1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উত্তর কোরিয়া সোনিকে হ্যাক করবে কেন?

‘‘দ্য ইন্টারভিউ’’ ছবিটিকে একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমেডি বলা চলে৷ তার জন্য হ্যাকাররা সোনি পিকচার্সের উপর সাইবার আক্রমণ চালাবে কেন? একটি সাক্ষাৎকারে এ প্রশ্নেরই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন জেমস লিউয়িস৷

ডিডাব্লিউ: সোনি পিকচার্সের উপর আক্রমণ কিভাবে চালানো হয়?

জেমস লিউয়িস: আমরা জানি না৷ সোনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চায়নি৷ হয়ত একটা ভুয়া ই-মেল দিয়ে শুরু হয়, যার অ্যাটাচমেন্টের শীর্ষক ছিল ‘‘এ বছরের বোনাস'' কিংবা সে'রকম একটা কিছু৷ মানুষজন এ ধরনের লোভ সামলাতে পারে না৷ অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করলেই ম্যালওয়্যার বেরিয়ে আসে আর আক্রমণকারী কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে৷ এভাবে সোনির মতো বড় কোম্পানিকেও হ্যাক করা যায়৷

James Andrew Lewis

জেমস লিউয়িস

ডিডাব্লিউ: উত্তর কোরিয়ার কি এধরনের আক্রমণ চালানোর প্রযুক্তিগত জানকারি আছে?

জেমস লিউয়িস: উত্তর কোরিয়া গত তিন বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যের বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটা আক্রমণ চালিয়েছে৷ কাজেই তাদের নিশ্চয় সে জানকারি আছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ার যে সব মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কোনো কারণে উত্তর কোরিয়ার নেতার রোষের কারণ ঘটিয়েছে, ২০১৩ সালে তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের আক্রমণ চালানো হয়, তার সঙ্গে সোনির উপর আক্রমণের সাদৃশ্য আছে৷ উত্তর কোরিয়া বহুদিন ধরে সাইবার অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করে আসছে এবং প্রতিবছরই তাদের আরো কিছু উন্নতি ঘটছে৷

ডিডাব্লিউ: এ ধরনের আক্রমণ চালানোর জন্য কি খুব উচ্চমানের প্রযুক্তি দরকার?

জেমস লিউয়িস: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বলছে, এই আক্রমণ সোনির প্রতিরক্ষা প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে বটে, কিন্তু তার ‘স্টাক্সনেট'-এর মতো ক্ষতি করার ক্ষমতা ছিল না৷ এটা ছিল বরং ‘আরামকো'-র উপর ইরানি আক্রমণের মতো৷....উত্তর কোরিয়ার একটি ‘‘সাইবার নাইন-ইলেভেন'' পর্যায়ের আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা নেই....ওটা শুধু আরো একটা গালভরা হুমকি ছিল....(তবে) ইরানের মতোই উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বিঘ্ন ঘটানোর জন্য সাইবার আক্রমণ ব্যবহার করতে পারে – যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা গ্যাসের পাইপলাইন৷

USA New York The Interview Filmplakat 18.12.2014

‘‘দ্য ইন্টারভিউ’’ ছবির পোস্টার...

ভীতিকর ব্যাপারটা হলো এই যে, বহু বছর ধরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা তার প্রয়োজনের ধারেকাছেও আসেনি (যেমন জার্মানি সহ অন্যান্য দেশেরও সে প্রতিরক্ষা নেই)৷

ডিডাব্লিউ: উত্তর কোরিয়া যদি সত্যিই এই আক্রমণের পিছনে থাকে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের একটি কমেডি ছবির এতবড় প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে কিভাবে?

জেমস লিউয়িস: কিম পরিবার চায় তাঁদের প্রতি দেব-দেবীর মতো সম্মান দেখানো হোক৷ উত্তর কোরীয়রা যদি তাঁদের পুজো না করে, তাহলে তাদের মৃত্যু অবধারিত৷ কিম পরিবারের কাউকে ঠাট্টা করে ছবি তৈরি ঈশ্বরনিন্দার সমতুল৷ ২০০৪ সালে যখন ‘‘টিম অ্যামেরিকা'' নামের একটি প্যারডি বেরয়, যাতে ‘‘প্রিয় নেতা''-কে হত্যা করা হচ্ছে – তখন উত্তর কোরীয়রা অভিযোগ করেছে বটে, কিন্তু তার বেশি কিছু করতে পারেনি৷ এখন তাদের পাল্টা আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা আছে৷

জেমস লিউয়িস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএস-এর কৌশলগত প্রযুক্তি কর্মসূচির পরিচালক এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাবেক সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন