1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান ‘‘ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা মেটাতে আমরা নেতা এবং প্রতিনিধি তৈরি করি৷’’ ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়৷

default

ছবির মত সুন্দর ব্রেমেন শহর

আন্তর্জাতিক মানের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে অসংখ্য বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি৷ ১৯৯৯ সালে জার্মান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনুমোদন দেয়৷ ২০০১ সালে জার্মানির বিভিন্ন বৃত্তি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়টিকে স্বীকৃতি দেয় অর্থাৎ ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেনে পড়ুয়া বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী হয়৷

ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ার কারণে ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেনে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র বারশো৷ এবং এই বারশো ছাত্র-ছাত্রী এসেছে পৃথিবীর ৯৮টি দেশ থেকে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৩টি ফ্যাকাল্টি৷ অধ্যাপনা করছেন ১১৭ জন প্রফেসর৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে অধ্যাপকদের প্রতিনিয়ত সাহায্য করে যাচ্ছে প্রায় দু'শো জন গবেষক৷ এছাড়া, ঊনিশটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ১৯টি বিষয় নিয়ে গ্র্যাজুয়েট করার সুযোগ দিচ্ছে ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন৷

Stadt BRD Bremen Bremer Stadtmusikanten Denkmal statue Bremer Stadtmusikanten

ব্রেমেন শহরের বিখ্যাত সেই প্রতীক

পিএইচডি করা যাচ্ছে বিজ্ঞান, মানবিক এবং সমাজ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে৷ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কাজ করছে ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন৷ এর মধ্যে রয়েছে রাইস ইউনিভার্সিটি, ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি, থামাসাট ইউনিভার্সিটি এবং লাফায়েট কলেজ৷

ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন এর ২০০৮ সালের বাসরিক বাজেট ছিল ১৯৭ মিলিয়ন ইউরো৷ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেনের টিউশন ফি বেশি কিন্তু বিদেশি প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়ার জন্য রয়েছে একটি স্টুডেন্ট সার্ভিস সেন্টার৷

এই স্টুডেন্ট সার্ভিস সেন্টার থেকে পড়াশোনা, থাকার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়৷

বাংলাদেশি ছাত্র রাহুল দেওয়ান

বাংলাদেশের ছাত্র রাহল দেওয়ান ইয়াকব ইউনিভার্সিটি ব্রেমেনে মাস্টার্স শেষ করে পিএইচ ডি করছেন৷ পড়াশোনা সম্পর্কে তিনি বললেন, ‘‘জার্মানিতে আছি গত আট বছর হয়ে গেল৷ আমি এইচএসসির পরে ২০০৩ সালে ব্যাচেলর করার জন্য ব্রেমেন এলাম৷ এখান থেকেই আমি প্রথমে ব্যাচেলর, এরপর মাস্টার্স করি৷ এখন পিএইচডি করছি৷''

Galerie Bundesländer Bremen Rathaus UNESCO

ব্রেমেন-এর ‘রাটহাউস’ বা ‘টাউনহল’

বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী কেমন ? দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্র-ছাত্রীই বা কতজন? রাহুল বললেন, ‘‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে নাম ছিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ব্রেমেন৷ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশ৷ তবে ভারতীয় বা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী অনেক কম কিন্তু নেপাল থেকে গত তিন চার বছর ধরে অনেক বেশি ছাত্র-ছাত্রী আসছে৷ বাংলাদেশ থেকে খুব কম, হাতে গোনা কয়েকজন৷ আমরা সব মিলে রয়েছি মাত্র পাঁচ-ছয় জন৷ একই অবস্থা ভারতীয়দের বেলায়৷ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট হয়তো অনেক আছে তবে ব্যাচেলর স্টুডেন্ট মাত্র দশ বার জন হবে হয়তো৷''

পিএইচডি শেষ করে কোথায় কাজ করতে চান? ইচ্ছে কোথায় কাজ করার? এই প্রশ্নের জবাবে রাহুল জানালেন, ‘‘আমি পিএইচ ডি করছি সোলার সেলের ওপর, রিনিউয়েবেল এনার্জির ওপর৷ এবং ভবিষ্যতে ইচ্ছে বলতে গেলে - এ বিষয় নিয়েই কাজ করতে চাই৷ সোলার সেল নিয়েই নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই - যদি কোথাও রিসার্চ বা গবেষণার কাজ পেয়ে যাই সেটা করার ইচ্ছে আছে৷ আমাদের দেশেও এখন রিনিউয়েবেল এনার্জি নিয়ে কাজ হচ্ছে, উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ তাই এ বিষয় নিয়েই ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই৷ অন্তত আগামী দশ-পনের বছর তো বটেই৷''

বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী যারা জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্য কিছু পরামর্শ দিলেন রাহুল দেওয়ান, ‘‘জার্মানিতে এখন মাস্টার্স, পিএইচ ডি - অর্থাৎ উচ্চতর পড়াশোনা সবকিছুই ইংরেজি ভাষায় করা সক্ষম৷ বিশেষ করে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়, প্রকৌশলী সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইংরেজিতে পড়া যায়৷ আমার মনে জার্মানিতে পড়াশোনা করা খুব ভাল একটা বিকল্প৷ আমি বিশ্বাস করি সবাই অন্তত চেষ্টা করে দেখবে৷ ''

প্রতিবেদন : মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা : আব্দুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়