1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে ১০০ জন প্রশিক্ষক?

জার্মানি উত্তর ইরাকে সৈন্য পাঠানোর কথা ভাবছে, কিন্তু প্রশিক্ষক হিসেবে৷ তারা কুর্দদের আইএস বা আইসিস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করবেন৷ যা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নয়, বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের নাওমি কনরাড৷

দৃশ্যটি দেখার মতো: জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, দু'জনে দাঁড়িয়ে আছেন মুখ গম্ভীর করে, চারপাশে সাংবাদিকদের ডজন-ডজন ক্যামেরা৷ দুই রাজনীতিকের আবেগপূর্ণ বিবৃতির মর্ম হলো: জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর অকল্পনীয় বর্বরতার অবসান ঘটানো চাই; অবহেলা কোরো না, যারা বর্বরতা, বীভৎসতা আর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, তাদের সাহায্য করো৷ ইরাকে পেশমার্গা আইসিস বীভৎসতার বিরুদ্ধে লড়ছে এবং জার্মানি তাদের একা ফেলে রাখছে না – বললেন মন্ত্রীদ্বয়, আলোকচিত্রীরা তখন ভিডিও ক্যামেরার দঙ্গলকে পাশে হটিয়ে মন্ত্রীদের মুখের ভাবটি ছবিতে ধরে রাখার চেষ্টা করছে৷

তবে কি জার্মানি তার সর্বাধুনিক জঙ্গিজেটগুলো নিয়ে আইএস-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিমান হানায় সামিল হবে? না, জার্মানি শুধু উত্তর ইরাকে প্রশিক্ষক পাঠাবে৷ জার্মান সরকার গত বুধবার সকালে ঠিক এই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন৷ জার্মান সেনাবাহিনীর একশো জন অবধি প্রশিক্ষক উত্তর ইরাকের এরবিল-এ কুর্দ সেনাবাহিনীকে ট্রেনিং দেবেন৷ তাঁদের সনদ হবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার, যুদ্ধ করার নয়, বলেছেন স্টাইনমায়ার৷ এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি বদলালে যে কোনো সময় এই সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে – সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷ অর্থাৎ জার্মানি যে আইএস-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হানায় অংশ নেবে না, সে'টুকু স্পষ্ট৷

Kommentarfoto Naomi Conrad Hauptstadtstudio

নাওমি কনরাড

জার্মানি তার ‘যথাসাধ্য' করছে

জার্মান সংসদ প্রশিক্ষক অভিযানের অনুমোদন দেবে আগামী বছরে৷ তবে দুই মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বার্লিনের প্রেস ভবনের সুবিশাল ক্রিসমাস ট্রি-র পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের শান্তির বাণী শুনিয়েছেন: সিরিয়া এবং ইরাকে শান্তি আনয়নের জন্য জার্মানি যথাসাধ্য করছে৷ অবশ্য নিজে যুদ্ধ না করে৷ প্রথমে জার্মান অস্ত্রশস্ত্র এবং ত্রাণসাহায্য পাঠানো হয়েছে৷ এবার যাচ্ছেন প্রশিক্ষকরা৷

এটা কি প্রায় ব্যঙ্গ করার মতো নয়? ইরাক আর সিরিয়ায় জিহাদিরা যথেচ্ছ অভিয়ান চালাচ্ছে: অন্য ধর্মের মানুষ এবং বিদেশি সাংবাদিকদের হত্যা করছে; ইয়াজিদি নারীদের ধর্ষণ করছে এবং ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করছে; স্কুলে কি হাসপাতালে তাদের মতাদর্শ প্রচার করছে; অবিশ্বাস্য পাশবিকতার সঙ্গে তাদের বার্তা প্রচার করছে – সবই ইসলামের নামে, যদিও তারা সেই ধর্মমতের ভুল ব্যাখ্যা করে তাকে বিকৃত করছে৷

এক কথায়: সিরিয়া এবং ইরাকে একটি অমানুষিক, রক্তাক্ত শাসনব্যবস্থা জন্ম নিচ্ছে, যা শুধু নাইজেরিয়া, পাকিস্তান কিংবা মিশরেই নয়, ইউরোপ তথা অস্ট্রেলিয়াতেও হাজার হাজার সমর্থক পাচ্ছে৷ এবং তা থামানোর জন্য জার্মান সরকার একশো প্রশিক্ষক পাঠাচ্ছেন৷ জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক কয়েক মাস আগে যে নতুন দায়িত্বের কথা বলেছিলেন, সেই দায়িত্ব কি এতেই পালন করা হয়ে যাচ্ছে?

অসহায়তার বহির্প্রকাশ

আইএস বা আইসিস সম্পর্কে কী করা উচিত, এ প্রশ্নের কোনো সহজ জবাব নেই – যেমন সিরিয়া কিংবা ইরাকের জন্যে কোনো সহজ সামরিক কিংবা রাজনৈতিক সমাধান নেই৷ অন্তত আজ আর নেই, আগে যদি কখনও তা থেকে থাকে৷ আসাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিরোধীদের সাহায্য করার প্রশ্নে বহির্বিশ্ব বড় বেশি দোনামোনা করেছে৷ তার ফলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এবং ইসলামি জঙ্গিবাদ সেই শূন্যতায় বেড়ে উঠতে পেরেছে৷ বিমান হানা, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং এমন সব প্রশিক্ষক, যারা এই সব অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেবেন৷ সব সত্ত্বেও এই প্রশিক্ষক পাঠানোতে যেন কোথাও এক অসহায়তার ভাব রয়ে গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়