1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘উদ্বাস্তু সংকট হলো শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ'

জার্মানিতে এত কম সময়ে এ পরিমাণ অভিবাসন এর আগে কখনো ঘটেনি৷ এর ফলে যেমন নবাগত, তেমনই স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক কিছু করতে হবে, বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ৷

জার্মানিতে এ বছর দশ লক্ষ কিংবা তারও বেশি উদ্বাস্তু বা শরণার্থী এসেছেন৷ দশ লাখ মানুষ, যাঁরা আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং নতুন জীবনের আশা নিয়ে এসেছেন এখানে৷ দশ লাখ মানুষ মানে একটা বড় শহর! দশ লাখ মানুষ যাঁদের এখনই আবাস চাই, কর্ম চাই – তার আগে জার্মান ভাষাশিক্ষার সুযোগ চাই: ছোটরা শিখবে কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলে, বড়দের জন্য চাই আলাদা পাঠক্রম৷ এটা জার্মানদের পক্ষে একটা সুবিশাল কাজ, উদ্বাস্তুদের জন্য তো বটেই৷ এ কাজ সম্পন্ন করতে জার্মানদের সম্ভবত দুই প্রজন্ম লেগে যাবে৷

মূল্যবোধের ফারাক

অধিকাংশ উদ্বাস্তু এসেছেন সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও ইরিট্রিয়া থেকে৷ তাঁরা যে সব সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে এসেছেন, সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই৷ তাঁরা যে সব সমাজব্যবস্থা থেকে এসেছেন,

Alexander Kudascheff DW Chefredakteur Kommentar Bild

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

সেখানে ধর্মীয় সংযোগসূত্রটা খুবই শক্তিশালী, সেখানে ব্যক্তির তুলনায় পরিবার বা সম্প্রদায়ের গুরুত্ব অনেক বেশি৷ তাঁরা আসছেন পিতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে, যেখানে দেশ স্বদেশ না হয়ে শত্রুর সমান৷

অথচ এই উদ্বাস্তুরা যে সমাজে এসে পড়ছেন, তা সম্পূর্ণ আলাদা৷ জার্মানিতে ব্যক্তির মূল্য সমষ্টির চেয়ে বেশি; পরিবার ভেঙে গেলে রাষ্ট্র সব ঝুঁকি, সব দুর্যোগের বিরুদ্ধে বীমা হিসেবে কাজ করে৷ নারী-পুরুষের সাম্যের ক্ষেত্রেও তা শর্তহীনভাবে প্রযোজ্য, যৌনতার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বাধীনতা ও অধিকার নিঃশর্ত৷ জার্মানি একটি মুক্ত সমাজ৷

সংঘাতের ক্ষেত্রে দু'পক্ষকেই বদলাতে হবে, পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করা শিখতে হবে – অভিবাসীদের পক্ষে যা আরো শক্ত হবে৷ তাঁরা জার্মানিকে তাঁদের নতুন স্বদেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন; কাজেই তাঁদের এখানকার আচার-আচরণ ও ধ্যানধারণার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে৷ যে সব জিনিস তাঁদের কাছে কিম্ভুত এমনকি কদর্য বলে মনে হয়, সে সব জিনিসও তাঁদের মেনে চলতে হবে৷ তাঁদের এখানকার জীবনধারার অঙ্গ হয়ে উঠতে হবে – নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ভাযাগত সত্তা বিসর্জন না দিয়ে৷ কিন্তু জার্মানি সিরিয়া কিংবা ইরিট্রিয়া নয় এবং এখানে সেই সব দেশের মতো থাকা সম্ভব নয়৷

এক নতুন জার্মানি

জার্মানিকেও বদলাতে হবে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন যে, ২৫ বছর পরে এই দেশ আরো উন্মুক্ত, আরো কৌতূহলী, আরো রোমাঞ্চকর ও আরো সহিষ্ণু হয়ে দাঁড়াবে৷ অপরদিকে বলা যেতে পারে, জার্মানি তো অনেকদিন ধরেই এইরকম ছিল৷ তা সত্ত্বেও জার্মানি বদলাবে৷ জার্মানি তার আধুনিক সত্তাকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপনা করবে, যুগপৎ বাকি বিশ্বের সম্বন্ধে আরো বেশি আগ্রহী হবে৷

ইসলামি সংস্কৃতি তো শুধু শরিয়া আইন নয়, নারী অধিকার দমন নয়, বোরখা ধারণ নয় – দৈনন্দিন জীবনে সে সবই থাকতে পারে৷ কিন্তু যে সুপ্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতি মধ্যযুগে ইউরোপ থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল, তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল ইসলাম৷ ইসলাম মানে নানা ধরনের ঐশ্বর্য, স্থাপত্য, সাহিত্য ও দর্শন৷ মহাকবি ভল্ফগাং ফন গ্যোটে তাঁর বিভিন্ন কবিতায় ইসলামি সংস্কৃতির যে নিঃসংকোচ ও সমালোচনামূলক চিত্রটি তুলে ধরেছেন, আমাদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে আবার পরিচিত হতে হবে৷

স্বপ্ন হতে বিদায়

উদ্বাস্তু নীতি দু'টি ভ্রান্তিতে ভুগছে৷ প্রথমটি হলো, ‘জার্মানি অভিবাসনের দেশ নয়', এ কথা বলা৷ কথাটা আগেও সত্যি ছিল না, এখন তো নয়ই৷ দেশ হিসেবে জার্মানি খুবই আকর্ষণীয়, সেই জন্যই মানুষজন এখানে আসতে চান৷ দ্বিতীয় ভ্রান্তি: উদ্বাস্তু নীতি ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রদানের নীতি হলো বস্তুত অভিবাসন নীতি৷ রাজনৈতিক বিচারে এর কোনো অর্থ দাঁড়ায় না, কেননা অভিবাসীদের নেওয়া হয় সংখ্যার ভিত্তিতে – উদ্বাস্তুরা কোনো সংখ্যা বা পরিসংখ্যানের তোয়াক্কা না করেই আসেন৷

তা সত্ত্বেও উদ্বাস্তুদের শীঘ্র জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, ভাষাগত এবং পেশাগত ভাবে৷ মানসিক দিক দিয়েও: তাঁরা জার্মানিকে তাঁদের আশাপূরণের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন৷ এবার তাঁদের এই মুক্ত সমাজকে তাঁদের নিজেদের সমাজ করে তুলতে হবে৷

আপনি কি আলেক্সান্ডার কুডাশেফের সঙ্গে একমত? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়