1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

‘ইয়েতি সম্ভবত ছিল সাদা ভালুক’

এরপর যদি শোনেন, হিমালয় ছিল উত্তর মেরুতে, তাহলে কিন্তু নাক কোঁচকাবেন না! ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে: ইয়েতি, বিগ ফুট, আলমস্তি অথবা ওরাং পেন্ডেক-এর মতো কিংবদন্তির প্রাণীরা আসলে কী ছিল৷

default

এটি সম্ভবত ইয়েতির একটি পায়ের ছাপ৷ পর্বতারোহী এরিক শিপটন ১৯৫১ সালে এই ছবিটি তুলেছিলেন৷

জরিপটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইজারল্যান্ডের লোসান-এ প্রাণিবিজ্ঞান সংগ্রহশালার একটি যৌথ উদ্যোগ৷ ২০১২ সালের মে মাসে অক্সফোর্ডে জেনেটিক্সের প্রফেসর ব্রায়ান সাইক্স-এর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল বিভিন্ন মিউজিয়াম ও একক সংগ্রাহকদের প্রতি আবেদন জানান, তাদের কাছে সংরক্ষিত ‘‘ইয়েতির লোম''-এর নমুনা পাঠাতে৷

বিজ্ঞানীরা অবশ্য ইয়েতি না বলে ‘‘অ্যানোমেলাস প্রাইমেট'' বলবেন, অর্থাৎ স্তন্যপায়ী জীবদের সর্বোচ্চ শ্রেণির যাবতীয় নিয়মবহির্ভূত বা ব্যতিক্রমী সদস্য – এক কথায় হিমালয়ের ইয়েতি, উত্তর অ্যামেরিকার বিগ ফুট, মধ্য এশিয়ার অলীক মানব আলমস্তি, কিংবা সুমাত্রা দ্বীপের পাহাড়-জঙ্গলের দু'পেয়ে হোমিনিড ওরাং পেন্ডেক৷ এরা সবাই কিংবদন্তির জীব, কিন্তু মাঝেমধ্যে মানুষজনকে দেখা দিয়ে থাকেন, হয় বাস্তবে, নয়তো কল্পনায়৷

মানবজাতির বিবর্তনের পথে নেয়ান্ডারটাল থেকে শুরু করে অনেক অধস্তন শাখা-প্রশাখা প্রাগৈতিহাসিক ছায়াপথে হারিয়ে গিয়েছে৷ এমনকি গিগান্টোপিথেকাস নামের এক অতিকায় বানরের নামও শোনা যায়৷ ইয়েতি সেই গোছের কিছু হবে বলে এতোদিন ধরে নেওয়া হতো৷ কিন্তু এবার পরীক্ষাগারে ইয়েতির লোম, রোম, চুল বা রোঁয়ার ৩০টি নমুনার জিন সিকোয়েন্সিং করে দেখা গেছে - নাঃ, সে কাহিনি শুনলে ‘‘ক্রিপ্টোজুওলজি'' অর্থাৎ ‘‘গুপ্ত প্রাণিবিদ্যা''-য় বিশ্বাসীরা হয়তো আঘাত পাবেন৷

তা সত্ত্বেও বলছি: না, না, ইয়েতি-ফিয়েতি সব ফাঁকি নয়৷ ঐ যে বললাম না, ইয়েতি না থাকলেও, ফিয়েতি তো রইলই৷ তবে ফিয়েতি-ও – কী বলব – আসলে একটা ভালুক, তবে শ্বেতভল্লুক বা তার কোনো উত্তরসুরি, ভারতের লাদাখ এবং ভুটান থেকে পাঠানো ইয়েতির চুলের নমুনায় ঠিক সেই ডিএনএ-ই পাওয়া গিয়েছে৷ সব মিলিয়ে, হিমালয়ের চূড়ায় উত্তরমেরুর জীব, সেটাই বা কম কিসের? ইয়েতির রোমের যে তিনটি নমুনা পাঠানো হয়েছে গবেষকদের কাছে, তার মধ্যে একটি নমুনা নাকি বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী রাইনহোল্ড মেসনার'এর তাঁবে ছিল৷

অপরদিকে আলমস্তির যে আটটি নমুনা পাঠানো হয়েছে, সেগুলি ব্রাউন বেয়ার গোত্রীয় ভালুক ছাড়া গরু, ঘোড়া এবং রাকুন নামধারী জীবটির৷ ওরাং পেন্ডেক-এর যে একটিমাত্র নমুনা পাঠানো হয়েছিল: সেটি ছিল মালয়েশিয়ার টাপির নামধারী প্রাণিটির৷ মার্কিন মুলুক থেকে স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি নমুনা এসেছিল তাদের বিখ্যাত ‘বিগ ফুট'-এর৷ সেগুলোর মধ্যে ভালুক থেকে শুরু করে শজারু, এমনকি এক শ্বেতাঙ্গ মানবের ‘রোঁয়া'-ও পাওয়া গিয়েছে!

এসি/এসবি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন