1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির দোজখের গহ্বর'

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইয়ারমুক শরণার্থী শিবিরের একটা বড় অংশ আইএস-এর দখলে৷ এভাবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী সিরিয়ার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে৷ জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার মুখপাত্র ডয়চে ভেলে-কে পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন৷

ডয়চে ভেলে: তথাকথিত ইসলামিক স্টেট ও আল নুসরা ফ্রন্ট সিরিয়ার বাকি অংশে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে৷ অথচ গত বৃহস্পতিবার তাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও এই দুই গোষ্ঠী আবার দামেস্কের দক্ষিণে ইয়ারমুক এলাকার একটা বড় অংশ দখল করে নিয়েছে৷ এই এলাকায় মূলত ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা বসবাস করেন৷ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সেনাবাহিনী সহ আরও গোষ্ঠী ইয়ারমুক দখলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে৷ সেখানকার পরিস্থিতি কী রকম?

ক্রিস্টোফার গিনেস: এক মানবিক সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলতে পারি, বেসমারিক জনগণ এই ভয়ংকর সংকটের মাঝে আটকা পড়েছে৷ প্রায় ১৮,০০০ মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু সেখানে রয়েছে৷ ক্যাম্পের মধ্যে পরিস্থিতি মিনিটে-মিনিটে বদলে যাচ্ছে, অর্থাৎ ক্ষমতার ভারসাম্য এক থাকছে না৷ সেখানকার মানুষের জীবন আজ বিপন্ন৷ ভাঙা ঘরবাড়ির মধ্যে তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে, আতঙ্কে বাইরে যেতে পারছে না৷ সে কারণেই আমরা অস্ত্রবিরতির দাবি জানাচ্ছি, যাতে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার মতো সংগঠন সেখানে মানবিক সাহায্য পাঠাতে পারে৷ বিবাদমান গোষ্ঠীগুলিকে চূড়ান্ত সংযম দেখাতে হবে, যাতে যে সব মানুষ সেখান থেকে চলে যেতে চায়, তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়৷ আমার আশা, তারপর আরও পদক্ষেপ নিয়ে ইয়ারমুকের উপর অবরোধ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে৷

ডয়চে ভেলে: ইয়ারমুকের প্রতি গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শেষ পর্যন্ত আইএস-এর হামলা ও ক্ষুধায় জর্জরিত মুমূর্ষু মানুষের প্রয়োজন পড়লো কেন?

ক্রিস্টোফার গিনেস: আমার মনে হয়, ইয়ারমুক বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে৷ প্রশ্ন হলো, সেই আগ্রহ কি রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্ম দেবে? কারণ আমরা অনেক কাল ধরে বলে আসছি, যে শুধু মানবিক পদক্ষেপের সময় পেরিয়ে গেছে৷ এখন বড় শক্তিধর দেশগুলিকে বিবাদমান গোষ্ঠীগুলির উপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে হবে৷ প্রথমত, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপোশ চলবে না৷ বর্তমানে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ দ্বিতীয়ত মানবিক সাহায্য সরবরাহের সুযোগ দিতে হবে৷ গত সপ্তাহে সংঘর্ষের কারণে আমাদের ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ অথচ সেখানে গিয়ে আমাদের খাদ্য, পানীয় ও ওষুধ সরবরাহ করতে হবে৷ মানুষের অন্যান্য প্রয়োজনও মেটাতে হবে৷ তাছাড়া ক্যাম্পের পরিস্থিতিও স্থিতিশীল করতে হবে এবং চরম অমানবিক অবস্থা দূর করতে হবে৷ মানুষ যাতে এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে তা নিশ্চিত করতে হবে৷

ডয়চে ভেলে: যুদ্ধ শুরু হবার পর বেশ কয়েক বছর ধরে ইয়ারমুক-এর পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন রয়েছে৷ সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে?

ক্রিস্টোফার গিনেস: পরিস্থিতির সত্যি অবনতি ঘটেছে৷ ইয়ারমুক এমন এক জায়গা, যেখানে ওষুধের অভাবে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু ঘটেছে৷ পরিস্থিতি সত্যি আগেই খারাপ ছিল৷ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিবিরের মূল পানি সরবরাহের প্রণালী ধ্বংস হয়ে গেছে৷ তাই মানুষ জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার সরবরাহের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল৷ পরিস্থিতি মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছিলো৷ সত্যি বলতে কি ইয়ারমুক নরক বা দোজখের গহ্বর হয়ে উঠেছে৷ বর্তমানে যে জোরালো সংঘর্ষ চলছে, তার ফলে পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি ঘটেছে৷

ডয়চে ভেলে: আপনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সমাজকে পদক্ষেপ নিতে হবে৷ আন্তর্জাতিক সমাজ কী করতে পারে?

ক্রিস্টোফার গিনেস: আমাদের আশা, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিলিত হবে এবং সব পক্ষের উপর তারা চাপ সৃষ্টি করবে৷ এবং সত্যি বাছবিচার না করে সব পক্ষের উপর চাপ দিতে হবে৷ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে৷ শক্তিধর দেশগুলি জানে তারা কারা এবং কী করতে হবে৷ আমাদের আশা, সবার আগে অর্থবহ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে৷ তখন অস্ত্রবিরতি, নিরীহ মানুষের পালানোর সুযোগ, মানবিক সাহায্য সরবরাহ সম্ভব হবে৷ তারপর ইয়ারমুকের উপর অবরোধ তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে অর্থবহ পদক্ষেপ সম্ভব হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়