1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইয়েমেনে আল কায়দার প্রভাব বাড়ছে

সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অনেক ঘটনার সঙ্গেই ইয়েমেনের নাম বার বার জড়িয়ে পড়ছে৷ দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার পাশাপাশি সেখানে আল কায়দার বেড়ে চলা তৎপরতা আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

default

ইয়েমেন আল কায়দার ঘাঁটি হিসেবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে

গত সপ্তাহান্তে শোনা গিয়েছিল, যে সৌদি সীমান্তে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে শিয়া বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ কিন্তু বিদ্রোহী নেতা আবদুল মালিক আল হুতি অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে রাজি হওয়া সত্ত্বেও সরকারের পূর্বশর্ত ছিল – যতদিন না বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তৎপরতা বন্ধ করে, ততদিন কোন যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়৷

Jemen, Armee, Kämpfe

দেশের উত্তরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতা

অভ্যন্তরীণ সমস্যা

গত প্রায় ৬ বছর ধরে ইয়েমেনের নিরাপত্তা বাহিনী উত্তরে শিয়া জাইদি সম্প্রদায়ের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে৷ বার বার অস্ত্রবিরতির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংঘর্ষ থামে নি৷ সৌদি ভূখণ্ডে একাধিক হামলার ফলে সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্রোহীদের উপর হামলা শুরু করেছে বলে শোনা যাচ্ছে৷ ইরানও এই সঙ্কটে জড়িয়ে পড়েছে৷ তেহেরান থেকে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রচারণা সহ বিভিন্ন রকম সাহায্য পাচ্ছে শিয়া বিদ্রোহীরা৷

উত্তরের এই সংঘর্ষই ইয়েমেনের একমাত্র সমস্যা নয়৷ দক্ষিণেও মাথা চাড়া দিচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন৷ ১৯৯১ সালে পুনরেকত্রিকরণের আগে সেখানে এক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল৷ এখন তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে৷ ফলে আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার দাবি তুলছে কিছু গোষ্ঠী৷

Saudi-Arabien Kampf gegen jemenitische Rebellen

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলছে সৌদি সামরিক অভিযান

আল কায়দার ক্ষমতাবৃদ্ধি

ইয়েমেনের এই দুই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের পাশাপাশি যে সমস্যা আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে, তা হল সেদেশে আল কায়দার বেড়ে চলা শক্তি৷ ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল সৌদি আরব ও ইয়েমেনের নাগরিক৷ সন্ত্রাসীরা দেশে ফিরে এসেও যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়ে সমাজে মিশে যাচ্ছে৷ বেশ কয়েক বছর ধরেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যে আল কায়দা ইয়েমেনকে ঘাঁটি হিসেবে শক্তিশালী করে তুলছে৷ মার্কিন ও পশ্চিমা স্থাপনার উপর হামলা বেড়ে চলেছে৷ সম্প্রতি আমেরিকায় যে সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িত নাইজেরিয়ার আততায়ীও ইয়েমেনে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল৷

Symbolbild USA Terrorismusbekämpfung im Jemen

প্রকাশ্যে না হলেও ইয়েমেনে মার্কিন তৎপরতা বাড়ছে

সরকারের বিড়ম্বনা

ইয়েমেনের সরকার অত্যন্ত দুর্বল – অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ'র পক্ষে আমেরিকার সঙ্গে বেশী ঘনিষ্ঠতার পথে যাওয়াও কঠিন৷ প্রকাশ্যে না হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী ইয়েমেনের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে এবং আল কায়দার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানেও জড়িত রয়েছে৷ মনে রাখতে হবে, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও আল কায়দা ইয়েমেন, সৌদি আরব সহ গোটা অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে৷ ইয়েমেনের অদূরে সোমালিয়াও আল কায়দায় ঘাঁটি বলে পরিচিত৷

ইয়েমেন ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে যা ঘটে চলেছে, তা পাকিস্তানে দীর্ঘদিন আগেই বাস্তবে পরিণত হয়েছে৷ আফগানিস্তানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালেবান বিদ্রোহীদের ক্ষমতাকেন্দ্র আজ পাকিস্তানে ফিরে গেছে৷ সেখানেই তাদের জন্ম হয়েছিল, সেখান থেকেই তারা আবার আফগানিস্তানে ক্ষমতা কব্জা করার স্বপ্ন দেখছে৷ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে যাবতীয় মার্কিন প্রচেষ্টা এখনো পর্যন্ত বিফল হয়েছে৷ সন্ত্রাসবাদীদের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সোমালিয়া বা ইয়েমেন – কোথাও কার্যকর হয় নি৷

প্রতিবেদন: পেটার ফিলিপ, ভাষান্তর: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়