1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

উন্মোচিত হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু যিশু মূর্তি

এমনিতেই রবিবার ছুটির দিন, মোটামুটি ভিড় হয় টুরিস্টদের ৷ কিন্তু এই রবিবার পোল্যান্ডের পশ্চিমের শহর সুইবোজিনে ভিড় যেন উপচে পড়ছিল৷ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বিশ্বের সবচে বড় যিশু মূর্তিটির উদ্বোধনে৷

Roman, Catholic, giant, statue, Jesus, Christ, Swiebodzin, Poland, Christ the King, পৃথিবী, সবচেয়ে উঁচু যিশু মূর্তি

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু যিশু মূর্তি

প্রায় হাজার পনেরো খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী পর্যটক এসেছিলেন সুইবোজিনে৷ ভ্রমণেচ্ছু পর্যটকদের ভ্রমণে আরেকটি স্মরণীয় উপলক্ষ যুক্ত করেছিল যিশুখ্রিষ্টের এই দীর্ঘ মূর্তিটির উন্মোচনের ক্ষণটি৷ পোলিশ টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করেছিল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি৷ টিভি পর্দায় আবেগতাড়িত খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘ মিছিলে জনাকীর্ণ রাস্তা-ঘাট, নানা ধর্মীয় বাণী সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনে সুইবোজিন যেন কোনো পীঠস্থানের চেহারাই পেয়েছিল৷ খ্রিষ্ট হচ্ছেন মহাবিশ্বের রাজা- এমন কথা লেখা ব্যানারগুলো আকাশে উঁচিয়ে ধর্মপ্রাণ অনেক ক্যাথলিক এগিয় যাচ্ছিলেন সদ্য উন্মোচিত যিশুর সুদীর্ঘ মূর্তিটির আরো কাছে৷

মাটি থেকে, বলা চলে স্থাপিত মূর্তিটির ভিত্তি থেকে শীর্ষ পর্যন্ত উচ্চতা হচ্ছে ৩৩ মিটার৷ বিশপ স্টেফান রেগমুন্ট যিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন, সদ্য স্থাপিত সুদীর্ঘ যিশুমূর্তিটির দিকে তাকিয়ে বলছিলেন- যিশুখ্রিষ্টের এই স্মারকটি তাঁর প্রতি আমাদের গভীর বিশ্বাসেরই একটি অভিপ্রকাশ৷ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কার্ডিনাল হেনরিক গুলবিনোভিজ৷

Greenpeace erinnert an Rio

এতোদিন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু যিশু মূর্তি ছিল রিও ডি জেনেরিও শহরে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটি

স্থানীয় রোমান ক্যাথলিক পুরোহিত সিলভেস্টার জাভাডস্কি, যিনি এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছেন৷ মাত্র কিছুদিন আগেই অবসরে গেছেন৷ উন্মোচিত যিশুমূর্তিটি সম্পর্কে বলছিলেন- যিশুমূর্তিটির এই ৩৩ মিটার বা একশো আট ফুট উচ্চতার বিষয়টি আসলে পৃথিবীতে যিশুখ্রিষ্টের ৩৩ বছর অবস্থানের একটি প্রতীক৷ পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানের সময়টিকে বোঝাতেই এর উচ্চতা ৩৩ মিটার বানানো হয়েছে৷

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর দিক মুখ করে থাকা পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত স্ট্যাচু অফ ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারের চেয়ে সুইবোজিনের যিশুমূর্তিটির উচ্চতা তিন মিটার বেশি দীর্ঘ৷ সুইবোজিনের যিশুমূর্তিটির ওজন চারশো চল্লিশ টন৷ একটি তিন মিটার উচ্চতার সোনার মুকুটে যিশু সবমিলিয়ে ছত্রিশ মিটার উচ্চতায় আকাশ ছুঁয়েছেন৷ আটাত্তর বছর বয়স্ক ক্যাথলিক পুরোহিত জাডাভস্কি বলছিলেন- ক্যাথলিক পোল্যান্ডে আগত সবাইকে যিশু স্বাগত জানাবেন৷ তিনি বলেন- এই মনুমেন্টটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যই স্থাপিত হয়েছে নিছক আকর্ষণ বাড়ানোর কোনো স্মারক এটি নয়৷

তবুও ৯০ কিলোমিটার ধেয়ে আসা উপচে পড়া জার্মান পর্যটকদের দ্রুত জ্বলে জ্বলে ওঠা ক্যামেরার ফ্লাশে, তাদের এই স্যুভেনির আলোকচিত্রের আগ্রহে ফাইবার গ্লাস আর প্লাস্টারে নির্মিত প্রশান্ত যিশুর মুখ যে সবাইকে গভীরভাবেই আকর্ষণ করছিল এটা বলাই বাহুল্য৷ সেখানে কতোটা ধর্মবোধ ছিল আর কতোখানি ছিল সৃষ্টিশীলতার প্রতি প্রেম, তা মাপতে যাওয়াটাই বোকামি৷

প্রতিবেদন: হুমায়ূন রেজা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন