1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষায় জার্মান সংস্থা জিআইজেড

জেলেরা হঠাৎ মাছ ধরা ছেড়ে কুমিরের খামার অথবা ঝিনুকের চাষ করলে, সেটা বোধগম্য৷ এই পদ্ধতিতে রোজগার বাড়ে, পরিবেশও বাঁচে৷ কিন্তু সামুদ্রিক কাছিমদের বাঁচিয়ে রাখাটা শুধু পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে৷

ভিডিও দেখুন 05:33

মেক্সিকোতে কুমির চাষ

কুমিরের চামড়ার খুব কদর৷ ক্রোকোডাইল লেদারের জিনিসপত্র লাক্সারি আইটেম হিসেবে বেশি দামে বিক্রি হয়৷ সরকারিভাবে ১৯৭৫ সাল যাবৎ এখানে কুমির মারা নিষেধ৷

মেক্সিকোর সিনোলোয়া প্রদেশের এই খামারটিতে কুমিরের চাষ করা হয়৷ তবে শুধু বিক্রির জন্যই নয়, যদিও একটি কুমিরের চামড়া ৫০০ ইউরো মূল্যে বিক্রি করা যায়৷ অপরদিকে মুক্ত প্রকৃতিতে কুমিরদের সংখ্যা বাড়ানোও এই প্রকল্পের একটি উদ্দেশ্য৷ ‘কুমিরচাষি' উমব্যার্তো মন্তোয়া ইনজুনজা জানালেন, ‘‘প্রকল্পটা অর্থকরী, এ থেকে আমাদের বেশ রোজগার হবে৷ আমাদের কুমিরের চামড়া বিক্রির অনুমতি আছে৷''

জিআইজেড-এর ‘বায়োমার' কর্মসূচি

জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড জানার চেষ্টা করছে, কোন প্রকল্প দিয়ে টেকসইভাবে প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতিদের বাঁচানো যায়৷ এখানে শুধু বিক্রিবাটার কথা ভাবলে চলবে না৷ ব্রিডাররা শুধু তখনই বিক্রি করতে পারবেন, যদি তারা তার আগে কিছু প্রাণীকে মুক্তি দিয়ে থাকেন৷ ততদিন অবধি খামারটা চলবে মেক্সিকোর সংরক্ষিত এলাকা পরিষদের অর্থানুকুল্যে৷

জিআইজেড-এর ‘বায়োমার' কর্মসূচির কর্মী সোনিয়া গত্রো জানালেন, ‘‘এই প্রকল্পের কিছু ইতিবাচক ফলশ্রুতি আছে৷ যেমন যে সব পরিবার আগে মাছ ধরত, কুমিরের খামার করে তাদের একটা বিকল্প রোজগারের পথ খুলবে৷ পরিবার চালানোর মতো না হলেও, এর ফলে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে৷ এছাড়া স্থানীয় কুমিরদের সংখ্যা বাড়বে৷''

মেক্সিকোর সংরক্ষিত এলাকা পরিষদ সদ্য ক্যালিফর্নিয়া উপসাগরের উপকূলবর্তী খাড়িগুলোতে ১২০টি জীয়ন্ত কুমির ছেড়েছে৷ কুমিরের ডিম পাড়ার মতো বয়স হতে দশ বছর সময় লেগে যায়৷ এলাকার জেলেরা কুমিরদের ভয় পেলেও, পরিবেশ সুরক্ষায় কুমিরদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷

মেক্সিকোর সংরক্ষিত এলাকা পরিষদ ‘কনানপ'-এর আলব্যার্তো মেন্দোথা ফ্লোরেস বললেন, ‘‘কুমিররা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ওরা শিকারি জীব, ওরা অন্যান্য প্রাণীদের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখে৷ কুমিররা বিশেষ করে অসুস্থ জন্তু-জানোয়ার শিকার করে৷ শুধুমাত্র সুস্থ পাখি,সরীসৃপ বা মাছেরা যাতে এই পরিবেশে বাঁচে, সেটা নিশ্চিত করে কুমিররা৷''

ঝিনুক চাষ

প্রাণীবৈচিত্র্যে গাল্ফ অফ ক্যালিফর্নিয়াকে বিশ্বের সমৃদ্ধতম সামুদ্রিক এলাকাগুলির মধ্যে ফেলা যায়৷ শুধু এখানেই ১৮টি সংরক্ষিত এলাকা আছে৷ যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধ লেগেই থাকে৷ এখানকার মানুষ ঝিনুকের চাষ করেন৷ আগে তার জন্য ডাল কাটা হতো উপকূলের ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূল অরণ্য থেকে৷ ঝিনুকের চাষ আবার জলের উৎকর্ষ বাড়ায়, কেননা ঝিনুক হানিকর পদার্থ ছেঁকে বার করে নেয়৷ কিন্তু ঝিনুক চাষে কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে৷ ঝিনুকচাষি হোসে আঙ্খেল সেখা গনসালেস জানালেন, ‘‘আগে অনেকে ম্যানগ্রোভ থেকে ডাল কাটত, ফলে গাছগুলো আর বাড়তেই পারত না৷ মারিমাস একটা সংরক্ষিত এলাকা হবার পরে আমরা আর ম্যানগ্রোভের গাছ কাটি না৷''

ঝিনুক চাষ এই এলাকার একটা সফল প্রকল্প৷ মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ও জিআইজেড সংস্থা ঠিক এই ধরনের সব প্রকল্প খুঁজছেন, যা অন্যান্য এলাকাতেও চালু করা যেতে পারে৷ সোনিয়া গত্রো বললেন, ‘‘জলাভূমি অঞ্চলে পরিবেশের হানি না ঘটিয়ে যে কী করা সম্ভব, তা এখানে দেখা যায়৷ আমাদের ‘বায়োমার' কর্মসূচিতে আমরা অন্যান্য এলাকাতেও এদের উদাহরণ দেখিয়েছি৷''

দানিয়েল রিয়স অলমেদা ক্যালিফর্নিয়া উপসাগরের সবচেয়ে পুরনো সংরক্ষণ প্রকল্পটির পরিচালক৷ গত ৪১ বছর ধরে তিনি সামুদ্রিক কাছিমদের রক্ষাকর্তা৷ এই কাছিমরা যাতে বিলুপ্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য৷ দানিয়েল বললেন, ‘‘এই ৪১ বছরে আমি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ কাছিমদের সাগরে ছেড়ে দিতে পেরেছি৷''

আজ তিনি স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ছেলে-মেয়েদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন: সকলে মিলে একসঙ্গে বেবি কাছিমদের মুক্তি দেবেন৷ ক্ষুদে কাছিমরা তাদের আদিম প্রবৃত্তি অনুযায়ী সোজা সাগরের দিকে দৌড় দেয় আর এই স্কুলের বাচ্চারাই তখন তাদের বাবা-মায়েদের বলে, ‘না বাবা, তুমি আর কাছিম ধরতে পারবে না৷' বেবি কাছিমদের মধ্যে অতি অল্পই এতদিন বেঁচে থাকবে যে, তারা আবার ডিম পাড়ার জন্য এই বেলাভূমিতে ফিরে আসবে৷ তবুও এই সংরক্ষণ প্রকল্প কাজ দিয়েছে বৈকি৷

ইওয়ানা গটশাল্ক/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও