1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘উপজেলা নির্বাচনেও যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না ইসি’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় আবারো ভোটের জন্য প্রস্তুত ৪০টি জেলা৷ এবার ভোট হচ্ছে উপজেলায়৷ বুধবার ৪০টি জেলার ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে৷ সংসদ নির্বাচন একপাক্ষিক হলেও উপজেলা নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে৷

এই নির্বাচন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিচ্ছে৷ এমনকি বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে৷ শুধু তাই নয়, উপজেলা নির্বাচন শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার, নির্বাচন কমিশনে এই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগও জানিয়ে এসেছে তারা৷

এবার যেসব উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে, তা চতুর্থবারের মতো৷ এর আগে গত গত ৪৩ বছরে মাত্র তিনবার এসব উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে৷ প্রথম ধাপের এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন৷ এই নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার খুব একটা আশঙ্কা না থাকলেও, পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে৷ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৯৭টি উপজেলায় ভোট উত্‍সব শুরু হবে৷ এ উপলক্ষ্যে ওই সব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী৷ এর বাইরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব়্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদেরও নামানো হয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত অবশ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি৷

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন নিবার্চন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ৷ এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ইসি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন৷ মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন এ সেল কাজ করবে৷ নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী অনিয়ম নিয়ে কাজ করবে এই সেল৷ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংও করা হবে৷

গত ১৯শে জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপের ১০২টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও, বুধবার ভোট হবে ৪০ জেলার ৯৭টি উপজেলায়৷ সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে রংপুরের চারটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে৷ এছাড়া রংপুরের আরেকটি উপজেলার ভোট হবে ২৪শে ফেব্রুয়ারি৷ ৪৮৭টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ছয় ধাপে করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসি৷ দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় ২৭শে ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ৮৩টি উপজেলায় ১৫ই মার্চ এবং চতুর্থ ধাপে ভোট হবে ৪২টি জেলা ও ৯২টি উপজেলায় ২৩শে মার্চ৷ কিছুদিনের মধ্যে পঞ্চম ধাপের তফসিল ঘোষণা করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন৷

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি পৌঁছে দেয়৷ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনে কমিশন বা ইসি ‘যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না'৷ ইসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলামের কাছে চিঠি পৌঁছে দিয়ে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বিকার, নিলিপ্ত৷ যদি এই কমিশন কিছুটা হলেও নিজেদের স্বাধীন মনে করে, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তাহলে এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের৷'' তিনি বলেন, যদি ৫ই জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, জনগণ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না৷ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে৷ তিনি জানান, ৫ই জানুয়ারির ‘তামাশা'-র নির্বাচনের আগে ও পরে যে ‘গুম, গণহত্যা, ও গণগ্রেপ্তার' হয়েছে – তা তুলে ধরা হয়েছে ঐ চিঠিতে৷

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একইভাবে দলের প্রার্থীদের বাড়িতে আক্রমণ, লুটপাট, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছে৷ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে৷ তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷ সুষ্ঠু নির্বাচন করার দায়িত্ব ইসির, সে দায়িত্ব তারা যথাযথভাবে পালন করছে না৷ এর আগে দলের বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সভা-সমাবেশে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও ইসি ‘নির্বিকার' থেকেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়