1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

উৎসবের রঙে মালাগা ভিজছে, ভেজাচ্ছেও

ছোট্ট শহর মালাগা, স্পেনের আন্দালুসিয়ায়, ভূমধ্যসাগর কূলে৷ রঙ লেগেছে সেই মালাগায়, উৎসবের রঙ৷

default

‘ফেরিয়া দ্য মালাগা' - এই উৎসবকে এই নামেই ডাকে স্প্যানিশরা

স্পেনের সব পথগুলো এখন যেন এসে মিলেছে মালাগায়৷ সাতদিন ধরে চলছে৷ দুদিন আরো বাকি৷ ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে৷ দেড়শ বর্গমাইলের মালাগায় বাস পাঁচ লাখ মানুষের৷ আর এখন উৎসব আমেজ সেই সংখ্যা ছয় লাখে নিয়ে তুলেছে৷ স্পেনের সবচেয়ে বড় উৎসব বলে কথা৷

‘ফেরিয়া দ্য মালাগা' - এই উৎসবকে এই নামেই ডাকে স্প্যানিশরা৷ কেন এই উৎসব, তা যদি জানতে হয়, তাহলে একটু কষ্ট করে চোখ ফেলতে হবে ইতিহাসের বইতে৷ যেতে হবে আজ থেকে ছয়শ বছর আগে৷ তখন পুরো আন্দালুসিয়া ছিল আরবদের শাসনে৷ এই মালাগাকে আরবরা বলত, মালাকাহ৷ ১৪৮৭ সালে আবার আগের নাম ফেরত পায় মালাগা৷ অবসান ঘটে আরব শাসনের৷ মালাগা আসে স্পেনের রানি ইসাবেলার শাসনে৷ আরবদের অধীন থেকে মুক্তির এই সময়টিকে স্মরণ করতেই এই উৎসব৷ প্রতি বছরই, আগস্টে, আতশবাজি পুড়িয়ে, রঙ ছড়িয়ে, নেচে-গেয়ে৷ বর্ণিল পোশাকে বর্ণাঢ্য প্যারেড তো আছেই৷

Strand in Malaga Spanien

স্পেনের সব পথগুলো এখন যেন এসে মিলেছে মালাগায়

গত সাতদিন ধরে পুরো মালাগাই যেন নাচছে, চঞ্চল হরিণীর মতো৷ এর শুরুটা হয় আতশবাজি পুড়িয়ে৷ এটা এখন নিয়মই হয়ে গেছে, শুরুর দিনটা আতশবাজির৷ বন্দরের পাশের পার্কে জড়ো হয় সবাই, হাতে সুরা, পাশে সাকি, আকাশে আগুনের ফুলকি৷ চলে অনেক রাত পর্যন্ত, এর মধ্যেই ভেসে আসে গান৷ কোনোদিন গায়নি যে, সেও কণ্ঠে কণ্ঠ মেলায়৷ বলে, ভালবাসার কথা৷

এই রাত যেন ভোর না হয় - একটা সময় এটা মনে হলেও পরে আবার মনে হয়, সূর্যটা এত দেরি করছে কেন৷ কারণ, এরই মধ্যে তো সাজগোজ শেষ৷ সকাল হলেই যেতে হবে সিটি হলে৷ আগে গেলে সামনে থাকা যাবে, তাই পড়িমরি করে ছোটা৷ আটোসাঁটো, তবে লম্বা পোশাকে মেয়েগুলো যেন পরীর মতো, কারো চুলে ফুল গোঁজা, কারো বা চুলের উচ্চতা বাড়িয়ে তুলছে নানা বর্ণের কাঁটা৷ হ্রেষা রব পাওয়া গেল, আসছে ঘোড়ার দল, ঘোড়ার এই গাড়িগুলোও উৎসবের এখন অনুষঙ্গ৷ সাজানো, গোছানো৷ একটা, দুটো, তিনটে,,,,,,না, আর থই পাওয়া যাচ্ছে না৷

অনেক,,,,,,,,অনেকগুলো৷ সহিসের আসনে কোনো পুরুষ৷ আর পেছনে, নারী৷ আন্দালুসিয়ার ঐতিহ্য গায়ে জড়িয়ে, ছোট্ট জ্যাকেট, তবে মাথায় হ্যাট, প্রান্ত ছুঁয়ে ঝুলছে ফুল৷ শুরু হবে শোভাযাত্রা, পাড়ি দিতে হবে চার কিলোমিটার পথ৷ যেতে হবে সন্ত ভিক্টোরিয়া চার্চে৷ কেউ শকটে, কেউ পদব্রজে৷ সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সন্ত মারিয়া ভিক্টোরিয়া, অঞ্জলি নিতে৷ সিটি কাউন্সিলর জুলিয়ান সানদেজ জানালেন, সন্ত মারিয়ার এই ভাস্কর্যটি মালাগাবাসীর প্রতি রানি ইসাবেলার উপহার৷

Feria de Malaga Spanien

উৎসব চলে অনেক রাত পর্যন্ত, ভেসে আসে গান

গির্জায় অঞ্চলি দেওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসব, চলে আট দিন পর্যন্ত৷ যার শেষ হবে এই রোববারই৷ শহরের কেন্দ্রস্থল শুরুর দিনই ভরে গেছে, সেখানে বড় তাঁবু টানিয়ে প্যাভিলিয়ন করে দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু তাতে ঠাঁই মিলছে না সবার৷ কোনোমতে এক ধারে স্থান করে নেওয়ার উপায়ও আর নেই৷ তাই যারা পরে আসছে, তাদের থাকতে হচ্ছে শহরের উপকণ্ঠে, হতাশ হয়ে৷ স্থানীয় পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা জুলিয়া আলভারেজ বললেন, ‘‘কাসেতা মানে এই প্যাভিলিয়নগুলোতে থাকতে চায় সবাই৷ কারণ একসঙ্গে সবাই মিলে নাচ-গান, হল্লা-চিল্লা করা যায়৷ অনেক বেসরকারি কোম্পানিও এখন প্যাভিলিয়ন বানিয়ে দিচ্ছে৷''

এই উৎসবের আরেকটি বড় উপাদান হচ্ছে আন্দালুসিয়ার ঐতিহ্যবাহী নাচ ফ্লামেনকো৷ যারা পুরনো দিনের স্বাদ নিতে চান, তারা ভিড় জমান ফ্লামেনকোর আসরে৷ আর এখনকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ডিসকো তো আছেই৷ সেটাই বলছিলেন সামান্থা ফ্রেডেরিক৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার ভাল লাগে গান শুনতে, ফ্লামেনকোর পোশাকগুলোও, আর ঘোড়াগুলোও, ও হ্যাঁ এই উৎসবে মাতাল হতেও৷ এখানে ফ্লামেনকোন মতো চিরায়ত বিষয়গুলো যেমন আছে, তেমনি আছে ডিসকো৷ তরুণ-তরুণীরা ডিসকোগুলোতেই বেশি যায়৷ আর আকণ্ঠ মদ গেলে৷''

মালাগাবাসীর কাছে এই ফেরিয়া উৎসবের মানে হলো, পান কর, নাচো, গাও, যাও মানুষের আরো কাছাকাছি৷ সময় ফুরিয়ে এল, দুদিন পরই ভাঙবে এই মিলনমেলা৷ আসলেই কী ভাঙবে, নাকি শুরু হবে বছরান্তে আবার উৎসবের প্রতীক্ষা৷ আর সবাই যাই ভাবুক না কেন, পাবলো পিকাসোর জন্ম যে শহরটিতে, সেই মালাগাবাসীর কাছে এটা ইতি নয়, বরং আবার মেলা জমানোর প্রস্তুতি শুরু মাত্র৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ