1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতি: চলছে হুমকি, পাল্টা-হুমকি

বাংলাদেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে৷ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ ডাকছে একই দিনে, একই স্থানে৷ আর তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি করা হচ্ছে ১৪৪ ধারা৷ ৫ই জানুয়ারি ‘শো-ডাউন’ হবে দুই দলেরই৷

শনিবার গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে এখন চলছে চরম উত্তেজনা৷ ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠের সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা৷ তবে একই সময় সেখানে সমাবেশ ডেকেছে শাসক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ৷ এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুর দুটো থেকেই গাজীপুর জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘দুই পক্ষকে সমঝোতা করতে বলেছিলাম৷ তারা সমঝোতায় আসতে না পারায় শনিবার দুপুর দুটো থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে৷''

Mirza Fakhrul Islam Alamgir 10.12.2012

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘‘যে কোনো মূল্যে শনিবার গাজীপুরে সমাবেশ করা হবে'' – বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিনের শুরুতে এ কথা বললেও, পরে ১৪৪ ধারা ঘোষণার সিদ্ধান্তকে ‘পূর্বপরিকল্পিত' বলে অভিযোগ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘শনিবার বেলা ২টায় গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণ দেওয়া কথা৷ এই জনসভা বানচাল করতেই সরকার পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে৷''

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার চলছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল৷ জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বগুড়া এবং শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি- জামায়াতের কয়েকশ' নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয় শুক্রবার সকালে তাঁর ঢাকার বাসা থেকে৷ তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা মেডিকেলের সামনে সাংসদ ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে৷

এছাড়া খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে বকশীবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷

বিএনপি চাইছে ৫ই জানুয়ারির আগেই মাঠে নামতে৷ তারা চাইছে, ৫ই জানুয়ারি মাঠ দখলে রাখতে৷ কর্মসূচি চূড়ান্ত না হলেও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানা গেছে৷ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীনদের আচরণের ওপর নির্ভর করে আন্দোলনের ছক অনুসারে শিগগিরই মাঠে নামবে বিএনপি৷ এ মাসে কিংবা জানুয়ারি মাসের যে কোনো সময় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সরকার পতনের জন্য রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷''

আন্দোলন সফল করতে বিএনপি তৃনমূল এবং ছাত্রদলকে চাঙ্গা করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এর মধ্যে৷ ছাত্রদলের একজন নেতা জানান, ‘‘গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে এর প্রমাণ দিয়েছেন৷ ছাত্রলীগ পুলিশের সহায়তায় হামলা করলেও, তারা পেরে ওঠেনি ছাত্রদলের সঙ্গে৷'' তাঁর দাবি, পুলিশি সহায়তা না পেলে ছাত্রলীগ একদিনও মাঠে টিকতে পারবে না৷

ঢাকার কলাবাগান এলাকার ছাত্রদল নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থতি বদলেছে৷ তুণমূলের কমিটি হওয়ায় এখন সাবাই আন্দোলনে মাঠে নামতে প্রস্তুত৷ মাঠে নামছেও৷ ৫ই জানুয়ারির জন্য প্রস্তুত আছি আমরা৷''

ওদিকে শাসক দল আওয়ামী লীগও বসে নেই৷ তারা রাজপথে বিএনপিকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছে৷ মিরপুর এলাকার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে৷ ঢাকায় ৫ই জানুয়ারির মহাসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হচ্ছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিএনপির প্রস্তুতিও নজরে রাখছি৷ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব৷''

ছাত্রলীগ এরইমধ্যে খালেদা জিয়াকে প্রহিতের ঘোষণা দিয়েছে৷ তারা দাবি করেছে, তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লন্ডনে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না৷ তারই অংশ হিসেবে ছাত্রলীগ গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ স্থলে পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে৷ এই সমাবেশে খালেদা জিয়ার থাকার কথা৷

ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এরই মধ্যে বিএনপি নেতাদের ‘নেড়ি কুত্তার মতো পেটানোর' হুমকি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর৷ আওয়ামী লীগ নেতা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘‘বিএনপিকে মাঠেই নামতে দেয়া হবে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আগামী ৫ই জানুয়ারি দেশের কোথাও বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামতে দেয়া হবে না৷ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজপথ দখলে রেখে খুনি বাহিনীকে প্রতিহত করবে৷''

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘৫ই জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকত না, এ দেশে ‘মার্শাল ল' কায়েম হতো৷ গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতেই শেখ হাসিনা জীবন বাজি রেখে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন করেছিলেন৷ ২০১৯ সালের জানুয়ারির এক দিন আগে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না৷''

চলতি বছরের ৫ই জানুযারি একরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ৷ বিএনপি নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের চেষ্টা করে৷ গত এক বছর ধরে তারা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়৷ এবার ৫ই জানুয়ারিকে টার্গেট করে আন্দোলন গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বিএনপি৷ অন্যদিকে সরকার তথা আওয়ামী লীগও বিএনপি জোটের আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত৷ এখন চূড়ান্ত অবস্থা দেখার জন্য তাই কমপক্ষে ৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়