1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘উপজেলা নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোট বৃহস্পতিবার৷ এই ধাপে ১১৬ উপজেলায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে সকল ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা৷ বন্ধ আছে সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল৷ এখন উত্‍সব আমেজে শুধু ভোট গ্রহণের অপেক্ষা৷

সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচনি আইন-কানুন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার কথা৷ কিন্তু দুঃখজনক হলো, একক প্রার্থী নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মনোনীত বা নির্ধারিত প্রার্থী ছাড়া অন্যান্যদের প্রার্থিতা প্রত্যাহরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে৷ বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার শামিল, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন৷ রাজনৈতিক দলগুলোর এই আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনও চুপচাপ৷''

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ৮ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন৷ নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা না থাকলেও, মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী৷ পর্যাপ্ত ব়্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যও নামানো হয়েছে৷ এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে ব্যালট বাক্স, পেপার, কলম পেন্সিল, অমোচনীয় কালিসহ ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ৷ অর্থাৎ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটের লড়াই৷

নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পুরো প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে৷ কোথাও কোনো অনিয়ম বা গোলযোগের খবর পেলে সেই সব কেন্দ্রের ভোট বন্ধ রাখার জন্যও বলা হয়েছে৷ তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, তাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ হবে বলে আশা তাঁর৷

এই ১১৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ৫০৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ৫১১ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ৩৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন৷ ভোট গ্রহণ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে দায়িত্ব অবহেলায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ শুধু তাই নয়, ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ঐ সব এলাকায় জনসভা, অনুষ্ঠান, মিছিল ও শোভাযাত্রার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে বিএনপি বেশ ভালো ফল করেছে৷ এখন দেখার বিষয় এই নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ফল পক্ষে নিতে অবৈধ কোনো পন্থা গ্রহণ করে কিনা৷ যদি আওয়ামী লীগ সে পথে না যায়, তাহলে সেটা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে৷

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হলে সারা দেশ মিছিলে ও প্রতিবাদে উত্তাল করে তোলা হবে৷ রিজভী অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সমর্থক প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা হচ্ছে৷ যদি নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মিছিলে মিছিলে সারা দেশ উত্তাল করে তোলা হবে৷ এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে যে সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকবেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা তালিকা আকারে তৈরি করে রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন