1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উদ্দেশ্য মহান, তাই কর না দিয়ে চালাকি

বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সবারই আছে৷ ব্রিটেনের ছোট্ট এক শহর তাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছে৷ কর ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর বন্ধ করে সবার জন্য ন্যায্য কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় শহরের মানুষ৷

Symbolbild Brexit Afrika Schiff Flagge

প্রতীকী ছবি

ওয়েলস প্রদেশের ক্রিকহাওয়েল শহরের মানুষ অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য পরিচিত৷ এখানে বেশ কয়েকটি ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ যেমন স্টিভ লুইস একটি ক্যাফে চালান৷ জো ক্যার্থিউ-র একটি স্মোকারি আছে৷ আর স্টিভ অ্যাস্কিউ শহরের রুটির দোকানের মালিক৷ পারিবারিক ব্যবসা তাঁদের৷

অ্যাস্কিউ ও তাঁর প্রতিবেশীরা মোটেই বিপ্লবী নন৷ কিন্তু দেশে করের বোঝার বৈষম্য সম্পর্কে তাঁরা তিতিবিরক্ত৷ স্টিভ অ্যাস্কিউ বলেন, ‘‘কর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের মনে কোনো সংশয় নেই৷ অনেক পরিষেবার জন্য এই অর্থের প্রয়োজন রয়েছে৷ এ নিয়ে কারো কোনো সমস্যা নেই৷ সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষকে কর দিতে হচ্ছে এবং বড় কোম্পানিগুলি কর এড়িয়ে যাচ্ছে৷ আমার ব্যবসা সফল, আমিও কর দিয়েছি৷ আমার পক্ষে সহজ না হলেও আমি কর দিই৷ আমার কর্মীরাও আয়কর দেন৷ কিন্তু এটা একেবারেই ন্যায্য নয়৷''

এবার তারা কর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছে৷ ‘ফেয়ার ট্যাক্স টাউন' নামের এক ব্র্যান্ড তৈরি করে এই আন্দোলনকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে৷

শহরের জনসংখ্যা মাত্র ২,০০০-এর মতো৷ অতএব পরীক্ষা চালানোর জন্য আদর্শ৷ আইডিয়াটা অন্য জায়গা থেকে এলেও ওয়েলস প্রদেশের এই ছোট্ট শহর সেটি নিয়ে মেতে উঠেছে৷

জো ক্যার্থিউ ‘ফেয়ার ট্যাক্স টাউন' প্রকল্প সম্পর্কে বুঝিয়ে বললেন৷ শুরুতেই প্রশ্ন উঠলো, ছোট ব্যবসার মালিকরাও কর ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগাতে পারবে না কেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আইডিয়াটা ছিল, আমরা একজোট হয়ে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির কায়দা ও কৌশল নকল করবো৷ ছোট প্রতিষ্ঠানগুলির এই জোট যাতে বড় কোম্পানির মতো আচরণ করতে পারে৷''

কৌশলটা হলো এ রকম৷ ছোট কোম্পানিগুলি তাদের হোল্ডিং তথাকথিত অফশোর ‘করের স্বর্গে' পাঠিয়ে দেয়৷ কায়দা করে তারা কর এড়িয়ে চলতে পারে৷ পুরোটাই আইনি পথে ঘটে, কারণ তারা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়৷ স্মোকারি-র মালিক জো ক্যার্থিউ বলেন, ‘‘যেটা বোঝা যায়, সেটা হলো, তারা যেখানে এত মুনাফা করছে, সেই সমাজেই তারা কোনো অবদান রাখছে না৷ সেটা সত্যি বড় অন্যায়৷''

ক্রিকহাওয়েল-এর মানুষ নিজেদের শহরের প্রতি অত্যন্ত অনুগত৷ ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কীভাবে কর এড়িয়ে চলতে পারে, সেটি পরীক্ষা হিসেবে শুরু হলেও তারপর বিষয়টা ডেভিড-গলিয়াথ সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে৷

ক্যাফের মালিক স্টিভ লুইস এভাবে ব্রিটেনের কর সংক্রান্ত আইনের ত্রুটিগুলি তুলে ধরতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘আসলে এটা খুব সহজ৷ সরকার এমন কর ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে, যা কর এড়িয়ে যেতে কার্যত হাতছানি দেয়৷ আমার মতে, কর এড়ানো কর ফাঁকির সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে৷''

এখন তাঁর হোল্ডিং-এর একটি অংশ এক ‘করের স্বর্গে' গচ্ছিত আছে৷ লুইস তাঁর এই প্ররোচনামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান৷ এভাবে কর এড়ানোর সব ফাঁকফোকর বন্ধ করে সবার জন্য ন্যায্য করের কাঠামো নিশ্চিত করতে চান তিনি৷ লুইস বলেন, ‘‘জানেন তো, মধ্যযুগেও চাষিদের কাছ থেকে সব সময় কর আদায় করা হতো৷ ধনী ও বিখ্যাত মানুষদের রেহাই দেওয়া হতো৷ যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়৷ আমি কিন্তু অ্যাকটিভিস্ট না হয়েও এ কথা বলছি৷''

এখানে কেউই কর দেবার বিপক্ষে নয়৷ তারা সবাই বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে নিজেদের অবদান রাখায় বিশ্বাসী৷ ওয়েলস প্রদেশের এই ছোট্ট শহরের মানুষ এবার জানতে চান, তাদের পদক্ষেপ কর এড়িয়ে চলা বড় কোম্পানিগুলিকে নতজানু করতে পারে কিনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়