1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ইসলামি বই বিক্রির সঙ্গে কেন রাজনৈতিক সংযোগ?

কাশেম বিন আবু বকরের বইয়ের পর ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’ বইটিও দৃষ্টি কেড়েছে গণমাধ্যমের৷ কোথাও কোথাও ‘ইসলামি বই’ বিক্রি বৃদ্ধির সঙ্গে রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্পর্ক খোঁজা হয়েছে৷ এমন সম্পর্ক কি আদৌ আছে? 

জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে আবদুল্লাহ আল ফারুক ও তাঁর স্ত্রী সাদিকা সুলতানা সাকী’র ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’ বইটি৷ এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে ৫ হাজার কপি৷ প্রকাশক মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানিয়েছেন, পাঠক চাহিদা মেটাতে হিমসিম খাচ্ছে তাঁর প্রকাশনী সংস্থা ‘মাকতাবাতুল আজহার’৷ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনের সাবেক বান্ধবী হিসেবে আলোচিত হ্যাপীর সাক্ষাৎকারনির্ভর বইটিতে হ্যাপী কিভাবে ধর্মের পথে ফিরেছেন সেই বিবরণ আছে৷ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে৷

অডিও শুনুন 02:09

‘শুধু ধর্মকে এখানে আমি সম্পৃক্ত করব না’

এর আগে একইভাবে কাশেম বিন আবু বকর নামের একজন লেখককে নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল একই সংবাদ সংস্থা৷ প্রতিবেদনে কাশেম বিন আবু বকরের ‘ফুটন্ত গোলাপ’ বইটিকে বেস্টসেলার এবং মাদ্রাসা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় বলে উল্লেখ করা হয়৷ সেই প্রতিবেদনের মতো হ্যাপীকে নিয়ে প্রকাশিত বইটি নিয়ে প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে রক্ষণশীলতা বাড়ছে উল্লেখ করে কিছুটা উদ্বেগের কথা জানানো হয়৷ সর্বশেষ প্রতিবেদনে তারা দাবি করে যে, গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশেইসলাম কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকছে৷ 

এ বিষয়ে বইটির সহ-লেখক আবদুল্লাহ আল ফারুকের সঙ্গে কথা হয়েছে ডয়চে ভেলের৷ ৫৭টি ইসলামি বইয়ের লেখক ও অনুবাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘‘শুধু ধর্মকে এখানে আমি সম্পৃক্ত করব না৷ একজন সেলিব্রেটির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং আমি যেটাকে ভালো মনে করি, সেদিকে সে ঝুঁকেছে৷ সেজন্যই আমার এ লেখা৷’’ তাহলে প্রশ্ন হলো, এ ধরনের বই প্রকাশিত হওয়া এবং তার বিক্রির সঙ্গে কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্পর্ক কোথায়? 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, এ ধরনের সম্পর্ক খুঁজতে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা চলে যেতে পারে৷ তাঁর মতে, এ সম্পর্ক খোঁজার দু’টো কারণ থাকতে পারে, এক, সাংবাদিকদের মধ্যে জনপ্রিয় বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির প্রবণতা৷

অডিও শুনুন 11:10

‘রক্ষণশীল পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা এসব বই পড়ায় তাঁদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটছে’

দুই, সারাবিশ্বে ইসলামকে যেভাবে রক্ষণশীলতা বা উগ্রবাদের ধারণায় পরিচিত করার চেষ্টা চলছে, তার প্রভাব পড়তে পারে এই প্রতিবেদনে৷ তবে ‘কন্সপিরেসি থিওরি’ ঢালাওভাবে তুলে ধরতে চান না তিনি৷ তিনি মনে করেন, সেই সিদ্ধান্তে আসতে হলে আরো গবেষণা দরকার৷ 

সেদিক থেকে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান মনে করেন, রাজনৈতিক ধর্মের ধারণা যতটা না মানুষের মধ্যে, তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেখা যায়৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমার অনুমান গণমাধ্যমে উদারপন্থিদের চাইতে রক্ষণশীল মানুষদের সংখ্যা কম তো নয়ই, বরং বেশি৷ তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে এই ধারাটিকে সামনে আনার চেষ্টা করছে৷’’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ইসলামি বইয়ের চাহিদা বাজারে সবসময়ই রয়েছে৷ বরং ঢাকার চেয়ে কলকাতার মুসলমানদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি৷ কিন্তু বাংলাদেশে এখনো মূল ধারার লেখকদের চাহিদা বেশি৷ 

এ বছর বইমেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কযেকটি বই৷ এছাড়া হুমায়ুন আহমেদ, আনিসুল হক, মুনতাসির মামুন, সাদাত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন এবং তরুণ লেখক দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বই প্রচুর বিক্রি হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:19

‘গণমাধ্যমে উদারপন্থিদের চাইতে রক্ষণশীল মানুষদের সংখ্যা কম তো নয়ই, বরং বেশি’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইও প্রচুর বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক৷ ইসলামি গ্রন্থ মেলাতেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়৷ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে একে অস্বাভাবিকভাবে দেখার চেষ্টা করার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ড. শামসুজ্জামান খান৷ 

গ্রামীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে কাশেম বিন আবু বকরের বইগুলোর জনপ্রিয়তাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন শান্তনু মজুমদার৷ তিনি বলেন, ‘‘রক্ষণশীল পরিবারগুলোতে যেখানে প্রেম ভালোবাসার কথা বলাই পাপ, সেখানে তাঁরা এ সব বই পড়ছেন৷ তাতে তাঁদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটছে৷’’

ড. শামসুজ্জামান খান ও শান্তনু মজুমদার মনে করেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদসহ উগ্র ইসলামপন্থার বিকাশ ঘটেছে৷ কিন্তু তার সঙ্গে কোনোভাবেই ইসলামি বই বেশি বিক্রি হওয়ার সম্পর্ক খোঁজার যৌক্তিক কারণ নেই৷ এছাড়া বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আফগানিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মতো কট্টরপন্থি হয়ে যাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার সময় আসেনি বলে মত তাঁদের৷ 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও