1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ঈদের বাজারে জাল টাকার আতঙ্ক

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের বাজারে ছাড়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট৷ এবার ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোটই বেশি৷ গোয়েন্দরা গত কয়েকদিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করলেও হাতে হাতে চলে যাওয়া জাল নোট শনাক্ত করা যাচ্ছে না৷

৫০০ বা ১,০০০ টাকার নোট, বিশেষ করে তা যদি হয় কড়কড়ে নতুন, তাহলে তো কথাই নেই৷ সন্দেহ আরো বেড়ে যায়৷ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই নোটগুলো নেড়েচেড়ে দেখেন৷ তুলে ধরেন সূর্যের দিকে অথবা আলোর দিকে মুখ করে৷ কতক্ষণ ঘষেও দেখেন৷ তাঁরা নিশ্চিত হতে চান যে নোটটি আসল না নকল৷ কারণ তাঁরা জানেন যে বাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি৷ চক্রের সদস্যরা যে কোনো সময় জাল টাকা চালান করে দিতে পারে৷ আর রাতে এই আতঙ্ক আরো বেশি৷

পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ এবং ব়্যাব গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার জাল নোট এবং জাল টাকা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে৷ গ্রের্তার করেছে এই চক্রের অন্তত ২৫ জন সদস্যকে৷ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল টাকার অধিকাংশই ৫০০ এবং ১,০০০ টাকার নোট৷ গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের ধারণা ঈদকে টার্গেট করে বাজারে কমপক্ষে ১০কোটি টাকার জাল নোট ছাড়া হয়েছে এবং তা হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে৷

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, গ্রেপ্তার করার পর এখনো ১০/১২টি চক্র জাল টাকা নিয়ে সক্রিয় আছে৷ তিনি জানান, তিন ধাপে জাল টাকা বাজারে ছাড়া হয়৷ প্রথম ধাপে যারা জাল টাকা তৈরি করে, তারা পাইকারি হিসেবে জাল টাকা বিক্রি করে৷ অন্যদিকে, যারা পাইকারি হিসেবে জাল টাকা কেনে তারা আবার একটু বেশি দামে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে৷ এরপর তা সরাসরি কৌশলে হাতে হাতে ছড়ানো হয়৷

Bengalische Banknoten

জাল টাকা শনাক্ত করা যাচ্ছে না

গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান জানান, জাল টাকার আবার নানা ধরণ আছে৷ সাধারণ আর্ট পেপারে তৈরি ১ লাখ জাল টাকা ২৫,০০০ টাকায় বিক্রি হয়৷ আরো উন্নত খসখসে কাগজে তৈরি ১ লাখ জাল টাকা ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকায় বিক্রি হয়৷ আরেক ধরণের জাল টাকা আছে যাকে বলে ‘ওয়াশ নোট'৷ ১টি প্রকৃত ১০০ টাকার নোটকে কেমিক্যাল দিয়ে সাদা করে ৫০০ টাকার নোট তৈরি করা হয়৷ তাই প্রকৃত ১০০ টাকার নোটকে ৫০০ টাকা বানিয়ে ১ লাখ টাকা তৈরি করতে ২০০টি ১০০ টাকার আসল নোটের প্রয়োজন হয়৷ তাতেই লেগে যায় ২০,০০০ টাকা৷ তাই এক লাখ টাকার জাল ‘ওয়াশ নোট' বিক্রি হয় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকায়৷

তিনি জানান, এক বছর আগে তারা যাদের গ্রেপ্তার করেছিলেন অভিযান চালাতে গিয়ে দেখেন যে তারাই আবার জাল টাকা বানাচ্ছে৷ এটা কিভাবে সম্ভব? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের কাউকেই ছয় মাসের বেশি কারাগারে থাকতে হয়নি৷ জামিনে বেড়িয়ে এসেছিল তারা৷

এদিকে ব়্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্ণেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, তারা নজরদারি বাড়িয়েছেন৷ তাদের কাছে জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র আছে৷ বিভিন্ন মার্কেট এবং শপিং মলে তারা এই যন্ত্র দিয়ে মাঝে মাঝেই দৈবচয়নের ভিত্তিতে টাকা পরীক্ষা করেন৷ এর উদ্দেশ্য হলো জাল টাকার চক্রকে চাপে রাখা৷

ওদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই জাল নোটের ছড়াছড়ির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শপিং মল এবং দোকানে জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এক বছর আগে৷ কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি৷ শপিং মল এবং দোকানগুলো এ ব্যাপারে এখনও গা করছে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন