1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

উত্তরপ্রদেশে গোষ্ঠীদাঙ্গার ক্ষত শুকায়নি

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে সাম্প্রতিক গোষ্ঠীদাঙ্গা কবলিত বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি ক্রমশ থিতিয়ে আসছে৷ কিন্তু দগদগে ক্ষত এখনো শুকায়নি৷

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের গোষ্ঠীদাঙ্গা কবলিত এলাকা দল বেঁধে পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং তাঁর ছেলে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ দাঙ্গা পীড়িতদের সহানুভূতি জানাতে, সাহায্য দিতে৷ কী দেখলেন সেখানে? দাঙ্গা বিধ্বস্তদের প্রতিক্রিয়াই বা কী ?

প্রধানমন্ত্রী দেখলেন, স্বজন হারানোর দুঃখে কারোর চোখে জল, কারোর চোখে ক্ষোভের তপ্ত নিঃশ্বাস, কারো চোখে মুখে আঘাতে আতঙ্কে ভাবলেশহীন৷ সাম্প্রদায়িক হিংসা বিরোধী বিল আনার আশ্বাস দিলেন মুসলিম নেতাদের৷ রাজনৈতিক মেরুকরণের বিপদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক কোরে দিলেন তাঁরা৷ মুজফ্ফরনগরের গোষ্ঠীদাঙ্গা ঐসব এলাকার জনবিন্যাসে এবং রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে৷ মুসলিম নেতারা শাসকদল সমাজবাদী পার্টির মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এই বলে যে, তিনি এবং তাঁর প্রশাসন প্রথম দিকে যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে এই সহিংসতা এতটা গড়াতে পারতো না৷

Indien Armee Gewalt in Uttar Pradesh 08.09.2013

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কটাক্ষ করেছে৷ বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান বলেছেন, রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির প্রশাসন ভেঙে পড়েছে৷ কেন্দ্রের উচিত অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা৷ নাহলে এটা কেন্দ্রের কুম্ভীরাশ্রু৷ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘ধর্মীয় পর্যটন‘ বলে অভিহিত করে বিজেপি মুখপাত্র মনে করেন, এতে হিংসার ক্ষত মুছবে না৷ মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন জাঠ নেতা এবং কেন্দ্রীয় বেসামরিক পরিবহন মন্ত্রী অজিত সিং৷ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী একটু তৎপর হলে এই সহিংসতা শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তো না৷

মুখ্যমন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও৷ বলেছেন, রাজ্যের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে৷ উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে মেরুকরণের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বাম দলগুলির মনে করে, সেটা রুখতে সব ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির একজোট হওয়া জরুরি৷ বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক দলের হাত আছে৷ গ্রামে অশান্তি ছড়াতে বাইরে থেকে লোক এসেছিল৷ তবে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে৷ তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য৷ এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ এবার দেখা যাক ভোট বাক্সের লাভ লোকসানের খতিয়ানটা কী৷ সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে শাসকদল সমাজবাদী পার্টির৷ মুসলিম ভোট তাদের বাঁধা ছিল৷ সেটা যাবে অন্য ঝুলিতে৷ মুসলিম ভোট হারাবে রাষ্ট্রীয় লোকদল, যার নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জাঠনেতা অজিত সিং৷ সেই সুযোগে হিন্দু ভোট টানতে পারে বিজেপি৷

দাঙ্গা শুরু হয়েছিল গত ২৭শে অগাস্ট৷ এক সপ্তাহের মধ্যে কেড়ে নেয় ৪৭টি তাজা প্রাণ৷ আহত হয়েছে শতাধিক৷ ঘরছাড়া হয়েছে ৪০ হাজার পরিবার৷ আশ্রয় নিয়েছে তারা হয় ত্রাণশিবিরে নাহয় মাদ্রাসা ভবনে৷ কারফিউ শিথিল করা হয়েছে৷ সেনা সরানো হচ্ছে৷ তবু ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে ঘরছাড়ারা ভয়ে এবং আতঙ্কে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়