1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

‘ইসলামিক স্টেটে’ যোগ দিয়েছেন যেসব বাংলাদেশি

জঙ্গি গোষ্টি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ডাকে সাড়া দিয়ে সিরিয়া বা ইরাকে গেছেন, এমন বাংলাদেশিদের সংখ্যা কত? সিরিয়া-ইরাকের যুদ্ধে মারা গেছেন যে বাংলাদেশিরা, তাদের আসল পরিচয় কী? আইএস-এর ‘বাংলাদেশ ক্লাস্টারের’ সদস্যই বা কারা?

জনমনে অনেক আগ্রহ থাকলেও, এই প্রশ্নগুলি নিয়ে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় আলাপ-আলোচনা সচরাচর চোখেই পড়ে না৷ এখানে সঠিক তথ্যের অভাব যেমন আছে, তেমনি আছে জিহাদি সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভালো গবেষণার অভাব৷ আরও আছে সরকারি চোখ রাঙানি আর গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট৷ এর মাঝেই আমাদের উত্তরগুলি খুঁজে নিতে হবে৷

আইএস-এর তথাকথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জিহাদে যোগ দিতে সিরিয়া বা ইরাকে গেছেন এমন ‘হিজরতকারীর' সংখ্যা — বাংলাদেশি, দ্বৈত নাগরিক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সব মিলিয়ে — ৫০-এর কম হবে না৷ আইএস-এর বাইরে আল-কায়েদা সমর্থক গ্রুপগুলির জন্য লড়াই করতে গেছেন যারা, তাদের হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে৷

তথাকথিত খুরাসানের জিহাদে যোগ দিতে যারা আফগানিস্তানে গেছেন, তারা এই হিসেবের বাইরে৷ জিহাদি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাবলিক ডোমেইনে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, তা যাচাই-বাছাই করেই আমি এই সংখ্যাগুলি অনুমান করছি৷

এখানে মনে রাখা দরকার যে, টাকা-পয়সা খরচ করে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ বা সামর্থ্য আছে, এমন লোকজনই কিন্তু দেশের বাইরে হিজরতকারী হয়েছেন৷ খিলাফতে বিশ্বাস করেন, জিহাদ করতে চান কিন্তু বিদেশে হিজরত করতে পারেননি, এমন কয়েক হাজার আইএস-সমর্থক কিন্তু বাংলাদেশেই থেকে গেছেন৷ এদের অনেকেই দেশের ভিতরেই হিজরতকারী হয়েছেন — বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে আস্তানা পেতেছেন৷ এরাই যখন ব়্যাব-পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, তখন তাদের ‘নব্য জেএমবি' বা ‘তামিম-সারওয়ার গ্রুপ' নাম দিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়৷

সিরিয়া-ইরাকের যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি৷ এদের মধ্যে তিনজনকে ‘শহিদ,' ‘বীর' ইত্যাদি বিশেষণ লাগিয়ে আইএস-এর বিভিন্ন প্রোপাগান্ডায় উপস্থাপন করা হয়েছে৷

মার্চ মাসের মাঝামাঝি আইএস-এর ফুরাত মিডিয়া একটি ভিডিওটি প্রকাশ করে আবু মরিয়ম আল-বাঙ্গালী নামক এক জিহাদির বক্তব্যসহ৷ এই আবু মরিয়ম ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ইরাকের টিকরিট শহরের পাশে একটি আত্মঘাতী হামলায় জীবন বিসর্জন দেন৷ তার আসল নাম নিয়াজ মোর্শেদ রাজা৷ চট্টগ্রামের এক বিত্তশালী পরিবারের সন্তান, পড়ালেখা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে৷

নিয়াজ মোর্শেদের আগে আরেক জিহাদির নাম পাওয়া যায় আইএস-এর দাবিক ম্যাগাজিনে৷ আবু জান্দাল আল-বাঙ্গালী নামক এই জিহাদি সিরিয়ার আইন ঈসা শহরের পাশে এক যুদ্ধে মারা যান৷ তার মৃত্যুর কোনো তারিখ জানা যায়নি৷ আবু জান্দালের আসল নাম আশিকুর রহমান জিলানী৷ ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র এই জিলানী, পিলখানা বিদ্রোহের সময় নিহত কর্নেল মশিউর রহমানের ছেলে৷

মোর্শেদ আর জিলানীরও আগে আইএস-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা যান আবু দুজানা আল-বাঙ্গালী (অন্য অনেকেই এই কুনিয়া বা ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন)৷ এই আবু দুজানাই সম্ভবত আইএস-এর প্রথম বাংলাদেশি সদস্য৷ শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে লেবানন যাওয়ার পথে সন্দেহভাজন জিহাদি হিসেবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি৷ এরপর মসুল শহরের পাশে বাদোশ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় সহবন্দীদের কাছ থেকে আইএস-এর আদর্শের দীক্ষা নেন৷ এই আবু দুজানার কথা ফুরাত মিডিয়ার একটি বাংলা ভিডিওতে বলা হলেও তার আসল নাম, পরিচয় ইত্যাদি এখনও জানা যায়নি৷

Bangladesch Blogger Tasneem Khalil (privat)

তাসনিম খলিল, অনুসন্ধানী সাংবাদিক

‘শহীদ' বা ‘বীর' তকমা পাননি, কিন্তু আইএস-এর শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন আবু খালেদ আল-বাঙ্গালী৷ তার আসল নাম সাইফুল হক সুজন৷ আইএস-এর ‘বাংলাদেশ  ক্লাস্টারের' মূল নেতা এই আবু খালেদ আইএস-এর ‘টপ হ্যাকার' হিসেবেই কুখ্যাত ছিলেন৷ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার রাক্কা শহরে আইএস-এর সদরদপ্তরের পাশেই এক মার্কিন ড্রোন হামলায় মারা যান তিনি৷

তবে ‘বাংলাদেশ  ক্লাস্টারের' অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা কিন্তু বেঁচেই আছেন৷ এই ক্লাস্টারে আছেন সাজিত দেবনাথ ওরফে মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, এটিএম তাজউদ্দীন কাওসার, তাহমিদ রহমান শফিসহ অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি বা বাঙালি৷ এদের অনেকেই আইএস-এর ‘ইমনি' নামক সিক্রেট অপারেশন্স গ্রুপের সদস্য৷ এদেরই একজন বাংলাদেশে তথাকথিত খিলাফার সৈনিকদের আমীর আবু ইব্রাহীম আল-হানিফ৷ এক কুর্দিশ গোয়েন্দা সূত্রমতে রাক্কা শহর থেকে একটু দূরে তবকা বাঁধের পাশেই এক সময় আস্তানা ছিল এই বাংলাদেশ ক্লাস্টারের৷ সেখান থেকেই তারা বাংলাদেশে গুলশান হামলাসহ বিভিন্ন হামলা পরিচালনা করেছিলেন৷ বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আইএস-এর নামে যে হামলাগুলি হবে তার নির্দেশনাও কিন্তু আসবে এদের কাছ থেকেই৷

অর্থাৎ বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট নামক যে জিহাদি রাক্ষসটি ত্রাস ছড়াচ্ছে তার মাথাটি কিন্তু বাংলাদেশে নেই৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন মন্তব্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়