে সংক্রমণের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় তা নয়৷ তাই এখন যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এইচআইভি আক্রান্ত বিদেশিদের চিকিৎসার খরচ বহন করা তাইওয়ানের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে৷

Weltaidstag / Aids / Taiwan

বাস্তবে কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত বিদেশির সংখ্যা খুব বেশি নয়৷ গত ৩০ বছরে ৯০০-র কম বিদেশির রক্তে এইচআই ভাইরাস পাওয়া গেছে৷ একই সময়ে ২৬০০০ তাইওয়ানি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷

পরিবারের কেউ জানেন না

ছয় মাস ধরে চিয়াং মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তাঁর পরিবারের সাথে৷ এইচআইভি বা তাঁর সমকামিতা সম্পর্কে পরিবারের কেউ জানেন না৷ এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় খোলাখুলি আলোচনা করা চিন্তাও করা যায় না৷ বন্ধু বান্ধবকেও বিষয়টি জানাননি চিয়াং৷

‘‘তাইওয়ান আমার নতুন স্বদেশ হতে পারতো৷ সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়াটা আমাকে খুব আঘাত দিয়েছে৷''

তাইওয়ানে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন তিনি৷ ভবিষ্যতে ইউরোপ বা অ্যামেরিকায় ডক্টরেট করার ইচ্ছা আছে তাঁর৷ কিন্তু সবচেয়ে ভালো লাগতো তাইওয়ানে ফিরে যেতে পারলে৷

চিয়াং আশা করেন, শিগগিরই তাইওয়ান সরকার আইনের কড়াকড়ি শিথিল করে এইচআইভি আক্রান্ত বিদেশিদের দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দেবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়