1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পর মোদীর লক্ষ্য পূর্ব ভারত

উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড রাজ্যে বিপুল নির্বাচনি সাফল্যের পর মণিপুরেও সরকার গড়ল বিজেপি৷ কিন্তু শুধু মনিপুরেই সন্তুষ্ট নন নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর নজর এবার গোটা পূর্ব ভারতে৷

বিজেপি এবার নজর দেবে পূর্ব ভারতে৷ এবারের নির্বাচনি সাফল্যের পর ঘোষণা করেছেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ৷ কারণ, নির্বাচনি সাফল্যের যে ফর্মুলা কাজ করেছে উত্তর ভারতে, একই ফর্মুলা পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও সাফল্য আনবে বলে বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস৷ আগ্রহজনক বিষয় হলো, দেশের একাধিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও একই কথা ভাবছেন৷ কী সেই ফর্মুলা?‌ এক, উন্নয়ন কর্মসূচিকেন্দ্রিক রাজনীতি, দুই, হিন্দু ভোট একজোট করা৷ এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দু ভোট একত্র করার কাজটা ক্রমশ সহজ হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন ওই পর্যবেক্ষকরা৷

কারণ, ভারতে বিজেপির উত্থানের একটা ঐতিহাসিক কারণ যদি হয় তাদের কট্টর হিন্দুত্ববাদী নীতি, তাহলে অন্য কারণ অবশ্যই কংগ্রেস ও অন্যান্য তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির মুসলিমতোষণ নীতি৷ স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দ্বিচারিতা চলেছে, ক্রমশ যার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সমর্থন বাড়িয়েছে বিজেপি৷ আর তাদের অন্য হাতে আছে সার্বিক উন্নয়নের নীতি যার সুবাদে নরেন্দ্র মোদীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে গুজরাটে ভয়াবহ মুসলিমনিধন সত্ত্বেও বিজেপির ক্ষমতায় থাকা আটকানো যায়নি৷ আজকের পশ্চিমবঙ্গেও মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ উঠছে, যার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ছে৷

জনমতের এই হিন্দুয়ায়ন যারা আটকাতে পারত, সেই বামপন্থিরা পশ্চিমবঙ্গে এখন কার্যত ক্ষমতাহীন, জনমানসের সঙ্গে সম্পর্ক বিযুক্ত৷ ফলে সামাজিক স্তরে হিন্দুত্ববাদী, মুসলিমবিদ্বেষী ভাবনাচিন্তার প্রসার রুখে দেওয়ার কেউ নেই৷ অন্যদিকে সরকারি স্তরে যাই-ই করা হোক না কেন, প্রকারান্তরে সেটাকেও মুসলিমপ্রীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে৷ যেমন কিছুদিন আগেই রাজ্যে ১২৫টি স্কুলকে শিক্ষা দপ্তর নোটিস ধরিয়েছে, সেসব স্কুলে হিন্দু ভাবধারার প্রচার হচ্ছে, এই অভিযোগে৷ কিন্তু এই ধরনের সরকারি পদক্ষেপের উল্টো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে৷ এবং আরএসএসের মতো কট্টরবাদী সংগঠন সেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় আরও ইন্ধন জোগাচ্ছে৷

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা প্রতিনিধি

সদ্য শেষ হওয়া উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়কে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই সুনামির সঙ্গে তুলনা করছেন৷ এক বিরাট, ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস, যা ভারতের সবথেকে জনবহুল রাজ্যটিতে অন্য সবকটি রাজনৈতিক দলকে কার্যত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে৷ মুলায়ম সিং-অখিলেশ সিংয়ের সমাজবাদী পার্টি, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির মতো জোরদার রাজনৈতিক সংগঠন, কংগ্রেসের মতো দেশের সবথেকে পুরনো, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলের পায়ের তলার মাটি কেড়ে নিয়েছে৷ এবং সংবাদমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছে যে এই বিরাট জয় যতটা না বিজেপির, তার থেকে অনেক বেশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগ্রাসী নীতির এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-র সাংগঠনিক দক্ষতার৷ নরেন্দ্র মোদী মস্ত বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন বিধানসভা এবং লোকসভার আসনসংখ্যার হিসেবে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যটির নির্বাচনের আগে বিমুদ্রাকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে৷

৫০০ এবং ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিলের ওই সিদ্ধান্ত, ব্যাঙ্ক লেনদেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিধি-নিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের বিস্তর অসুবিধে হয়েছে৷ বিশেষত খুচরো ব্যবসায়ীদের৷ তা সত্ত্বেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে৷ এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশে, এবং মুম্বইয়ের সাম্প্রতিক পুরভোটে৷ কিন্তু এখানেই শেষ নয়৷ উত্তর প্রদেশে মুসলিম ভোটও পেয়েছেন মোদী৷ এই প্রথম সে রাজ্যের মুসলিম-প্রধান এলাকায় একজনও মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করায়নি বিজেপি এবং তার পরেও ভোট পেয়েছে৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের কর্মসূচি ভোট টেনেছে, যে ঘটনা ঘটেছে দলিত ভোটের ক্ষেত্রেও৷ মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির ভোটব্যাংকে এভাবেই ধস নামিয়েছে বিজেপি এবং কার্যত আঞ্চলিক দলগুলিকে উন্নয়নের প্রশ্নে গুরুত্বহীন করে দিয়েছেন৷

এই পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিমুদ্রায়ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন৷ মমতা ব্যানার্জি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ চড়া সুর অনেকটাই নরম করে বলেছেন, গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে৷ আশা করা যায় কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমীকরণ ঠিক থাকবে!‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়