উৎসবের রঙে মালাগা ভিজছে, ভেজাচ্ছেও | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.08.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

উৎসবের রঙে মালাগা ভিজছে, ভেজাচ্ছেও

ছোট্ট শহর মালাগা, স্পেনের আন্দালুসিয়ায়, ভূমধ্যসাগর কূলে৷ রঙ লেগেছে সেই মালাগায়, উৎসবের রঙ৷

default

‘ফেরিয়া দ্য মালাগা' - এই উৎসবকে এই নামেই ডাকে স্প্যানিশরা

স্পেনের সব পথগুলো এখন যেন এসে মিলেছে মালাগায়৷ সাতদিন ধরে চলছে৷ দুদিন আরো বাকি৷ ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে৷ দেড়শ বর্গমাইলের মালাগায় বাস পাঁচ লাখ মানুষের৷ আর এখন উৎসব আমেজ সেই সংখ্যা ছয় লাখে নিয়ে তুলেছে৷ স্পেনের সবচেয়ে বড় উৎসব বলে কথা৷

‘ফেরিয়া দ্য মালাগা' - এই উৎসবকে এই নামেই ডাকে স্প্যানিশরা৷ কেন এই উৎসব, তা যদি জানতে হয়, তাহলে একটু কষ্ট করে চোখ ফেলতে হবে ইতিহাসের বইতে৷ যেতে হবে আজ থেকে ছয়শ বছর আগে৷ তখন পুরো আন্দালুসিয়া ছিল আরবদের শাসনে৷ এই মালাগাকে আরবরা বলত, মালাকাহ৷ ১৪৮৭ সালে আবার আগের নাম ফেরত পায় মালাগা৷ অবসান ঘটে আরব শাসনের৷ মালাগা আসে স্পেনের রানি ইসাবেলার শাসনে৷ আরবদের অধীন থেকে মুক্তির এই সময়টিকে স্মরণ করতেই এই উৎসব৷ প্রতি বছরই, আগস্টে, আতশবাজি পুড়িয়ে, রঙ ছড়িয়ে, নেচে-গেয়ে৷ বর্ণিল পোশাকে বর্ণাঢ্য প্যারেড তো আছেই৷

Strand in Malaga Spanien

স্পেনের সব পথগুলো এখন যেন এসে মিলেছে মালাগায়

গত সাতদিন ধরে পুরো মালাগাই যেন নাচছে, চঞ্চল হরিণীর মতো৷ এর শুরুটা হয় আতশবাজি পুড়িয়ে৷ এটা এখন নিয়মই হয়ে গেছে, শুরুর দিনটা আতশবাজির৷ বন্দরের পাশের পার্কে জড়ো হয় সবাই, হাতে সুরা, পাশে সাকি, আকাশে আগুনের ফুলকি৷ চলে অনেক রাত পর্যন্ত, এর মধ্যেই ভেসে আসে গান৷ কোনোদিন গায়নি যে, সেও কণ্ঠে কণ্ঠ মেলায়৷ বলে, ভালবাসার কথা৷

এই রাত যেন ভোর না হয় - একটা সময় এটা মনে হলেও পরে আবার মনে হয়, সূর্যটা এত দেরি করছে কেন৷ কারণ, এরই মধ্যে তো সাজগোজ শেষ৷ সকাল হলেই যেতে হবে সিটি হলে৷ আগে গেলে সামনে থাকা যাবে, তাই পড়িমরি করে ছোটা৷ আটোসাঁটো, তবে লম্বা পোশাকে মেয়েগুলো যেন পরীর মতো, কারো চুলে ফুল গোঁজা, কারো বা চুলের উচ্চতা বাড়িয়ে তুলছে নানা বর্ণের কাঁটা৷ হ্রেষা রব পাওয়া গেল, আসছে ঘোড়ার দল, ঘোড়ার এই গাড়িগুলোও উৎসবের এখন অনুষঙ্গ৷ সাজানো, গোছানো৷ একটা, দুটো, তিনটে,,,,,,না, আর থই পাওয়া যাচ্ছে না৷

অনেক,,,,,,,,অনেকগুলো৷ সহিসের আসনে কোনো পুরুষ৷ আর পেছনে, নারী৷ আন্দালুসিয়ার ঐতিহ্য গায়ে জড়িয়ে, ছোট্ট জ্যাকেট, তবে মাথায় হ্যাট, প্রান্ত ছুঁয়ে ঝুলছে ফুল৷ শুরু হবে শোভাযাত্রা, পাড়ি দিতে হবে চার কিলোমিটার পথ৷ যেতে হবে সন্ত ভিক্টোরিয়া চার্চে৷ কেউ শকটে, কেউ পদব্রজে৷ সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সন্ত মারিয়া ভিক্টোরিয়া, অঞ্জলি নিতে৷ সিটি কাউন্সিলর জুলিয়ান সানদেজ জানালেন, সন্ত মারিয়ার এই ভাস্কর্যটি মালাগাবাসীর প্রতি রানি ইসাবেলার উপহার৷

Feria de Malaga Spanien

উৎসব চলে অনেক রাত পর্যন্ত, ভেসে আসে গান

গির্জায় অঞ্চলি দেওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসব, চলে আট দিন পর্যন্ত৷ যার শেষ হবে এই রোববারই৷ শহরের কেন্দ্রস্থল শুরুর দিনই ভরে গেছে, সেখানে বড় তাঁবু টানিয়ে প্যাভিলিয়ন করে দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু তাতে ঠাঁই মিলছে না সবার৷ কোনোমতে এক ধারে স্থান করে নেওয়ার উপায়ও আর নেই৷ তাই যারা পরে আসছে, তাদের থাকতে হচ্ছে শহরের উপকণ্ঠে, হতাশ হয়ে৷ স্থানীয় পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা জুলিয়া আলভারেজ বললেন, ‘‘কাসেতা মানে এই প্যাভিলিয়নগুলোতে থাকতে চায় সবাই৷ কারণ একসঙ্গে সবাই মিলে নাচ-গান, হল্লা-চিল্লা করা যায়৷ অনেক বেসরকারি কোম্পানিও এখন প্যাভিলিয়ন বানিয়ে দিচ্ছে৷''

এই উৎসবের আরেকটি বড় উপাদান হচ্ছে আন্দালুসিয়ার ঐতিহ্যবাহী নাচ ফ্লামেনকো৷ যারা পুরনো দিনের স্বাদ নিতে চান, তারা ভিড় জমান ফ্লামেনকোর আসরে৷ আর এখনকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ডিসকো তো আছেই৷ সেটাই বলছিলেন সামান্থা ফ্রেডেরিক৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার ভাল লাগে গান শুনতে, ফ্লামেনকোর পোশাকগুলোও, আর ঘোড়াগুলোও, ও হ্যাঁ এই উৎসবে মাতাল হতেও৷ এখানে ফ্লামেনকোন মতো চিরায়ত বিষয়গুলো যেমন আছে, তেমনি আছে ডিসকো৷ তরুণ-তরুণীরা ডিসকোগুলোতেই বেশি যায়৷ আর আকণ্ঠ মদ গেলে৷''

মালাগাবাসীর কাছে এই ফেরিয়া উৎসবের মানে হলো, পান কর, নাচো, গাও, যাও মানুষের আরো কাছাকাছি৷ সময় ফুরিয়ে এল, দুদিন পরই ভাঙবে এই মিলনমেলা৷ আসলেই কী ভাঙবে, নাকি শুরু হবে বছরান্তে আবার উৎসবের প্রতীক্ষা৷ আর সবাই যাই ভাবুক না কেন, পাবলো পিকাসোর জন্ম যে শহরটিতে, সেই মালাগাবাসীর কাছে এটা ইতি নয়, বরং আবার মেলা জমানোর প্রস্তুতি শুরু মাত্র৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ