1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

উদ্বাস্তু কোটা বৈধ, বলল ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির জন্য উদ্বাস্তু নেয়ার বাধ্যতামূলক কোটা নির্দেশ করার নীতি বৈধ বলে ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস (ইসিজে) রায় দিয়েছে৷

স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি এই কোটা চ্যালেঞ্জ করেছিল৷ বুধবার ইসিজে সেই চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যান করে৷ পূর্ব ইউরোপের ইইউ দেশ আর পশ্চিমের সদস্যদেশগুলির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক মনোমালিন্য চলেছে৷

ইউরোপীয় আদালতের মতে, জাতীয় সরকারবর্গকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের একটি ন্যায্য অংশ নিতে বলার অধিকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের আছে৷ আদালতের যুক্তি, ‘‘এই প্রক্রিয়া গ্রিস ও ইটালিকে ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করবে এবং (প্রক্রিয়াটি) অনুপাত সম্মত৷’’

আদালতের রায়ের অর্থ এই যে, কোটা প্রণালী অনুসরণ করে চলতে অস্বীকার করলে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও অপরাপর সদস্যদেশকে জরিমানা দিতে হতে পারে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলির একটি বড় অংশ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই বাধ্যতামূলক কোটা অনুমোদন করে৷ কিন্তু পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরি তা প্রত্যাখ্যান করেছিল৷

ইসিজে-তে কোটা পদ্ধতি চ্যালেঞ্জ করার সময় স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির যুক্তি ছিল যে, ইইউ এই কোটা অনুমোদন করার মাধ্যমে তার নিয়মাবলী ভঙ্গ করেছে ও নিজের এক্তিয়ার ছাড়িয়ে গেছে৷

পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির ইসিজে-তে যাওয়া সমর্থন করে – হাঙ্গেরির মতো পোল্যান্ডও কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নেয়নি৷ স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র অল্প কিছু রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নিয়েছে৷

গ্রিস ও ইটালি থেকে যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার উদ্বাস্তু নেওয়ার কথা ছিল৷ এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে মাত্র ২৪,০০০ উদ্বাস্তুকে ইইউ-এর ভার বণ্টন নীতি অনুযায়ী অপরাপর দেশে পাঠানো হয়েছে৷ ঐ নীতি অনুযায়ী, হাঙ্গেরির ১,২৯৪ জন উদ্বাস্তু ও স্লোভাকিয়ার ৯০২ জন উদ্বাস্তু নেওয়ার কথা৷ 

অভিবাসন কোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অস্বীকার করার কারণে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন৷

ইসিজে-র রায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ইটালির মতো পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির জন্য জয়ের সমতুল, কেননা তারা অভিবাসন প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ‘সংহতি’ দাবি করে আসছে৷

২০১৪ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে প্রায় ১৭ লাখ অভিবাসী ইইউ-তে এসে পৌঁছেছেন৷ ২০১৬ সাল থেকে অভিবাসী আগমনের হার কমে এসেছে, বিশেষ করে তথাকথিত বলকান রুটটি মোটামুটি বন্ধ হয়ে যাবার পরে৷ তুরস্কের সঙ্গে ইইউ-র একটি অভিবাসন চুক্তির ফলে তুরস্ক থেকে উদ্বাস্তুদের নৌকাযোগে গ্রিসে আগমনও প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে৷ ইত্যবসরে ইইউ লিবিয়া থেকে উদ্বাস্তুদের নৌকাযোগে ইউরোপে আসা কমানোর চেষ্টা করছে৷

প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় কমিশন ইসিজে-র রায়কে স্বাগত জানিয়েছে৷ ইইউ-এর অভিবাসন কমিশনার দিমিত্রিস আভ্রামোপুলোস বলেছেন, ‘‘পুনর্বাসন পরিকল্পনা যে বৈধ, ইসিজে তা নিশ্চিত করেছে৷ (এখন) একত্রে কাজ করার ও সংহতি পুরোপুরি কার্যকরি করার সময়৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমি চিরকালই আমাদের পূর্ব ইউরোপীয় সহযোগীদের বলেছি যে, দ্বিধা থাকলে বৈধতার প্রশ্নটা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত৷ কিন্তু এখন আমরা আশা করতে পারি যে, সব ইউরোপীয় সহযোগী এই রায় মেনে চলবে ও অনতিবিলম্বে সমঝোতাগুলি বাস্তবায়িত করবে৷’’

স্লোভাকিয়া বলছে, তারা সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, কিন্তু তবুও তারা উদ্বাস্তু পরিকল্পনার বিরোধী৷ প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেছেন, ‘‘কোটার ব্যাপারে আমাদের অবস্থান বদলায়নি৷ অন্যান্য দেশের অভিবাসীরা, যারা এখানে থাকতে চান না, তাদের জোর করে এখানে পাঠানোর চেয়ে আমরা অন্য পন্থায় (ইউরোপীয়) সংহতি প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাব৷’’

বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেটার শিয়ার্তো ইসিজে-র রায়কে ‘নির্লজ্জ ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন৷ ‘‘এই সিদ্ধান্ত গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে,’’ বলে শিয়ার্তো মন্তব্য করেন এবং যোগ করেন যে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত মূলত রাজনৈতিক৷ ‘‘রাজনীতি ইউরোপীয় আইন ও মূল্যবোধকে ধর্ষণ করেছে,’’ শিয়ার্তো বলেন৷

এসি/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়