1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে মন্ত্রীদের ভিন্ন মন্তব্য

‘ইসলামী ব্যাংকের টাকায় জাতীয় সংগীতের কর্মসূচি হতে পারে না'৷ তাই সে অর্থ ফেরত দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী৷ কিন্তু ‘যুদ্ধাপরাধীদের' প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেয়া হয়নি বলেই দাবি সংস্কৃতিমন্ত্রীর৷

উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷ মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাওয়া জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের অনুদান ফেরত দেয়া উচিত৷ একইদিনে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান নূর দাবি করেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার কর্মসূচির জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে কোনো টাকা বা অনুদান নেয়া হয়নি৷

জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠান ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য গত ১৪ই মার্চ গণভবনে বিভিন্ন টেলিকম প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংক এবং বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চ কর্তৃক চিহ্নিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠান' ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার ওই অনুষ্ঠানে থাকার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও ব্লগে ব্যাপক সমালোচনা হয়৷

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকের টাকায় বাংলাদেশের এ বিশ্ব রেকর্ড গড়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন অনেকে৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে হাসিব লিখেছেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী অবস্থান জানালেও ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর৷''

এই ইস্যুতে মুনতাসির ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, ‘‘ছোটবেলায় ইসলামিয়াতে পড়েছিলাম – দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ৷ যদি তাই হয় তো ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখাও ঈমানের অঙ্গ৷ কেননা আপনি যদি লাখো মানুষের সাথে জাতীয় সংগীত না গান, তাহলে হয় আপনি রাজাকার নয়ত দেশদ্রোহী হতে পারেন৷ যদিও পোস্টার ছেপে জাতীয় সংগীত গেয়ে আমাদের সাময়িক দেশপ্রেম দেখার জন্য যে টাকা যে খরচ করা হচ্ছে, সেটা দিয়ে অনেক কিছুই করা যাইতে পারে বা পারতো৷ বঙ্গবন্ধু থাকলে হয়ত আক্ষেপ করে বলতেন – আমার গণজাগরণের মঞ্চখানা কই?''

আব্দুর রহমান মিল্টন লিখেছেন, ‘‘গত চারদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক ইস্যু নিয়ে সবাই এত হইচই করছে, অথচ চারদিন পর মন্ত্রীরা বিবৃতি দিলেন৷ তাই আবার একজন বলছেন, টাকা ফেরত দেয়া হোক, আর একজন বলছেন, টাকা নেয়াই হয়নি৷''

তিনি লিখেছেন, ‘‘উনারা আসলে কেউই কিছুই জানেন না কিংবা সব জেনেও বরাবরের মতো নাটক করছেন৷ যদি ইসলামী ব্যাংক এ সবের ভেতর নাই থাকে তাইলে এভাবে তাদের নাম আসে কীভাবে? বিশ্ব রেকর্ড গড়ার ক্ষেত্রে শত্রুরা এমন ‘প্রপাগান্ডা' দিয়ে নিশ্চয়ই স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে পরাভূত করতে পারবে না৷ আক্ষেপ করে লিখেছেন, এই দেশে নাটক দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম....অসীম নির্লজ্জ সব...!''

এদিকে, ১৬ মার্চ ১০০ কোটি টাকা 'চাঁদা' তুলার কথা স্বীকার করেছিলেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত৷ টি-২০ বিশ্বকাপ ও লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া উপলক্ষ্যে তার লক্ষ্যমাত্রা ১০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা বলে জানিয়েছিলেন তিনি৷

ছাড়াকার লুৎফর রহমান রিটন এই ইস্যু নিয়ে চমৎকার একটি ছড়া লিখেছেন...

টাকার কোনো দোষ থাকে না, টাকা হচ্ছে ‘মানি'

সকল কাজের কাজি টাকা সবাই সেটা জানি৷

ইন্টারেস্ট বা সুদ যা বলো সেইটা হলো হারাম

সুদের স্থলে ‘লাভ' যদি হয় তাহলে পাই আরাম৷

কোনো মহৎ ইভেন্ট জানি হয় না টাকা ছাড়া

টাকারা নয় আস্তিক বা নাস্তিক নাসারা...

‘জঙ্গি' কিংবা ‘ঘাতক' নামের সিল থাকে না টাকায়

স্যুটেড-বুটেড জঙ্গি-ঘাতক টাকার মেশিন থাকায়—

সই করে চেক সদলবলে দাঁত কেলিয়ে হাসে!

কিনতে আসে সার্টিফিকেট স্বাধীনতার মাসে!!

ইসলামি ব্যাংক দেশপ্রেমী ব্যাংক তার তুলনা নাই

ন্যাশনাল অ্যান্থমের তরে তিন কোটি তাই পাই!

আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা সোনার বাংলা গাই...

ছড়ার শেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘কেউ ভুলিনি ৩০ লক্ষ শহিদের ঋণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেকটা ফেরৎ দিন...৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন