1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ঊষর মরুতে শ্রমিকদের কান্না

কাজের সন্ধানে দক্ষিণ এশিয়া থেকে অনেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে৷ মন্দার ধাক্কায় বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা৷

default

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করছেন এশিয় শ্রমিকরা

৪৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা৷ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খুব বেশি না হলেও দক্ষিণ এশীয়দের জন্য এটাই অনেক বেশি৷ আর এর মধ্যেই গাদাগাদি করে থাকছে একদল শ্রমিক৷ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তো দূরের কথা, খাবারই জুটছে না তাদের৷ চাকরি নেই বললেই চলে৷ ফিরতে পারছে না দেশেও৷ বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ঊষর মরুতে দক্ষিণ এশিয়ার এই শ্রমিকদের ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে৷

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসার মূল কেন্দ্রই বলা যায় আরব আমিরাতকে৷ বিশেষ করে দুবাই, আর শারজাহ৷অর্থনীতির উল্লম্ফনে বিশাল বিশাল দালান উঠছিলো সেখানে৷ এই জন্য নেওয়া হয়েছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক৷ কিন্তু মন্দার ধাক্কায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কাজ৷ আর যেসব কোম্পানি শ্রমিকদের নিয়েছিলো, তারা আপাতত গা ঢাকা দিয়েছে, ফলে বিপাকে পড়েছে শ্রমিকরা৷ শারজাহ'র একটি ক্যাম্পে থাকা শ্রমিকরা জানালেন, তারা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অনেকবার টেলিফোন করেছে৷ কিন্তু রিং বেজে গেলেও কেউ ধরছে না৷ তারা আরো জানান, ছয় মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না৷ মাসিক ৮০০ দিরহাম অর্থাৎ ২১৭ ডলারে কাজ করতে এসেছিলেন তারা৷ বাসনা ছিলো, তাদের পাঠানো অর্থে পরিবারের অস্বচ্ছলতা ঘুচবে৷ কিন্তু সে আশায় এখন গুড়েবালি৷

মোহন নামে একজন শ্রমিক জানালেন, পরিবার নিয়ে এসেছিলেন তিনি৷ কিন্তু অবস্থা সুবিধার না হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ নিজে থেকে গেছেন, যদি পাওনা বেতনের কিছু মেলে৷ মোহন বললেন, ‘‘ভারতে গিয়েও যে ভালো থাকবো, তার কী কোনো নিশ্চয়তা আছে৷'' শারজাহ-এ মোহনের ক্যাম্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ শ্রমিকদের দুর্দশা এখন সীমাহীন বলে জানালেন পাকিস্তানের সাহের শেখ৷ অবস্থাপন্ন এই নারী নিজের উদ্যোগেই শ্রমিকদের খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন৷ সাহের বললেন, ‘‘তাদের আনা হয়েছিলো কাজ করতে৷ বিনিময়ে মজুরি পাবে৷ এখন কোম্পানির লোকজন পালিয়েছে, কাজও বন্ধ, শ্রমিকদের মজুরিও নেই৷''

শ্রমিকদের দুর্দশার জন্য সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷ তারা বলছে, এই ধরনের কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ তবে অন্য তরফে বলা হচ্ছে, সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তবে শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বেশ কঠিন৷ বিশ্লেষক ইবতিসাম আল কিতবি বলেন, ‘‘সরকার এখন ব্যাংকের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবছে৷'' তবে এই বিষয়ে আমিরাতের শ্রম মন্ত্রণালয় মুখ খুলতে চাইছে না৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলে তাদের এক মুখপাত্র শুধু এটুকু বললেন, শ্রমিকদের পাওনা মেটাতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে৷ আর দেড় হাজার জনকে ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ অবশ্য শ্রমিকরা বলছে, সরকার শুধু মুখেই বলছে, কাজ করছে না৷ ভাগ্য বদলানোর আশায় ধার-দেনা করে অনেকে দেশ থেকে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন৷ কিন্তু এখন আশাভঙ্গের যাতনা থেকে কেউ কেউ আত্মহত্যাও করছেন৷ এক শ্রমিক বললেন, ‘‘আমরা জেগে থাকি, নইলে ঘুমাই৷ আর জেগে থাকলে দুর্ভাবনার জন্য থাকে অফুরন্ত সময়৷'' দেনা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরতেও অস্বস্তি, এরপরও বাড়ি ফিরতে চান এদের অনেকেই৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়