1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইসলামাবাদে অবৈধ বসতি উচ্ছেদের অভিযান

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মতো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য বস্তি৷ দরিদ্রদের বসতিগুলো ভাঙতে শুরু করেছে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ৷ তাই একদিকে নেমে আসছে স্বস্তি, অন্যদিকে আতঙ্ক৷

default

ইসলামাবাদে বস্তি

আতঙ্কটা গরিবদেরই৷ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ওপরও জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে৷ আশেপাশের গ্রামের মানুষ তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে কাজের আশায় ছুটে আসছেন রাজধানীতে৷ স্বল্প আয়ের মানুষ, ঘরভাড়া দেয়ার সামর্থ নেই, তাই কোনোমতে একটা ঘিঞ্জি ঘর তুলেই রাজধানীতে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা৷ বলা হয়ে থাকে, পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা নগরি ইসলামাবাদের বৈধ বাসিন্দাদের তাতে দুর্ভোগ বাড়ছে, শহরের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ-র কাজ দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে৷ এ কারণেই ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে বস্তি উচ্ছেদ অভিযান৷ রঞ্জনা বিবি আর মেহরাম খানের মতো অসংখ্য মানুষ দরিদ্র থেকে নিঃস্ব হচ্ছেন রাতারাতি৷

Islamabad Settlements - Islamabad Slums

আতঙ্কটা গরিবদেরই

নিজের ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথাই বলছিলেন রঞ্জনা বিবি৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রথমেই তিনি জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ হঠাৎ এমন পদক্ষেপ নেয়ায় তাঁরা এখন দিশেহারা, ‘‘হঠাৎ বুলডোজার দিয়ে আমার ঘরটা তুলে ছুড়ে ফেলা হলো৷ কেন এমন করা হলো? কী অপরাধ আমাদের? এ এলাকায় যাঁরা থাকেন, তাঁদের জন্যই তো আমরা খেটে মরি৷ তাঁদের ঘরে গিয়ে থালাবাসন, কাপড়চোপড় ধুই৷ কেউ যদি আমাদের একটু জমি দিয়ে বলতো, তোমরা এখানে ঘর করে থাকো, আমরা কখনোই তাহলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতাম না৷''

বস্তি উচ্ছেদ শুরু করার আগে বস্তিবাসীদের সরে যেতেও বলেনি সিডিএ৷ সিডিএ-র কর্মকর্তা সাঈদ মুস্তাফান কাজমি মনে করেন, আগাম সতর্কতা বার্তা পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই, নগর এবং নগরবাসীদের কল্যাণের জন্য আকস্মিকভাবে এমন অভিযান চালানো যেতেই পারে৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সবাইকে এ শহরে থাকার সুযোগ দিতে পারিনা৷ এখন সবাই ইসলামাবাদে আসতে চায়৷ কিন্তু বেআইনি কাজ তো বেআইনিই৷ অবৈধ বসবাসকারীদের নোটিস পাঠানোর কোনো দরকার নেই৷ অবৈধ বসতি তুলে দেয়া আমাদের দায়িত্ব৷''

অবস্থাপন্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করেন, যেখানে-সেখানে বস্তি গড়ে তুলে যেমন কাছের বৈধ বাসিন্দাদের উপকার করা হচ্ছে, তেমনি এলাকায় অপরাধের হার বেড়ে যাওয়া এবং পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন করে ক্ষতিও করা হচ্ছে৷ আসিফ দ্বীন তাই বস্তি উচ্ছেদের পক্ষে৷

তবে একদিনের অভিযানে ঘর ভেঙে দেয়া হলেও অনেকেই নতুন করে শুরু করেছেন অবৈধ বসতি নির্মাণের কাজ৷ ভেঙে যাওয়া ঘর পুনর্নিমাণের কাজে ব্যস্ত মেহরাম খান বললেন, ‘‘কোথায় যাবো? আমাদের তো এত টাকা নেই যে অন্য কোথাও গিয়ে ঘর ভাড়া করে থাকবো৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়