1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ইসলামও জার্মানির অংশ’

জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ তাঁর ভাষণে বলেন, একমাত্র সেই রাষ্ট্রেরই কোনো ভবিষ্যৎ রয়েছে, যা অন্যান্য সংস্কৃতি সম্পর্কে সহিষ্ণুতা দেখায়৷

default

জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ: একমাত্র সেই রাষ্ট্রেরই কোনো ভবিষ্যৎ রয়েছে, যা অন্যান্য সংস্কৃতি সম্পর্কে সহিষ্ণুতা দেখায়

সমাজে বিদেশিদের দায়-দায়িত্ব

ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ তাঁর কথা রেখেছেন৷ ৩০ মিনিটের ভাষণে জার্মানির ঐক্যের চেয়ে অনেক বেশি সময় তিনি ব্যয় করেছেন অভিবাসন এবং সমাজে বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরতে৷ এমন এক বিশেষ দিনে এমন এক বিষয় নিয়ে আলোচনা মোটেই সহজ ছিল না৷ কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জার্মানিতে যে বিতর্ক চলছে, তার প্রেক্ষাপটে এমনটা না করেও উপায় ছিল না৷ যে সব বিদেশি বা বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ

Mevlana Moschee in Berlin

বার্লিনের একটি মসজিদ

এদেশে থেকেও সমাজের মূল স্রোতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে প্রস্তুত নয়, তাদের প্রতি কেমন মনোভাব দেখানো উচিত? এই নিয়ে বিভিন্ন শিবিরে জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে৷ বিদেশিরা জার্মানিতে থেকেও জার্মান ভাষা শিখতে চায় না, দেশের সংবিধানের মূলমন্ত্র মানে না, শুধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে সামাজিক ভাতা আদায় করতেই ব্যস্ত – এমন সব অভিযোগ শোনা যাচ্ছে৷ প্রেসিডেন্ট ভুল্ফ'এর ভাষণে এই সব সমস্যার কথা উঠে এসেছে বটে, কিন্তু এর মূলে যে দীর্ঘকালের ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নীতি রয়েছে, তা নিয়ে তিনি কিছু বলেন নি৷

ইসলাম ধর্ম

ইসলাম প্রসঙ্গে অবশ্য তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তাকে সুদূরপ্রসারী বলা চলে৷ ভুল্ফ বলেন, খ্রীস্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম জার্মানির ইতিহাস ও বর্তমান যুগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু ইতিমধ্যে ইসলাম ধর্মও জার্মান সমাজের অংশ হয়ে পড়েছে৷ এর আগে দেশের রাজনৈতিক মহলের শীর্ষ স্তরে অন্য কেউ এত স্পষ্ট ভাষায় এই বাস্তব স্বীকার করেন নি৷

Türkisches Mädchen in München

অভিবাসিদের জার্মান ভাষা শিখতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ভুল্ফ

সমন্বয়ের মডেল

অন্য বেশ কিছু ত্রুটির কথাও খোদ প্রেসিডেন্টের ভাষণে উঠে এসেছে, যা প্রচলিত ধারণা হিসেবে চালু থাকলেও একজন শীর্ষ প্রতিনিধির কণ্ঠে কখনো শোনা যায় নি৷ বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ সমাজে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা না করে যে যার মতো শান্তিতে পরস্পরের পাশাপাশি বসবাস করবে – এমন স্বপ্নময় ধারণার কড়া সমালোচনা করেন ভুল্ফ৷ বিশেষ করে বামপন্থী দলের জন্য এই আক্রমণ মোটেই সুখকর নয়৷ অন্যদিকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জার্মানিকে অভিবাসনের গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন, যা তাঁর নিজের রক্ষণশীল শিবিরের একাংশ আজও মেনে নিতে পারে নি৷

প্রেসিডেন্টের ভাষণ থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি জগত কি তাঁর প্রস্তাবগুলি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করবে? যেমন গোটা পরিবারের জন্য জার্মান ভাষা শেখার পাঠক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ভুল্ফ৷ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আলী সকালে স্কুলে গিয়ে জার্মান ভাষা বলে তারপর বাড়ি ফিরে শুধু তুর্কি ভাষায়

Schweigeminute in den deutschen Schulen

জার্মান স্কুলগুলোতে ইসলাম ধর্ম পাঠক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট

কথা বললে লাভ হয় কি? কারণ আলীর মা তো জার্মান জানেন না৷ ভুল্ফ স্কুলে ইসলাম ধর্মের পাঠক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন৷ তবে সেটা হতে হবে জার্মান ভাষায়, শেখাবেন জার্মান শিক্ষকরা৷

জাতিগত পরিচয় – আজকের প্রেক্ষাপট

২০ বছর আগে দুই জার্মানির মানুষ সোচ্চার হয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা এক জাতি৷' প্রেসিডেন্ট ভুল্ফ সেই একই বার্তা আজকের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন৷ তাঁর মতে, জার্মানিতে যারা বসবাস করেন, তাঁদের সবার ক্ষেত্রেই এই বাণী প্রযোজ্য হওয়া উচিত৷

জার্মানির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত৷ তবে তাঁর বক্তব্যের ওজন রয়েছে বৈকি৷ এই পদের অস্তিত্বের ভিত্তিই হলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার করা৷ জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি সংক্রান্ত চলমান বিতর্ককে প্রভাবিত করলেন৷ তিনি হয়তো রাজনীতি জগতের জন্য নতুন এক দিশাও খুলে দিলেন৷

প্রতিবেদন: ফল্কার ভাগেনার

অনুবাদ: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

সংশ্লিষ্ট বিষয়