1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উদ্ভিদজাত জ্বালানি কি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?

পরিবহণের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানলের গুরুত্ব বেড়ে চলেছে৷ তবে খাদ্যের বদলে জ্বালানি হিসেবে উদ্ভিদের ব্যবহার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক৷ ব্যবহার বেশি না হলেও জার্মানি, অ্যামেরিকা ও ব্রাজিলের মতো দেশে চলছে নানা উদ্যোগ৷

জার্মানিতে ইথানল-ভিত্তিক ‘ই-টেন' পেট্রোল চালু করার সময় ভাবা হয়েছিল, যে এর মাধ্যমে ইইউ-র কার্বন নির্গমন সংক্রান্ত ঊর্ধ্বসীমা মেনে চলা যাবে৷ গাড়ি নির্মাতা, পেট্রোলিয়াম কোম্পানি বা অটোমোবাইল সংগঠন –কেউ কিন্তু ক্রেতাদের এ বিষয়ে আগেভাগে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি৷

‘ই-টেন' পেট্রোলের মধ্যে ১০ শতাংশ কৃষিজাত উপকরণ থাকে৷ জার্মানির মানুষ কিন্তু প্রথমে এই পেট্রোলের উপর ভরসা করতে পারেননি৷ তাঁদের মনে হয়েছিল, এর ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে৷ বর্তমানে পেট্রোল বিক্রির প্রায় ১৫ শতাংশ ‘ই-টেন'-এর ভাগে পড়ে৷

তবে বৃদ্ধি সেখানেই থমকে থাকার একটি কারণ রয়েছে৷ কৃষিজাত উপকরণ পেট্রোল ট্যাংকে না খাবারের প্লেটে যাওয়া উচিত, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ জার্মানিতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রেপসিড দিয়ে অরগ্যানিক পেট্রোলিয়াম তৈরি করা হয়৷

সেইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণকারীরাও আবার সমালোচনা শুরু করেছেন৷ তাঁদের মতে, বায়ো-ইথানল জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকারক৷ ‘ই-টেন' চালু করার ঠিক পরেই ডাব্লিউডাব্লিউএফ সংস্থার কৃষি বিশেষজ্ঞ মাটিয়াস মাইসনার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাড়তি গাছ মানেই আরও কৃষিজমি এই কাজে লাগানো হবে৷ কৃষি বিশেষজ্ঞ মাটিয়াস মাইসনার বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে – যখন জঙ্গল সরিয়ে, কাঠ কেটে আখ, গম বা ভুট্টার চাষের জন্য কৃষিজমি তৈরি করা হয়, তখনই কিন্তু কার্বন ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি হয়৷ এইভাবে জমির ব্যবহার বদলে যে কার্বন নির্গমন ঘটে, সেটাই আসল সমস্যা৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে৷ ২০১৭ সাল পর্যন্ত শস্য দিয়ে তৈরি জ্বালানির ঊর্ধ্বসীমা ৭ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক গাড়ি সহ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷

অন্যান্য দেশে আরও ভালো সমাধানসূত্র উঠে আসছে৷ যেমন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইথানল-প্রস্তুতকারক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছর ধরে তথাকথিত ‘বায়োফুয়েল প্ল্যান' চালু আছে৷ সেখানে পেট্রোলের মধ্যে ইথানলের অংশ ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে৷

উৎপাদিত ভুট্টার প্রায় অর্ধেকই সরাসরি গাড়ির ট্যাংকে চলে যায়৷ পেট্রোলের ক্ষেত্রে এমন টেকসই উপাদানের মাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ৷ আইওয়া রাজ্য পুরোপুরি অরগ্যানিক জ্বালানির পথে এগোচ্ছে৷ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে হাজার-হাজার চাকরি জড়িয়ে রয়েছে৷

ব্রাজিলে আখের রস দিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি গাড়ির ট্যাংকও ভরা হয়৷ দক্ষিণ অ্যামেরিকার এই দেশটি অরগ্যানিক ইথানলের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ও ব্যবহারকারী৷ ২০০৮ সাল থেকে ব্রাজিলে পেট্রোলের তুলনায় বেশি ইথানল বিক্রি হচ্ছে৷ বেশিরভাগ নতুন গাড়িতে বিশেষ ইঞ্জিন বসানো থাকে, যা বিশুদ্ধ ইথানল ও সাধারণ পেট্রোলেও চলে৷ তবে প্রশ্ন হলো, এর জন্য রেন ফরেস্টের কত অংশ বলি দিতে হয়েছে৷

গাছের অবশিষ্ট অংশ বা অ্যালজি দিয়ে তৈরি ইথানলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সে তুলনায় অনেক কম৷ তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের তথাকথিত এই সব অরগ্যানিক জ্বালানি এখনো বড় আকারে উৎপাদনের সময় আসেনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক