1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার থেকে ঝুঁকি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে: জাপান

জাপানে প্রকাশিত একটি সরকারি প্রতিরক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এখন আন্তঃ-মহাদেশ রকেট নিক্ষেপের ক্ষমতা রাখে ও তার পারমাণবিক সমরাস্ত্র কর্মসূচিও যথেষ্ট প্রগতি করেছে৷

জাপানের সরকারের বাৎসরিক ‘ডিফেন্স হোয়াইট পেপারটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়৷ রিপোর্টটিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সমরাস্ত্র কর্মসূচির জরুরি বিপদ সম্পর্কে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে৷ জাতিসংঘের বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সত্ত্বেও পিয়ংইয়াং পর্যায়ক্রমে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চলেছে ও পরীক্ষামূলক আণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে৷ জুলাই মাসে উত্তর কোরিয়া তার প্রথম দু'টি আন্তঃ-মহাদেশ ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষা করে, যে দু'টি রকেট অন্তঃরীক্ষে ওঠার পর ফিরতি পথে জাপানের পশ্চিম উপকূলে হক্কাইদো দ্বীপের কাছে সাগরে এসে পড়ে৷

‘‘গতবছর দু'টি পরীক্ষামূলক আণবিক বিস্ফোরণ ও বিশটির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যাবৎ (উত্তর কোরিয়া থেকে) নিরাপত্তা ঝুঁকি একটা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে'', বলে জাপানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫৬৩ পাতার রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে৷

‘‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সমরাস্ত্র কর্মসূচি ইতিমধ্যেই লক্ষণীয় প্রগতি করেছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে; এ-ও সম্ভব যে, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের আকার ছোট করতে সক্ষম হয়েছে ও একাধিক পরমাণু বোমার অধিকারী হয়েছে'', হোয়াইট পেপারটিতে বলা হয়৷

Infografik North Korea's missile ranges

জাপান কি তার প্রতিরক্ষা নীতি বদলানোর কথা ভাবছে?

উত্তর কোরিয়ার সর্বাধুনিক আইসিবিএম পরীক্ষা থেকে বোঝা যায় যে, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত এখন জাপানের চেয়েও বেশি দূরে অবস্থিত লক্ষ্যে – যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অধিকাংশ স্থানে – আঘাত হানতে সক্ষম৷ উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ রকেটটি ব্যাপক উচ্চতা অবধি – সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী ২,৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে ও নামে; কাজেই এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের বাস্তবিক পাল্লা সম্পর্কে সঠিক করে কিছু বলা শক্ত৷

উত্তর কোরিয়া থেকে রকেট আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার কারণে জাপানের একাধিক পৌর এলাকায় জনসাধারণকে সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নেবার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ জাপানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইৎসুনোরি ওনোদেরা গত বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করেন; কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে গত মার্চ মাসেই শাসকদলের কিছু সাংসদ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রতি ‘‘শত্রুর ঘাঁটি আক্রমণ করার ক্ষমতা'' সংগ্রেহর কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷

বস্তুত এই সাংসদরা জাপানের অনাক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতির আমূল পরিবর্তন দাবি করছেন, যে নীতি জাপানের দ্বিতীয় যুদ্ধ পরবর্তী শান্তিবাদী সংবিধানে নির্দিষ্ট আছে৷ বর্তমান সরকার সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সংবিধানের বিভিন্ন সূত্রের রদবদল করেছেন ও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছেন৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও টোকিও এ পর্যন্ত অপর দেশে আঘাত হানার মতো পাল্লা সম্বলিত বোমারু বিমান বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কথা ভাবেনি৷

চীনের বর্ধিত সমরশক্তি

জাপানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হোয়াইট পেপারে এই এলাকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও উপস্থিতি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হয়েছে৷ ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস অবধি এক বছরে চীনা জঙ্গিবিমানের আবির্ভাবের দরুণ জাপানি জঙ্গিবিমানকে সবচেয়ে বেশিবার আকাশে উঠতে হয়েছে৷

‘‘এখন থেকে জাপান সাগরে (চীনের) নৌসেনামূলক গতিবিধি ও বিমানবাহিনী সংক্রান্ত গতিবিধি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে'', মন্তব্য করা হয় হোয়াইট পেপারটিতে৷

পূর্ব চীন সাগরে জাপানের নিয়ন্ত্রিত এক পর্যায় জনবসতিহীন দ্বীপকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের সম্পর্কে বহুদিন ধরে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে৷ জাপান এই দ্বীপগুলিকে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ বলে অভিহিত করে থাকে; চীনা ভাষায় দ্বীপগুলির নাম দিয়াওউ দ্বীপপুঞ্জ৷

এসি/ডিজি (এপি, রয়টার্স, এএফও)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়