1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

উত্তরের ভেনিস আমস্টারডাম

নেদারল্যান্ডস বলতে মনে পড়ে টিউলিপ ফুল, ‘চিজ' আর বাইসাইকেল – সেই সঙ্গে আমস্টারডাম নামের একটি ছোট্ট, খালে ঘেরা শহর, যা আন্তর্জাতিকতা ও বৈচিত্র্যে নিউ ইয়র্ককেও হারিয়ে দেয়৷

ভিডিও দেখুন 04:35

উত্তরের ভেনিস আমস্টারডাম

আমস্টারডামকে তার নানা খালের জন্য উত্তরের ভেনিস বলা হয়ে থাকে৷ নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর কিন্তু আরো একটি পরিচয় আছে: ইউরোপে আমস্টারডাম হলো সাইকেল-চালকদের রাজধানী৷ ২০০১ সালে আমস্টারডামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে বিশ্বের প্রথম সাইকেল পার্কিং ব্লক তৈরি হয়৷

শন কোডি নেদারল্যান্ডসের মানুষ৷ তাঁর কোম্পানির নাম হলো ‘জয় রাইড টুর্স'৷ কোম্পানির কাজ হলো টুরিস্টদের সাইকেলে চড়িয়ে আমস্টারডাম ঘুরিয়ে দেখানো৷ শন বলেন, ‘‘আমার কাছে আমস্টারডামের মজা শুধু এই সুন্দর শহরটাই নয়, তার বাসিন্দারাও বটে৷ সারা বিশ্ব থেকে মানুষজন এসেছেন আমস্টারডামে বাস করতে – জাতির হিসেব ধরলে আমস্টারডাম বিশ্বে পয়লা নম্বর, নিউ ইয়র্ককেও ছাড়িয়ে যায়৷ অথচ শহরটা ছোট, যা আমার খুবই ভালো লাগে৷ শহরের কেন্দ্রে লাখ আটেক মানুষের বাস, শহরতলিগুলো ধরলে তার দ্বিগুণ৷ কাজেই একটি আন্তর্জাতিক শহরের আবহটা পাওয়া যায়, আবার একটা ছোট, বাসযোগ্য, উপভোগ্য শহরও বটে৷''

ডামপ্লাৎস

অনেকক্ষেত্রেই শন কোডির সাইকেল টুর শুরু হয় আমস্টারডামের কেন্দ্রে ডামপ্লাৎস থেকে, যেখানে এই শহরের জন্ম বলা চলে: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে জেলেরা আমস্টেল নদীর তীরে বাসা বাঁধেন ও প্রথম ‘ডাম' অথবা বাঁধটি তৈরি করেন৷ ডামপ্লাৎসে সপ্তদশ শতাব্দীর একটি রাজপ্রাসাদও দেখতে পাওয়া যাবে৷ শন জানালেন, ‘‘গোড়ায় এটা রাজপ্রাসাদ ছিল না, এটা ছিল আমস্টারডামের মেয়রের অফিস৷ সেই কারণে প্রাসাদটা খুব জাঁকজমকপূর্ণ নয়, যদি ভার্সাই কিংবা উইন্ডসর ক্যাসলের সঙ্গে তুলনা করা যায়৷ কিন্তু আদতে এটা ছিল ইউরোপের বৃহত্তম সরকারি ভবন – ওলন্দাজ প্রজাতন্ত্রের শক্তিমত্তার প্রতীক৷''

সপ্তদশ শতাব্দীতে আমস্টারডাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়৷ সেই ‘সোনার শতাব্দীতে' শহরের বিখ্যাত ‘গ্রাখটেন' বা খালের নেটওয়ার্কটি গড়ে ওঠে৷ আমস্টারডামের প্রাচীন অংশকে চক্রাকারে ঘিরে রয়েছে ১৬৫টি খাল বা জলপথ, যেগুলি আজ ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অঙ্গ৷

ফানগখরেমব্রান্ট

আমস্টারডামে বহু সংগ্রহশালা আছে, তার মধ্যে একটি হল মিউজিয়ামসপ্লেন-এ ফান গখ মিউজিয়াম৷ এখানে এই প্রখ্যাত ওলন্দাজ চিত্রকরের আঁকা ২০০টির বেশি ছবি রাখা আছে৷ অথবা রাইক্স-মিউজিয়াম, যা কিনা নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সংগ্রহশালা৷ উদ্বোধন হয় ১৮৮৫ সালে, সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র মিউজিয়াম, যার ভিতর দিয়ে সাইকেলে চেপে যাওয়া যায়৷

এখানে ওলন্দাজ চিত্রকলার স্বর্ণযুগের শিল্পীদের কৃতি দেখতে পাওয়া যাবে, ভার্মিয়ার থেকে শুরু করে রেমব্রান্ট পর্যন্ত৷ শন জানালেন, ‘‘রাইক্স-মিউজিয়াম তৈরি হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি৷ নকশা করেছিলেন স্থপতি পিয়ের কয়পার্স৷ ট্রেনে করে আমস্টারডামে এলে দেখতে পাবেন যে, কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনটিও কয়পার্সের নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে৷ যে কারণে এই সাদৃশ্য৷''

আনা ফ্রাংক

প্রিন্সেনগ্রাখ্ট খালের ধারে আমস্টারডামের একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান হলো আনা ফ্রাংকের বাড়ি৷ প্রতিদিনই এখানে দর্শকদের লাইন পড়ে – ২০১৬ সালে এসেছিলেন প্রায় ১৩ লাখ দর্শক৷

সবাই চান আনা ফ্রাংকের ডায়েরির রচয়িতা সেই ইহুদি কিশোরীর আদি বাড়িটিকে দেখতে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৩ বছর বয়সের অ্যান তার পরিবারের সঙ্গে এই বাড়ির পিছনের অংশে লুকিয়ে ছিল, নাৎসিদের ভয়ে৷ ঘরগুলোয় কোনো আসবাব না থাকলেও, আনা ফ্রাংকের নিজস্ব কিছু স্মৃতিচিহ্ন রাখা আছে৷

বলুন 'চিজ'!

আমস্টারডামে সাইকেল টুরের এখানেই শেষ নয়৷ নেদারল্যান্ডস তাদের ‘চিজ'-এর জন্য বিখ্যাত, কাজেই শহরের কোনো না কোনো ‘চিজ'-এর দোকানে না থামলে কি চলে? ‘কাস-হাউস ট্রম্প' বা ‘ট্রম্পের চিজ হাউস'-এ খৌডা, এমেন্টালার ইত্যাদি নামকরা ওলন্দাজ ‘চিজ' পাওয়া যায়৷ স্টোর ম্যানেজার ড্যানি ব্রুভারের ভাষ্যে: ‘‘নেদারল্যান্ডসের মাটি খুব উর্বর, এখানে খুব ভালো ঘাস গজায়৷ তাই গরু পোষা ওলন্দাজদের পক্ষে একটা স্বাভাবিক পেশা৷ পোষা গরুরা প্রচুর দুধ দেয়, সেই দুধ থেকে ছানা তৈরি হয়৷'' আর ছানা থেকে চিজ – বোঝা আর শক্ত কি৷

শন কোডির সাইকেল টুর শেষ হয় আমস্টারডামের নিজস্ব ট্রেডমার্কে: সুবিশাল সব অক্ষরে লেখা আমস্টারডামের নাম, টুরিস্টরা যার ওপর চড়তে ভালোবাসেন৷

শ্যারন ব্যারকাল/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও