1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উধাও দুই ভাই হঠাৎ আইএস-এর পতাকাতলে

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ ১০ যুবকের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল৷ তালিকার দুই যুবক হঠাৎই আত্মপ্রকাশ করল৷ জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পতাকা সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবি প্রকাশ করেছে তারা৷

যুবক দু'জনের নাম ইব্রাহিম হাসান খান ও জুনায়েদ হোসেন খান৷ তারা সহোদর ভাই৷ হোলি আর্টইজানে হামলার পর ১০ যুবকের তালিকা প্রকাশ করে সন্ধান জানতে চাইলেও পুলিশ এতদিন তাদের সন্ধান পায়নি৷ অবশেষে হঠাৎই আইএসের পতাকা, অস্ত্র এবং কোমল পানীয় নিয়ে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেছে তারা৷ ছবিতে আরেক বাংলাদেশিকেও দেখা গেছে৷

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান ওই যুবকদের বিষয়ে তদন্ত চলছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছি৷ তারা অনেকদিন ধরেই আমাদের লিষ্টে ছিল৷ আমরা তাদের খুঁজছিলাম৷ কিন্তু পাইনি৷ হঠাৎ করেই ফেসবুকে ছবি দেখা যায়৷ আর হোলি আর্টিজানে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল বা তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ সবকিছুরই তদন্ত চলছে৷''

অডিও শুনুন 00:58

‘হোলি আর্টিজানে হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

গত বৃহস্পতিবার ইব্রাহিম হাসান খান তার ফেসবুকে ছবি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা তুলে নেয়৷ এই দুই ভাই হচ্ছেন হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলাকারী পাঁচজনের মধ্যে মীর সামেহ মুবাশ্বিরের আপন চাচাত ভাই৷ মুবাশ্বিরের বাসা বনানীর পুরাতন ডিওএইচএস-এর ৫ নম্বর রোডের ৬৮/এ নম্বর বাড়ির ৫/বি ফ্ল্যাটে৷ মুবাশ্বিরের সঙ্গে ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল৷ ইব্রাহিমের ফেসবুকে হোলি আর্টিজানে খাওয়ার এবং বন্ধুদের সঙ্গে তোলা ছবি আপলোড করা হয়েছে৷ গোয়েন্দাদের ধারণা হোলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে দুই সহোদরের কোনো-না-কোনো সম্পর্ক আছে৷ তাদের ফেসবুকে হোলি আর্টিজানের যে ছবি দেয়া হয়েছে তাতেও সেরকম ইঙ্গিত আছে বলে মনে করছেন তারা৷

ইব্রাহিম ও জুনায়েদ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন৷ ইব্রাহিমের বাবা মনির হোসেন সৌদি আরবে কর্মরত৷ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যে ফ্ল্যাটে ইব্রাহিম-জুনায়েদের পরিবার থাকত, সেই ভবনের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শাহাদত হোসেন বাচ্চু জানান, বছরখানেক ধরে ওই পরিবার দেশে নেই৷ এক বছরের বেশি সময় আগে একবার তিনি বাবা ও দুই ছেলেকে একসঙ্গে দেখেছিলেন৷ মনির হোসেন দেখতে বেশ লম্বা, মুখে দাড়ি আছে৷ ছেলেরাও তার মতোই লম্বা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী৷ তারা বেশিদিন ঢাকায় থাকতেন না৷ কোথায় থাকতেন সে ব্যাপারে তেমন কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছেন মনির হোসেন৷

ইব্রাহিম সৌদি আরবের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশুনা করেছেন – এমন তথ্য জানিয়ে মালয়েশিয়ার সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান ইসলাম জানান, এক সময় সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইব্রাহিমের পরের ক্লাসের ছাত্র ছিলেন তিনি৷ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে ফেসবুকেই তার যোগাযোগ হয়েছিল৷ এর বেশি কোনো যোগাযোগ ছিল না৷ তবে ইব্রাহিম উগ্রপন্থিদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন – এমন কোনো আভাস সে সময় তিনি পাননি৷

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রকাশ করা নিখোঁজের তালিকায় ইব্রাহিমদের দুই ভাইয়ের নাম আসার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ঐ ভবনের কেয়ারটেকার আবদুর রহমান জানান, মনির হোসেনের জামাতা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি গত এপ্রিলে ফ্ল্যাটের সার্ভিস চার্জ শোধ করেছিলেন৷ মে ও জুন মাসের টাকা তখনও বকেয়া ছিল৷ ওই বাসায় যারা থাকত তারা কারো সঙ্গে তেমন মিশত না৷

উধাও হয়ে যাওয়া দুই ভাই যে আইএস-এ যোগ দিয়েছে, এটা কি ভাবা যায়? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়