1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও এখনও অনেকে নিখোঁজ

বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসের ২০ দিনের মাথায় উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে সোমবার রাতে৷ অভিযানে মোট ১১২৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে৷ আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৪৩৮ জনকে৷ কিন্তু অভিযান শেষ হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের কান্না থামেনি৷

সাভারের বহুতল রানা প্লাজা ধসে পড়ে ২৪শে এপ্রিল সকালে৷ সাধারণ মানুষ ধসের পর পরই আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েন৷ এরপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের উদ্ধারকারীরা কাজ শুরু করেন৷ সোমবার রাতে উদ্ধার অভিযান শেষ করে ভবনের জয়াগা কাটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে৷ জায়গাটি সংরক্ষিত উল্লেখ করে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে৷ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হাসান সোহারোয়ার্দি রাতে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার অনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন৷

Reshma Begum, 19, rescued from the rubble of the Rana Plaza building 17 days after the building collapsed, lies on a bed at Savar Combined Military Hospital in Savar May 11, 2013. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: DISASTER)

সাভারে ধসে পড়া ভবন থকে ১৭ দিন পর উদ্ধার করা হয় জীবিত রেশমাকে...

কিন্তু সাভারে এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন৷ এঁদের আত্মীয়স্বজন ছবি নিয়ে তাঁদের এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছেন৷ সেরকমই একজন আবুল কাশেম৷ তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরে৷ আবুল কাশেমের মেয়ে রিনা আক্তার (১৮) রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ গার্মেন্টস-এ কাজ করতেন৷ ভবন ধসের পরদিনই তিনি তাঁর মেয়ের খোঁজে সাভার আসেন৷ কিন্তু তাঁর মেয়ের লাশও পাওয়া যায়নি৷ উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর সন্ধায় তিনি তাঁর মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ তখন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়৷ এরকম আরো অনেকে স্বজনের লাশ না পেয়ে হতাশা আর শোকে দিশেহারা৷

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত এবং মৃত মিলিয়ে মোট উদ্ধার করা হয়েছে ৩,৫৬৫ জনকে৷ ধারণা করা হচ্ছে, ধসের সময় ভবনে কমপক্ষে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ ছিলেন৷ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকার কথা স্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন, নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরির কাজ করছে পুলিশ৷ এদিকে জেলা প্রশাসক ইউসুফ হারুন জানিয়েছেন যে, উদ্ধার করা লাশের ২৮৪টির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের হস্তান্তর করা হয়নি৷ ডিএনএ টেস্টের পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে হস্তান্তর করা হবে৷

ওদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ কে এম মাকসুদ কামাল ডয়চে ভেলেকে জানান, রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার অভিযানে সমন্বয়হীনতা ছিল৷ তিনি বলেন, সরকারের উদ্ধারকারীরা কাজ শুরু করেন মূলত ধসের পরদিন দুপুরের পর থেকে৷ এর আগে সাধারণ মানুষ যে যেভাবে পারেন উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন৷ সাধারণ মানুষের এই অংশগ্রহণ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেও, এতে উদ্ধার অভিযানে ঝুঁকি বেড়েছে এবং সময় বেশি লেগেছে৷ এছাড়া, পুরো উদ্ধার অভিযানে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না৷ ফলে এই উদ্ধার অভিযানের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম থাকলেও তা ব্যবহার করা যায়নি৷ যে যার মতো মাথায় কাপড় বেধে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷

তিনি বলেন, দেশে প্রশিক্ষিত ১৮,০০০ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী থাকলেও তাঁদের ব্যবহার করা যায়নি৷ তবে এবারে মানুষ সৃষ্ট এই দুর্যোগ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে৷ এ কথা যদি মাথায় রাখা যায়, তাহলে হয়ত ভবিষ্যতে উদ্ধার অভিযানে সমন্বয়হীনতা থাকবে না৷ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই দুর্যোগে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি৷ তাহলে এই মন্ত্রণালয়ের কাজ কি? জানতে চান তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন