1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উদ্বাস্তুদের জন্য কাপড় সেলাইয়ের কাজ

দু'জন জার্মান মহিলা একটি সেলাইয়ের ওয়ার্কশপ খুলেছেন, যেখানে উদ্বাস্তু মেয়েরা সেলাই-ফোঁড়াইয়ের কাজ শিখতে পারেন আর এই পন্থায় জার্মানিতে কাজ পেতে পারেন৷

জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট শহরের বোর্নহাইম এলাকার একটি ছোটখাটো ওয়ার্কশপ৷ তাকের ওপর রঙিন কাপড়ের থান, দেয়ালে ঠেস দেওয়া রঙিন কাপড়ের রোল৷ এজরা নামের এক উদ্বাস্তু তরুণী মাঝের একটা বড় টেবিলের উপর ঝুঁকে পড়ে কাটা কাগজের প্যাটার্ন থেকে একটি ব্লাউজ বানাচ্ছেন৷

আরো দশ লক্ষ উদ্বাস্তুর মতো এজরা জার্মানিতে পৌঁছান ২০১৫ সালে৷ এজরার পরিবার যখন সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের চাপে সিরিয়া ছাড়ে, এজরা তখন দামেস্কে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা করছিলেন৷ এজরা জার্মানিতে আবার ফ্যাশন ডিজাইন পড়তে চান, তবে তার জন্য তাঁকে জার্মান ভাষাটা ভালোভাবে রপ্ত করে নিতে হবে৷ ভাষাশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেলাইয়ের কল চালানো প্র্যাকটিস করে নিচ্ছেন৷ বলতে কি, এটাই তাঁর জার্মানিতে প্রথম চাকুরি৷

‘‘স্টিচ বাই স্টিচ''

ক্লাউডিয়া ফ্রিক পেশায় সিমস্ট্রেস, অর্থাৎ তিনি দর্জির কাজ জানেন; তাঁর সঙ্গি নিকি ফন আলফেন্সলেবেন হলেন গ্র্যফিক ডিজাইনার৷ দু'জনে মিলে এই ওয়ার্কশপটি সৃষ্টি করেছেন, নাম দিয়েছেন ‘‘স্টিচ বাই স্টিচ'' – অর্থাৎ একটি একটি করে সুচের ফোঁড়৷ ‘‘আমরা ভেবেছিলাম, (উদ্বাস্তুদের জন্য) আমরা কি করতে পারি'', বললেন ক্লাউডিয়া৷ তাঁর স্বপ্ন হলো, একদিন তাঁর ওয়ার্কশপের মেয়েরা তাদের নিজেদের সেলাই-ফোঁড়াইয়ের দোকান খুলতে পারবে৷

নিকি শোনালেন, এজরাকে যখন নেওয়া হয়, তখন এজরার বাবা কিরকম গর্বিত হয়েছিলেন; মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলেছিলেন, কিভাবে তাঁর সবচেয়ে ছোট মেয়েটি পরিবারের সক্কলেকে ছাড়িয়ে সবার আগে জার্মানিতে চাকরি পেয়েছে, কাজ করতে শুরু করেছে৷

তবে নিকি আর ক্লাউডিয়ার সামনে এখনও কিছু প্রতিবন্ধক আছে৷ দুই মহিলারই নিজের বিজনেস চালানোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা; কিন্তু স্টিচ বাই স্টিচ একটা সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জ – বিশেষ করে অভিবাসন সংক্রান্ত সরকারি আমলাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে গিয়ে৷ একদিকে ফেডারাল কর্মসংস্থান দপ্তর, অন্যদিকে বিদেশি-বহিরাগত রেজিস্ট্রেশন অফিস৷ কোথাও কোনো আমলা বেঁকে বসলেই আর এক পা এগোনোর উপায় নেই৷ তবে সর্বত্রই তারা সহানুভূতি আর সহযোগিতা পেয়েছেন, বলে জানালেন নিকি৷

মানসিক শান্তি

শুধু যুদ্ধের বিভীষিকাই নয়, উদ্বাস্তুদের ইউরোপে আসতে যে কষ্ট পেতে হয়েছে, তাও কিছু কম বিভীষণ নয় – সে অভিজ্ঞতাও তার ছাপ রেখে গেছে৷ কাজেই এই রিফিউজি মেয়েরা স্টিচ বাই স্টিচ ওয়ার্কশপে এসে একটা শান্ত, সুন্দর, মানবিক পরিবেশ পাবে বলে দুই বান্ধবীর আশা৷

আপাতত এই ওয়ার্কশপ থেকে তাদের কোনো আর্থিক লাভ হচ্ছে না, তবে কালে তাঁরা ছোট ছোট জার্মান ফ্যাশন লেবেলদের জন্য জামাকাপড় ডিজাইন করতে পারবেন বলে দু'জনের আশা৷ স্থানীয় কিছু ফ্যাশন কোম্পানি নাকি ইতিমধ্যেই আগ্রহ দেখিয়েছে, বিশেষ করে তাঁরা উদ্বাস্তুদের নিয়ে কাজ করেন বলে৷ ভবিষ্যতের স্বপ্ন? বছরের শেষ অবধি এজরার মতো আরো চারজন সিমস্ট্রেস৷ তারপর জার্মানির অন্যান্য শহরে শাখা খোলা...

স্বপ্নের কি কোনো শেষ আছে?

আপনার কী মনে হয়? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়