1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

উৎকর্ষের সন্ধানে এবার কলকাতায় ‘সফর' জার্মানির

বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে জার্মানিতে৷ অন্যদিকে, বিশ্বসেরা মেধা রয়েছে ভারতে৷ এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ ঘটাতেই এবার নেয়া হয়েছে একটি নতুন উদ্যোগ৷ নাম – ‘এক্সেলেন্স অন ট্যুর' বা সোজা বাংলায় বললে বলা যেতে পারে ‘উৎকর্ষের সফর'৷

আসলে এটা জার্মানির গ্যোটিংগেন, কোলন, হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট অথবা হুমবোল্ট ফাউন্ডেশন সম্পর্কে পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ, যাকে ওঁরা বলছেন, ‘এক্সেলেন্স অন ট্যুর'৷

‘ডয়চেস ভিসেনশাফ্টস উন্ড ইনোভেশন্স হাউস', অর্থাৎ জার্মান গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের নতুন দিল্লি শাখার উদ্যোগে কলকাতার সায়েন্স সিটি-তে এক সপ্তাহের এই রোড শো-র উদ্দেশ্য আসলে ভারতের এই পূর্বাঞ্চলে উৎকর্ষের সন্ধান করা, যা কার্যত জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাকেন্দ্রগুলির মান আরও উন্নত করতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করবে এবং অবশ্যই মেধাবী ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আরও উন্নত দিশা দেখাবে৷

ভারত থেকে প্রতি বছর বহু ছাত্র-ছাত্রী উচ্চতর শিক্ষা বা গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান৷ কিন্তু এঁরা অধিকাংশই যান অ্যামেরিকায় অথবা ইংল্যান্ডে৷ সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়তে যাওয়ারও একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ কিন্তু সেই তুলনায় জার্মানির

Indien Auftakt der Tournee Excellence on tour der deutschen Unis 23.03.2014 Kalkutta

কলকাতার জার্মান দূতাবাসের কনসাল জেনারেল রাইনার শ্মিডশেন বলেন, তিনি নিজে হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে দেখেছেন, হুমবোল্টের প্রাক্তনীদের মধ্যে এশীয়রাই তৃতীয় বৃহত্তম৷

বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রী সেভাবে যান না৷ যদিও জার্মানির বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আন্তর্জাতিক মানেরই শুধু নয়, পঠন-পাঠনের মান এবং উৎকর্ষের বিচারে এরা অনেকসময়ই আন্তর্জাতিক মানের নির্ণায়ক হয়ে ওঠে৷ অতি উচ্চস্তরের ফ্যাকাল্টি, বহু কৃতি ছাত্র-ছাত্রী, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যতের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী! তবু জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাকেন্দ্রগুলি সম্পর্কে ভারতীয় উচ্চশিক্ষার্থীদের এক ধরনের সংশয় কাজ করে৷

কলকাতার জার্মান দূতাবাসের কনসাল জেনারেল রাইনার শ্মিডশেন যেমন বলছিলেন, তিনি নিজে হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে দেখেছেন, হুমবোল্টের প্রাক্তনীদের মধ্যে এশীয়রাই তৃতীয় বৃহত্তম৷ অতীতে প্রায় ১,৫০০ ভারতীয় বিজ্ঞানী বৃত্তি পেয়েছেন হুমবোল্ট ফাউন্ডেশন থেকে, কিন্তু তার মধ্যে পূর্ব ভারতের পড়ুয়ারা প্রায় হাতে গোণা৷ অথচ এমন নয় যে জার্মানি সম্পর্কে এই অঞ্চলের লোক উৎসাহহীন৷ পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতে যাঁরা বিদেশি ভাষা শিখতে চান, তাঁদের সবথেকে বড় অংশ জার্মান ভাষা শিখতে পছন্দ করেন৷ সে গ্যোটে ইনস্টিটিউটেই হোক, বা নিজেদের স্কুল-কলেজে বা অন্য কোনো ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে৷

সম্ভবত সেই কারণেই কলকাতার সায়েন্স সিটি-তে সপ্তাহজুড়ে যে রোড শো চলছে, সেখানে চটজলদি কিছু জার্মান শিখে নেওয়ারও একটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ এছাড়া জার্মান ফুটবল বা জার্মান চলচ্চিত্র নিয়েও আলাদা আড্ডার ব্যবস্থা রয়েছে মূল আলোচনা সভাগুলির সমান্তরালে৷ তবে মূল বিষয় অবশ্যই জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা৷ জার্মান গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের ছাতার তলায় যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের সবার খ্যাতিই বিশ্বজোড়া৷

সেই হুমবোল্ট বা মাক্স প্লাংক ছাড়াও বার্লিনের মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, হাইডেলব্যার্গ, গ্যোটিংগেন, কোলন, আখেন বা মিউনিখের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিনিধিত্ব আছে কলকাতার এই রোড শো-তে৷

এদের সঙ্গে আছে জার্মান শিক্ষার্থী বিনিময় সংস্থা ডিএএডি, জার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশন, বাভেরিয়ান-ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি কোঅপারেশন, জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জিআইজেড, ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউট এবং ইন্দো-জার্মান চেম্বার অফ কমার্স৷

সাত দিনের রোড শো-কে নানা পর্যায়ে এবং নানা অনুষ্ঠানে ভাগ করে এরা সবাই একটাই বার্তা দিতে চাইছেন উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী পূর্ব ভারতের ছাত্র-ছাত্রীদের যে শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার মান এবং পরিবেশের বিচারে জার্মানিই হওয়া উচিত তাঁদের প্রথম পছন্দ৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক বক্তাই বলেছেন এ কথা৷ এছাড়া তাঁদের কথায়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর কাজের সুযোগও পাওয়া যাবে জার্মানিতে৷ উচ্চশিক্ষিত এবং যোগ্য প্রার্থীরা যাতে সমান সুযোগ পান, সেজন্য জার্মানির আইনও সংশোধিত হয়েছে৷ সুতরাং জার্মানির দরজা এখন খোলা বিদেশি উচ্চশিক্ষার্থী এবং যোগ্য কর্মপ্রার্থীদের জন্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন