1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উদ্বাস্তুদের নিয়ে জার্মানি ২০১৬ সালে কী করবে

২০১৫ সালে দশ লক্ষ উদ্বাস্তু জার্মানিতে এসেছেন বলে শোনা যাচ্ছে৷ এর পরের কাজ হলো তাঁদের সমাজের অঙ্গ করে তোলা৷ কাজটা রাজ্যের, কিন্তু এর জন্য কেন্দ্রের সাহায্য চাই৷ শরণার্থী সমস্যা সমাধানে এখন মূল করণীয় হলো...

১) উদ্বাস্তুদের বণ্টন

ভবিষ্যতে সারা জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের ভাগ করে দেওয়ার ভার নেবে কেন্দ্র, অর্থাৎ ফেডারাল সরকার৷ এ পর্যন্ত এই দায়িত্ব ছিল রাজ্যদের উপর ন্যস্ত৷ তবে বণ্টন আগের মতোই ‘‘ক্যোনিগস্টাইন ফর্মুলা'' অনুযায়ী হবে – যার ভিত্তি হলো একক রাজ্যগুলির কর থেকে আয়, ও জনসংখ্যা৷ আবেদনকারীদের অর্ধেক জার্মানিতে বসবাসের ভিসা পাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ হঠাৎ এই পরিমাণ উদ্বাস্তুর আগমনে রাজ্যগুলো হিমশিম খাচ্ছে, কাজেই ফেডারাল সরকার এবার ‘‘অপেক্ষাকেন্দ্র'' সৃষ্টি করবেন, যেখান থেকে উদ্বাস্তুদের বণ্টন করা হবে৷

২) রাজ্যগুলোকে আর্থিক সাহায্য

উদ্বাস্তু খাতে ২০১৬ সালে কেন্দ্র রাজ্যগুলোকে প্রায় চারশ কোটি ইউরো দেবে৷ ১লা জানুয়ারি থেকে রাজ্যগুলি উদ্বাস্তু প্রতি মাসে ৬৭০ ইউরো পাবে৷ এছাড়া যে সব অপ্রাপ্তবয়স্ক উদ্বাস্তুরা একা এসেছেন, তাঁদের দেখাশোনার জন্য রাজ্যগুলো পাবে বাড়তি ৩৫ কোটি ইউরো৷ সামাজিক, অর্থাৎ কম রোজগারের মানুষজনের জন্য কম ভাড়ার আবাসন নির্মাণ খাতে কেন্দ্র বরাদ্দ করেছে ২০১৯ সাল অবধি প্রতিবছর ৫০ কোটি ইউরো৷ জার্মান সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন ছাউনি ইত্যাদি ছাড়া পৌর এলাকাগুলি ভালো শর্তে অন্যান্য জায়গাজমি পাবে, যেখানে ‘সামাজিক আবাসন' নির্মাণের কাজ চলবে৷

৩) সন্তান প্রতিপালনের ভাতা

জার্মানে যাকে বলা হয় ‘বেট্রয়ুংসগেল্ড'৷ এই ভাতা বাতিল হওয়ার ফলে যে টাকা বাঁচবে, তা রাজ্যগুলোকে দেওয়া হবে বাড়তি ক্রেশ ও কিন্ডারগার্টেন ইত্যাদি সৃষ্টির জন্য৷ যা থেকে উদ্বাস্তুদের শিশুসন্তানরাও উপকৃত হবে৷

৪) ‘‘নিরাপদ দেশ'' থেকে আগত উদ্বাস্তুরা

তথাকথিত ‘‘নিরাপদ দেশ'' বলে চিহ্নিত দেশগুলির তালিকায় এবার আলবানিয়া, কসোভো ও মন্টেনিগ্রোকে যুক্ত করা হয়েছে৷ লক্ষ্য হলো: এ সব দেশ থেকে যাঁরা জার্মানিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছেন, তাঁদের আরো তাড়াতাড়ি স্বদেশে ফেরৎ পাঠানো৷ এই সব দেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বরের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন, আবেদনের মঞ্জুরি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁরা জার্মানিতে কাজ করতে পারবেন না৷ আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পরেও এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে৷

৫) ‘ইন্টেগ্রেশন কোর্স'

যে সব রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের বাস্তবিক ভিসা পাবার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে (যেমন সিরিয়া থেকে আগত উদ্বাস্তুরা), ফেডারাল সরকারের তরফ থেকে তাঁদের জন্য ‘অন্তর্ভুক্তি পাঠক্রমের' ব্যবস্থা করা হবে৷ এই পাঠক্রমে উদ্বাস্তু বা শরণার্থীরা শিখবেন মূলত জার্মান ভাষা ও জার্মানির ইতিহাস৷

৬) প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র

‘‘নিরাপদ দেশ'' থেকে আগত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের আবেদনের মঞ্জুরি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া অবধি ‘প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে' বাস করতে হবে৷ অন্যান্য দেশ থেকে আগত জার্মানদের এই সব কেন্দ্রে রাখা হবে প্রথম ছ'মাসের জন্য – এ পর্যন্ত তারা তিন মাস পরেই অন্যত্র যেতে পারতেন৷ এছাড়া উদ্বাস্তুদের টাকা দেওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি করে জিনিসপত্র, কুপন ইত্যাদি দেওয়া হবে৷

৭) চিকিৎসা

এ বছর থেকে রাজ্য সরকার উদ্বাস্তুদের জন্য ‘হেল্থ কার্ড' চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, উদ্বাস্তুরা যে কার্ড নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে পারবেন৷ এখনও পর্যন্ত উদ্বাস্তুদের সরকারি কার্যালয় থেকে চিরকুট নিয়ে যেতে হতো৷ হেল্থ কার্ড নিয়ে চিকিৎসার খরচ দেবেন রাজ্য সরকার, সরাসরি স্বাস্থ্য বীমা সংস্থাগুলিকে৷

৮) মানুষ পাচারকারী

মানুষ পাচারকারীদের দণ্ডের মাত্রা বাড়িয়ে কমপক্ষে তিন মাস কারাদণ্ড থেকে সর্বাধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড করা হবে৷ এ পর্যন্ত মানুষ পাচারকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরিমানা দিয়েই পার পেত৷

জার্মানির আরো কোনো দিন বিবেচনা করা উচিত? জানিয়ে দিন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়