‘ইসলামি স্টেট’ যেভাবে অনলাইনে জিহাদি জোগাড় করে | আলাপ | DW | 11.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

‘ইসলামি স্টেট’ যেভাবে অনলাইনে জিহাদি জোগাড় করে

তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’ অনলাইনে বেশ তৎপর৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জিহাদি নিয়োগে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করছে৷ আর এ কাজে তারা সফল যেমন হয়েছে, তেমনি ধরাও পড়েছে৷

অনলাইন তৎপরতার দিক থেকে অতীতের সব জঙ্গি গোষ্ঠীকেই হার মানিয়েছে ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস)'৷ আগে যেমন আল-কায়েদা বা তালেবানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো অফলাইনে জিহাদি নিয়োগের দিকে বেশি গুরুত্ব দিত, আইএস-এর গুরুত্ব বেশি অনলাইনের দিকে৷ যদিও অফলাইনে জঙ্গি গোষ্ঠীটির কার্যক্রম চালু রয়েছে, কিন্তু পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে জিহাদি বাছাইয়ে তাদের প্রথম পছন্দ অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো বলেই মনে হচ্ছে৷

জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মূলত দু'ভাবে অনলাইন থেকে জিহাদি নিয়োগ করে থাকে৷ প্রথম উপায় হচ্ছে, সম্ভাব্য জিহাদিকে খুঁজে বের করা এবং দিনের পর দিন তার পেছনে লেগে থাকা৷ এক্ষেত্রে শুরুর দিকে জঙ্গি তৎপরতায় অংশ নেওয়ার বদলে বিশ্বে তাদের চোখে মুসলমানদের ওপর আক্রমণের বিষয়গুলো নানাভাবে সামনে নিয়ে আসে জঙ্গি গোষ্ঠীর অনলাইন সদস্যরা৷ এভাবে ধীরে ধীরে সম্ভাব্য জিহাদির মনে মুসলমান হিসেবে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি জাগ্রত করা হয়৷ তাদের বিবেচনায় বিধর্মী কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরা হয়৷ এরপর উগ্রপন্থার দিকে নিয়ে যেতে চায় তাদের৷ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাজে প্রথাগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও নারী জিহাদি খুঁজে পেতে বিভিন্ন ডেটিং সাইটও ব্যবহার করে নিয়োগদাতা জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা৷

দ্বিতীয় পন্থাটি জিহাদিদের জন্য খানিকটা সহজ৷ জিহাদিদের অনলাইন প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক সময় অনেক তরুণ স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেই বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ফোরামে যোগ দেয় এবং জঙ্গি তৎপরতায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে৷ এরকম প্রার্থীদের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সঙ্গে সঙ্গে যে নিয়ে নেয় তা নিয়৷ বরং বিভিন্নভাবে যাচাইবাছাই করে সম্ভাব্য জিহাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়৷

আইএস কোনো জিহাদিকে দলে ভেড়ানোর আগে তার একটি ফাইল তৈরি করে যেখানে সেই ব্যক্তির বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টের ঠিকানা, অনলাইন কার্যক্রম, পারিবারিক এবং আর্থিক অবস্থা, সক্ষমতা, আচরণ – সব কিছুই লিপিবদ্ধ করা হয়৷ আর খানিকটা যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেলে স্কাইপের মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও চ্যাটে সাক্ষাৎকার নেয় জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷ ভিডিও চ্যাটের পর প্রথাগত ব্যবস্থার বাইরে এনক্রিপ্টেড বিভিন্ন ম্যাসেজিং সার্ভিস বা ই-মেল ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন জিহাদির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়৷

আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

এখানে বলে রাখা ভালো, আইএসকে প্রযুক্তি জ্ঞানে যতটা দক্ষ মনে করা হয়, ততটা আসলে তারা নয়৷ পশ্চিমা গোয়েন্দারা এবং এই বিষয়ের সাংবাদিকরা তাদের অনলাইন তৎপরতার দিকে ভালোই নজর রাখেন৷ অনেক সময় তাদের নেটওয়ার্কে গোয়েন্দারা প্রবেশ করে ঘাপটি মেরে থাকে তথ্য সংগ্রহের জন্য৷ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর কিংবা কোনো নেটওয়ার্ক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলে সেই নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালায় পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, যাকে বলা হয় ‘সাইবারবম্ব'৷ গোয়েন্দারা যে সবক্ষেত্রে সফল হন, তাও না৷ সেটা হলে প্যারিস, ব্রাসেলস বা বার্লিনে হামলা রোখা যেত৷ তবে এ রকম অসংখ্য হামলার পরিকল্পনা রোখার সাফল্য গোয়েন্দাদের রয়েছে৷

উদ্বেগের কথা হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আইএস-এর তৎপরতা রয়েছে৷ বাংলাদেশি কিছু জিহাদি সিরিয়া এবং ইরাকে আইএস-এর হয়ে লড়াই করছে৷ আর বাংলাদেশের মধ্যেও অনেকে একই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে যাদেরকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আখ্যা দিচ্ছে ‘নব্য জেএমবি' হিসেবে৷ এই জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের মতো বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনীরও ইন্টারনেট জ্ঞান বাড়াতে হবে, বিশেষ করে জিহাদিদের ‘ব্রেনওয়াশের' জন্য ব্যবহৃত অনলাইন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে৷ সেটা করা গেলে, কারো দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি ‘জঙ্গি' কিনা জিজ্ঞাসা করার চেয়ে আরো নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো সম্ভব হবে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়